সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: কাউকে বলা হয়েছিল, গড়চুমুক পর্যটন কেন্দ্রে ঘুরতে যাওয়া হবে, সেখানে মিনি চিড়িয়াখানা আছে। আবার কাউকে বলা হয়েছিল ২১ জুলাই শহিদ দিবস, তারই সমর্থনে মিছিল হবে গড়চুমুকে। সেকথা শুনে হাওড়া থেকে গড়চুমুকে এসে যে এমন বিপদে পড়তে হবে, টের পায়নি কেউ। উল্টে অপহরণের অভিযোগে জেলে রাত কাটাতে হচ্ছে সেইসব লোকজনকে। অপহরণ কাণ্ডে বাড়ির লোকজনের নাম জড়িয়েছে, বিশ্বাসই করতে পারছেন না ধৃতদের পরিজনরা।
শ্যামপুরের গড়চুমুকে ৫৮ নম্বর গেটের কাছে একটি হোটেলের মালিকানা নিয়ে যত গণ্ডগোল। লড়াই হোটেলের মালিক মদন কাঁড়ারের প্রথমপক্ষের ছেলে এবং দ্বিতীয়পক্ষের স্ত্রী ও তাঁর মেয়ের মধ্যে। সৎ মা ও দিদি জনা পঞ্চাশ লোক নিয়ে হাজির হয়েছিলেন ওই হোটেলে। রীতিমতো গাড়ি ভাড়া করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাঁদের। ওই গাড়ি ও লোকজনকে ব্যবহার করা হয়েছিল অপহরণের কাজে। এখানে দলবল নিয়ে সৎ মা ও দিদি আসার পর যুবকের সঙ্গে একপ্রস্থ বাগবিতণ্ডা হয়। সেই সময় যুবককে মারধরের পর তাঁরা কার্যত জোর করেই অপহরণের চেষ্টা করেন। এরমধ্যেই পুলিস চলে আসায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এই অভিযোগে শ্যামপুর থানার পুলিস যুবকের সৎ মা ও দিদি সহ ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। শনিবার ধৃতদের উলুবেড়িয়া আদালতে তোলা হলে বিচারক সৎ মা, দিদি সহ ৬ জনকে চারদিনের পুলিস হেফাজত এবং বাকিদের ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাওড়ার এক বাসিন্দা এদিন আদালতের বাইরে দাঁড়িয়ে বলেন, ছেলে রাজমিস্ত্রির কাজ করে। দুপুরে বলেছিল, গড়চুমুকে ঘুরতে যাবে, বিকেলের পর বাড়ি ফিরবে। রাত পেরিয়ে গেলেও বাড়ি না ফেরায় ছেলেকে ফোন করি। কিন্তু সুইচড অফ থাকায় যোগাযোগ করতে পারিনি। পরে রাতের দিকে শ্যামপুর থানা ছেলের গ্রেপ্তারির বিষয়টি আমাদের জানায়। ওর বিরুদ্ধে অপহরণের মামলার কথা শুনে আমরা আকাশ থেকে পড়েছি।অভিযোগ, এভাবেই নানাজনকে নানা কথা শুনিয়ে গড়চুমুকে নিয়ে গিয়েছিলেন দুই মহিলা। তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগকেই বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা যে এভাবে ফেঁসে যাবেন কল্পনাও করতে পারেননি।
প্রসঙ্গত শ্যামপুরের গড়চুমুকে একটি হোটেল সহ একাধিক সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে মদন কাঁড়ারের প্রথম পক্ষের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী ও মেয়ের দীর্ঘদিন বিবাদ চলছে। শুক্রবার বিকালে দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী হাওড়া থেকে দলবল নিয়ে গড়চুমুকের হোটেলে হানা দেয়। অভিযোগ হোটেল থাকা প্রথম পক্ষের ছেলেকে মারধরের পাশাপাশি তাকে অপহরন করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে। যদিও পুলিস তাদের সেই চেষ্টা আটকে দিয়ে অপহৃত যুবককে উদ্ধার করে এবং আভিযুক্তদের আটক করে। পরে রাতে মূল অভিযুক্ত মা ও মেয়ে সহ ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করে শ্যামপুর থানার পুলিস।