নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হাওড়ায় আসন্ন পুরভোটে বিজেপির প্রার্থী হতে চেয়ে নেতৃত্বের কাছে সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে উত্তর হাওড়ার অবাঙালি অধ্যুষিত ওয়ার্ডগুলি থেকে। কোনো কোনো ওয়ার্ডে টিকিটের দাবিদারের সংখ্যা ১৫ থেকে ২০। সব মিলিয়ে ৬৮টি ওয়ার্ডের জন্য প্রায় ৫০০ আবেদন জমা পড়েছে বলে বিজেপি সূত্রে খবর। তবে আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হলেও প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দলের পুরানো নেতা-কর্মীদের অগ্রাধিকার দিতে চাইছে দলের হাওড়া জেলা নেতৃত্ব। পাশাপাশি দল পালটানো প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলারদের প্রার্থী করার পক্ষপাতী নয় বিজেপির পুরানো নেতৃত্বের সিংহভাগ।
সোমবার ছিল প্রার্থী হওয়ার আবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিন। আবেদনগুলি খতিয়ে দেখে এবার প্রার্থী বাছাইয়ের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে বিজেপি। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর হাওড়ার অবাঙালি অধ্যুষিত ওয়ার্ডগুলিতে যেখানে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ সবচেয়ে বেশি, সেখানে একেকটিতে প্রায় ২০ জন প্রার্থী হওয়ার দাবি জানিয়েছেন। আবার, শহরে যে সব ওয়ার্ডে বাংলা ভাষাভাষীর সংখ্যা বেশি, সেখানে প্রতি ওয়ার্ডে পাঁচ থেকে ছ’টি করে আবেদন জমা পড়েছে। অন্যদিকে, মহিলা সংরক্ষিত ওয়ার্ডগুলিতে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ তুলনায় কম। সেখানে প্রতি ওয়ার্ডে দুই থেকে তিনটি করে আবেদন জমা পড়েছে। তবে শুধু আবেদনের সংখ্যা দেখে প্রার্থী বাছাই করতে নারাজ জেলা নেতৃত্ব। নেতৃত্বের দাবি, দলের পুরানো নেতা-কর্মীদের মধ্যে থেকেই প্রার্থী বেছে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই লক্ষ্যেই হাওড়া পুরসভার ১৩টি মণ্ডলের সভাপতিদের নিয়ে দফায় দফায় সাংগঠনিক বৈঠক করছে বিজেপি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পুরভোটে দলের সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকা সাংসদ রাহুল সিনহা। তাঁর বক্তব্য, যাঁরা বিজেপি করেন এবং যাঁদের জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, তাঁদেরই টিকিট দেওয়ার কথা ভাবছে দল। এর বাইরে কাউকে প্রার্থী করার পরিকল্পনা নেই।
জেলা বিজেপি সূত্রে খবর, প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে দলের হয়ে কাজ করছেন এবং এলাকার মানুষের সঙ্গে যাঁদের নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে, তাঁদের নাম বিবেচনা করতে বলা হয়েছে মণ্ডল সভাপতিদের। স্থানীয় নেতা-কর্মীরাই আলোচনা করে ওয়ার্ডভিত্তিক প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করে রাজ্য নেতৃত্বের কাছে পাঠাবেন। রাজ্য নেতৃত্ব সেই তালিকায় সিলমোহর দেবে। প্রার্থী বাছাইয়ের এই প্রক্রিয়া আগামী বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার চলবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। অর্থাৎ, আবেদনকারীদের মধ্যে থেকে শেষ পর্যন্ত কাদের প্রার্থী করা হবে, তা ঠিক করতে স্থানীয় সংগঠনের মতামতকেই বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাইছে হাওড়া জেলা বিজেপি।


