Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

১৭ শতাংশ বৃদ্ধি, প্রথম ত্রৈমাসিকে রাজস্ব আদায়ে নজির গড়ল পুরসভা, আর্থিক ‘চাপ’ সামলে গতি পাবে পরিষেবা, আশা আধিকারিকদের

২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকের (এপ্রিল, মে, জুন) তুলনায় চলতি আর্থিক বছরের এই সময়কালে প্রায় ১৭ শতাংশ রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি করেছে কলকাতা পুরসভা

১৭ শতাংশ বৃদ্ধি, প্রথম ত্রৈমাসিকে রাজস্ব আদায়ে নজির গড়ল পুরসভা, আর্থিক ‘চাপ’ সামলে গতি পাবে পরিষেবা, আশা আধিকারিকদের
  • ৮ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকের (এপ্রিল, মে, জুন) তুলনায় চলতি আর্থিক বছরের এই সময়কালে প্রায় ১৭ শতাংশ রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি করেছে কলকাতা পুরসভা। এই সাফল্য এক কথায় নজির বলেই মনে করছেন পুরকর্তারা। কারণ, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে জুন পর্যন্ত পুরসভার যা রাজস্ব আদায় হয়েছিল, পরের বছর তা অনেকটা ধাক্কা খায়। কিন্তু চলতি অর্থবর্ষের জুনের শেষে এসে দেখা যাচ্ছে, রাজস্ব আদায় বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। চলতি বছরে ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত মোট রাজস্বের পরিমাণ ৭৮২ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা। করখেলাপিদের লাগাতার তাগাদা দিয়ে যাওয়া, মিউটেশনে বাড়তি জোর সহ বিবিধ প্রচেষ্টার ফলেই রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে পুর কর্তৃপক্ষ। এর ফলে একদিকে যেমন বিভিন্ন পুর-পরিষেবার কাজ গতি পাবে, সেই সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত পুরকর্মীদের বকেয়া মেটানো সহ বিভিন্ন খাতে আর্থিক টানাপোড়েন সামলানোও সহজ হবে বলে আশাবাদী  পুরকর্তারা। 

Advertisement

পুরসভার তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ৭৮৩ কোটি ৬৭ লক্ষ টাকা। ২০২৪ সালে তা এক ধাক্কায় কমে গিয়ে দাঁড়ায় ৬৬৯ কোটি ৩৩ লক্ষ টাকায়। অর্থাৎ, ১১৪ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকা কম আদায় হয়েছিল সেবার। তখনই রাজস্ব আদায়কারী বিভিন্ন বিভাগের কর্তাদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। অর্থবর্ষ শেষে এসে অবশ্য সার্বিকভাবে প্রায় ১৮৫০ কোটি টাকার ‘রেকর্ড’ রাজস্ব বৃদ্ধি করে পুরসভা। কিন্তু গত বছরের জুন পর্যন্ত যে খরা চলছিল, এবার তা কেটেছে। এবারের ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুনের হিসেব, সার্বিক রাজস্ব আদায় হয়েছে ৭৮২ কোটি ৪০ লক্ষ টাকার। গতবারের তুলনায় বেশি প্রায় ১৭ শতাংশ (১১৩ কোটি ৭ লক্ষ টাকা বেশি)। চলতি বছর এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সম্পত্তি কর খাতেই ৫৮০ কোটি ৭২ লক্ষ টাকা আদায় হয়েছে। রাজস্ব বৃদ্ধির এই পরিসংখ্যান খানিকটা হলেও স্বস্তি দিচ্ছে পুর কর্তৃপক্ষকে। 
কয়েক মাস আগে মেয়র আধিকারিকদের নিয়ে টাউন হলে একটি সভা ডেকেছিলেন। সেখানে তিনি সম্পত্তি কর বিভাগের আধিকারিক-কর্মীদের কাজের প্রশংসা করেন। সেই সঙ্গে টার্গেট বেঁধে দিয়েছিলেন তিনি। সম্পত্তি কর বিভাগ থেকে শুরু করে বিল্ডিং— প্রত্যেককে বলে দেওয়া হয়, শহরের একটিও সম্পত্তি যেন আন-অ্যাসেসড না থাকে। অর্থাৎ সম্পত্তি কর মূল্যায়নের আওতার বাইরে যেন না থাকে কোনও সম্পত্তি। মিউটেশনে আরও জোর দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে শিবির করে সম্পত্তি কর বিভাগ নাগরিকদের মিউটেশন থেকে শুরু করে কর সংক্রান্ত যাবতীয় জটিলতা কাটানোর ব্যবস্থা করেন। সব মিলিয়েই এই সাফল্য বলে মনে করছেন পুরকর্তারা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ