Bartaman Logo
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুরসভায় অস্থায়ী কর্মী ১৬০০! বেতন দিতেই মাসে খরচ কোটি টাকার বেশি, ইংলিশবাজার: ভূতুড়ে খুঁজতে এবার হতে পারে ঝাড়াই বাছাই

নিজস্ব আয় তলানিতে ঠেকেছে। বর্তমানে ইংলিশবাজার পুরসভার কার্যত ভাঁড়ে মা ভবানী অবস্থা

পুরসভায় অস্থায়ী কর্মী ১৬০০! বেতন দিতেই মাসে খরচ কোটি টাকার বেশি, ইংলিশবাজার: ভূতুড়ে খুঁজতে এবার হতে পারে ঝাড়াই বাছাই
  • ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: নিজস্ব আয় তলানিতে ঠেকেছে। বর্তমানে ইংলিশবাজার পুরসভার কার্যত ভাঁড়ে মা ভবানী অবস্থা। অথচ এই পরিস্থিতিতেও প্রায় ১৬০০ অস্থায়ী কর্মীর বেতন দিতে পুরসভার নিজস্ব তহবিল থেকে প্রতি মাসে খরচ হয়ে যাচ্ছে কোটি টাকার বেশি। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, ইংলিশবাজার পুরসভায় কি আদৌও ১৬০০ অস্থায়ী কর্মী আছেন? থাকলে তাঁরা কি সবাই কাজ করেন? নাকি এই বিপুল কর্মী সংখ্যার অনেকটাই নিছক খাতায়কলমে? 

Advertisement

পুরসভার বিরোধী দলনেতা তথা ইংলিশবাজারের বিজেপি বিধায়ক অম্লান ভাদুড়ির দাবি, নিয়ম বহির্ভূতভাবে ইংলিশবাজার পুরসভায় ঢালাও অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ হয়েছে। তাঁরা সবাই কাজ করেন না। কাউন্সিলারদের পিছনে ঘুরে বেড়ান। অথচ তাঁদের বেতন দিতে গিয়ে পুরসভার কোষাগার ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। এই সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। অম্লানের এই মন্তব্যের পরই জল্পনা ছড়িয়েছে, তাহলে কি বুধবার কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দিলে ইংলিশবাজার পুরসভার ভূতুড়ে অস্থায়ী কর্মী চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু হতে পারে? 
কৃষ্ণেন্দু ইস্তফা দেওয়ার কথা জানালেও তৃণমূলের বোর্ড টেকাতে মরিয়া ভাইস চেয়ারম্যান সুমালা আগরওয়াল। কিন্তু তা যদি সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে রাজ্যের নির্দেশে পুরসভা পরিচালনায় প্রশাসক বসবেন। আর প্রশাসক বসা মাত্রই কি অস্থায়ী কর্মীদের ঝাড়াই বাছাই শুরু হতে পারে? এনিয়ে পুরসভার অন্দরে জোর চর্চা।
চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু চৌধুরীর অবশ্য বক্তব্য, আমি তো পুরসভায় কোনো ভূতুড়ে কর্মী আছেন বলে জানি না। তবে আমি ছেড়ে দেওয়ার পর যাঁরা পুরসভা চালাবেন, তাঁরা পারলে ভুয়ো কর্মী খুঁজে বের করবেন। 
এনিয়ে অম্লানের মন্তব্য, শুধু নিয়ম বহির্ভূতভাবে অস্থায়ী কর্মী নিয়োগের বিষয় নয়, পুরসভায় যদি প্রশাসক বসেন, তাহলে অনেক দুর্নীতির ফাইল খুলবে। মোটা টাকার বিনিময়ে কীভাবে বেআইনি বিল্ডিং প্ল্যান পাশ করিয়ে দেওয়া হয়েছে কিংবা টেন্ডারে কীভাবে দুর্নীতি হয়েছে, সামনে আসবে সবটাই।
পুরসভা সূত্রের খবর, ১৬০০ অস্থায়ী কর্মীর বেতন দিতে প্রতিমাসে সোয়া এক কোটি টাকা লাগে। এছাড়া পেনশনের ৬০ শতাংশ, পুরসভার বিদ্যুৎ বিল, গাড়ির তেল সবমিলিয়ে ফি মাসে নিজস্ব তহবিল থেকে খরচ হয় ২ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা। ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, ভাড়া সহ মিউটেশনের সঙ্গে ডেভেলপমেন্ট ফি’র নামে নেওয়া টাকা থেকেই এতদিন মেটানো হয়েছে ওইসব খরচ। কিন্তু পুরসভার বর্তমান এগজিকিউটিভ অফিসার স্বাতী চক্রবর্তীর কড়াকড়িতে অস্বাভাবিক হারে নেওয়া ডেভেলপমেন্ট ফি নেওয়া বন্ধ হয়ে যেতেই টান পড়েছে পুরসভার নিজস্ব তহবিলে। আর্থিক সংকটের জেরে বিপুল সংখ্যক অস্থায়ী কর্মীর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। 
সূত্রের খবর, পুরসভার যে সঞ্চয় ছিল তা ভেঙে গত তিনমাস ধরে সামলানো হচ্ছে বিপুল পরিমান নিজস্ব খরচ। এর জেরে সঞ্চয় প্রায় ফুরনোর জোগাড়। পুরসভার বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক অম্লান ভাদুড়ির দাবি, আমি যতদূর জানি পুরসভার নিজস্ব তহবিল ফাঁকা। আর্থিক সংকট যে চরমে পৌঁছেছে তা স্বীকার করে নিয়ে চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী বলেন, আমি চেয়ার থেকে সরে যাওয়ার আগে এমাসে অস্থায়ী কর্মীদের বেতনের বিলে সই করে দিয়েছি। কিন্তু এই অবস্থা চলতে থাকলে আগামী মাসে তাঁদের বেতন কীভাবে হবে, বলতে পারব না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ