নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চুরির টাকা গার্লফ্রেন্ডের বাড়িতে লুকনো রয়েছে। খবর পেয়েই নরেন্দ্রপুরে ওই বান্ধবীর বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছিলেন তদন্তকারী অফিসাররা। বাড়ির নীচে পুলিস দেখেই ব্যাগে ভরে টাকা দোতলার জানালা দিয়ে নীচে ঝোপ সংলগ্ন ডোবায় ফেলা শুরু হয়। প্রথমে অফিসাররা ভেবেছিলেন, নোংরা কিছু জিনিস ফেলা হচ্ছে। বার দুয়েক ফেলার পরই সন্দেহ হয় তাঁদের। ঝোপে পৌঁছতেই তাঁরা দেখেন রাশি রাশি টাকা পড়ে রয়েছে। যার পরিমাণ সবমিলিয়ে সাড়ে ষোলো লক্ষেরও বেশি। তদন্তকারীরা বুঝতে পারেন চুরির পর লুকনো টাকা পুলিসের ভয়ে এখানে ফেলা হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত দোকান থেকে চুরি যাওয়া টাকার প্রায় পুরোটাই উদ্ধার করেছে গড়িয়াহাট থানা। গ্রেপ্তার করা হয়েছে চুরির ঘটনায় অভিযুক্তকে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগে গড়িয়াহাট এলাকার একটি বুটিকের দোকান থেকে চুরি হয়। অভিযোগ পেয়ে কেস রুজু করে তদন্তে নামে থানা। অফিসাররা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, পিছন দিকে থাকা এসি মেশিনের জায়গা কেটে ভিতরে ঢুকেছে অভিযুক্তরা। সন্দেহ গিয়ে পড়ে দোকানের এক কর্মীর দিকে। কারণ তার মোবাইল বন্ধ ছিল। রাহুল শীল নামে ওই কর্মী আসছিল না কাজে। কোনওভাবেই তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। এমনকী জীবনতলা এলাকায় বাড়িতেও সে থাকছে না। তার কল ডিটেইলস ঘেঁটে এক তরুণীর নম্বর মেলে। খোঁজ করতে গিয়ে জানা যায়, ওই মহিলা রাহুলের গার্লফ্রেন্ড। সম্প্রতি ফোনে তার সঙ্গে কথাবার্তার কোনও রেকর্ড না দেখে তদন্তকারীদের অনুমান, অভিযুক্ত বান্ধবীর সঙ্গেই থাকছে। মোবাইলের ডিটেইলস ঘাঁটতে ঘাঁটতে রাহুলের সঙ্গে তার বান্ধবীর একটা মেসেজ পান অফিসাররা। নরেন্দ্রপুরে বান্ধবীর বাড়িতে থাকার বিষয়ে দু’জন কথা বলেছে। এখান থেকেই তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন, বান্ধবীর বাড়িতে রয়েছে অভিযুক্ত। গড়িয়াহাটার থানার ওসি অঞ্জন সেন দুই অফিসার অভিষেক সিং ও অমর সুব্বাকে টিম নিয়ে রবিবার বিকেলে নরেন্দ্রপুর এলাকায় যেতে নির্দেশ দেন। সেইমতো তাঁরা ওই বাড়িতে পৌঁছন। গেটে বেল বাজালেও কেউ দরজা খোলেনি। হঠাৎই এক কনস্টেবলের নজরে আসে দোতলার জানালা দিয়ে কিছু একটা ফেলা হচ্ছে ঝোপ সংলগ্ন ডোবায়। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও বেশ কয়েকবার উপর থেকে কিছু জিনিস ফেলায় সন্দেহ তৈরি হয় অফিসারদের। তাঁরা অনুমান করেন, পুলিস দেখেই কাজটা করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা ডোবার কাছে যেতেই দেখেন পাঁচশো, দুশো, একশোর নোট ছড়িয়ে রয়েছে। তাঁরা বুঝে যান চুরি করা টাকা বান্ধবীর বাড়িতেই রাখা হয়েছিল। কিন্তু এদিন রাত হয়ে যাওয়ায় ওই মহিলাকে তাঁরা আর জিজ্ঞাসাবাদ করেননি। মোবাইলের সূত্র ধরে অফিসাররা জানতে পারেন, অভিযুক্ত রাহুল বান্ধবীর সঙ্গে রাত কাটাতে আসছে। সেখানে পৌঁছতেই তাকে ধরা হয়।
ধৃতকে জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, অপারেশনের পর টাকা নিয়ে বান্ধবীর বাড়িতে চলে আসে অভিযুক্ত। বান্ধবীও জানত চুরির টাকা রাখা আছে বাড়িতে। অভিযুক্ত জানিয়েছিল, এই টাকা দিয়ে তাকে সে জুয়েলারি গিফট করবে। তাই আপত্তি করেনি বান্ধবী। ওই বান্ধবীকে নোটিস পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হবে বলে খবর।