Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েও ১৭২ উপভোক্তা বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেননি, গেল নোটিস

প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েও ১৭২ উপভোক্তা বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেননি, গেল নোটিস
  • ২০ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে ২১ হাজার ৪১১ জন দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পেয়ে গিয়েছেন। প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়ার পরেও জেলার ১৭২ জন উপভোক্তা এখনও বাড়ি তৈরি কাজ শুরু করেননি। উপভোক্তাদের কাছে নোটিস পাঠানো হয়েছে। বাড়ি তৈরির কাজ শুরু না করলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

ঝাড়গ্রাম জেলা ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের নোডাল অফিসার শুভদীপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, জেলার বেশিরভাগ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ঢুকে গিয়েছে। বাড়ির লিনটেন পর্যন্ত কাজ না করা  দুই হাজার উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে এখনও দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ঢোকেনি। জেলার ১৭২ জন উপভোক্তা এখনও বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেননি। তাঁদের নোটিস পাঠানো হয়েছে। কাজ শুরু না করলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ঝাড়গ্রাম আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা। জেলার অধিকাংশ মানুষ চাষবাস ও দিনমজুরের উপর  নির্ভরশীল। মাথা গোঁজার জায়গা বলতে খড়, টালি ও অ্যাসবেস্টসের ছাউনির মাটির ঘর। আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের মানুষ আবাস প্রকল্পে বাড়ি পাওয়ার আশায় বুকে বেঁধেছিলেন। বাংলার বাড়ি প্রকল্পে ২০২২ সালে জেলায় ৫০ হাজার বাড়ির সমীক্ষা করা হয়। তার মধ্যে ২২ হাজার ৮৪৬ জনের নাম নথিভুক্ত হয়েছিল। কেন্দ্রে বিজেপি সরকার প্রকল্পের টাকা নানা অজুহাতে বন্ধ করে দেয়। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর রাজ্য সরকার আবাস প্রকল্পের টাকা দেওয়ার ঘোষণা করে। জেলা প্রশাসনের নতুন সমীক্ষায় ২ হাজার ৬০০ জনের নাম বাদ যায়। প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়ার পর বাড়ি তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশাসন লাগাতার নজরদারি চালায়। ব্লক প্রশাসন ও গ্ৰাম পঞ্চায়েতের আধিকারিকরা উপভোক্তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাজ শুরু করার জন্য বোঝান। সে উদ্যোগে সাফল্য আসে। জেলায় ২১ হাজার ৪১১ জন উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ঢুকে গিয়েছে। উনিশ হাজার উপভোক্তার বাড়ি লিনটেন পর্যন্ত হয়ে গিয়েছে। বাকি দুই হাজার উপভোক্তা লিনটেন পর্যন্ত কাজ করলে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাবেন। জেলার ১৭২ জন উপভোক্তা এখনও বাড়ি তৈরির কাজ শুরুই করতে পারেননি। জেলার আবাস প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের যা মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলার প্রশাসনের তরফে সুপিরিয়র চেকিং করা হয়েছে। ব্লক প্রশাসনের তরফেও উপভোক্তাদের বাড়ি তৈরির জন্য লাগাতার বলা হচ্ছে। নির্দেশ না মানলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। বিনপুর-১ ব্লকের বিডিও অনল সরকার বলেন, এই ব্লকে ৩৭ জন উপভোক্তা এখন বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেননি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে উপভোক্তাদের দ্রুত কাজ শুরু করার জন্য বলে হচ্ছে। পুলিসের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে। সাঁইত্রিশ জন উপভোক্তাকে ইতিমধ্যেই থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছে। সাঁকরাইল ব্লকের বিডিও রোহন ঘোষ বলেন, উননব্বই শতাংশ উপভোক্তার লিনটেন পর্যন্ত ঘর হয়ে গিয়েছে। প্রথম কিস্তির টাকা ১ হাজার ৪ জন পেয়ে গিয়েছেন। ৮৮৯ জন উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে ধাপে ধাপে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া হবে। বাইরে থাকার জন্য দুই জন ও পারিবারিক সদস্যের মৃত্যুর কারণে একজন এখনও বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করতে পারেননি। কাজ যাতে দ্রুত শুরু হয় সেটা দেখা হচ্ছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ