তামিলনাড়ুর থেনি জেল থেকে চম্পট ১৭ বন্দির, কয়েক ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪
  • ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

চেন্নাই: বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছে সঙ্গী। খিঁচুনি উঠছে। এখনই হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। এই বলে কারারক্ষীদের ডেকে আনা হয়। আর আসতেই বদলে যায় পরিস্থিতি। অসুস্থতা আসলে ছিল নাটক। রক্ষীরা গারদের গেট খুলতেই হামলা পড়েন বাকিরা। কিছুবুঝে ওঠার আগেই উধাও ১৭ জন বন্দি। সোমবার রাতে তামিলনাড়ুর থেনি জেল থেকে এভাবেই পালিয়েছেন ১৭ জন।  এই জেল মাদুরাই থেকে প্রায় ৭২ কিলোমিটার দূরে। কয়েকঘণ্টার মধ্যেই পলাতক চার বন্দিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি জারি রয়েছে।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, থেনি সাব-জেলের একই ঘরে থাকতেন ওই ১৭ জন পলাতক বন্দি। তাঁদের মধ্যে একজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে খবর শুনে কারারক্ষীরা ওই ঘরে যান। অভিযোগ, সেই সুযোগে বাকি বন্দিরা তাঁদের উপর হামলা চালিয়ে জেল থেকে পালিয়ে যান। রক্ষীদের ডেকে আনার জন্য কয়েকজন বন্দি খিঁচুনি হওয়ার ভান করেছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর পলাতকদের ধরতে ১৭টি বিশেষ দল গঠন করে পুলিশ। সম্ভাব্য পালানোর পথগুলিতে জারি করা হয় এলার্ট। ওই রাস্তার সমস্ত গাড়িতে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি গোটা এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়। ইতিমধ্যেই পলাতক বন্দিদের ছবি বিভিন্ন থানায় ও পুলিশকর্মীর কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেশী জেলাগুলিতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ডিন্ডিগুল জেলার পুলিশ সুপার এস জয়কুমার জানিয়েছেন, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে মোট ১৬টি জায়গায় নাকা তল্লাশির ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাদুরাই ও কেরলের ইদুক্কি জেলার পুলিশকেও সতর্ক করা হয়েছে। পলাতকরা নিজেদের এলাকায় ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন, এই আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ। উলেখ্য, বন্দিদের হামলায় থেনি জেলের এক পুলিশকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আরও দুই জেলকর্মী সামান্য আহত হয়েছেন বলে খবর।
ঘটনার পর থেনির পুলিশ সুপার কে এস প্রবীণ গৌতম জেল পরিদর্শন করেন। কান্দামানুর থানায় একটি মামলা রুজু হয়েছে। কীভাবে বন্দিরা জেল থেকে পালাতে সক্ষম হলেন, নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন পুলিশ ও কারা দপ্তরের আধিকারিকেরা।