অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: ‘প্রণমিয়া পাটনি কহিছে জোড় হাতে, আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে’। ঈশ্বরী পাটনির গল্প কে না জানে। হতদরিদ্র মাঝি। অভাব-অনটন নিত্যসঙ্গী। নৌকা চালিয়েই ‘সংসারের দাঁড়’ টানেন। মা অন্নপূর্ণা যখন তাঁকে বলেছিলেন, ‘বর মাগ মনোনীত যাহা চাহ দিব’, তখন অনায়াসেই বড়ো বর চাইতে পারতেন। কিন্তু, তিনি লোভ করেননি। চেয়েছেন কেবল সন্তানের মুখে দুধ ভাত! ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের অন্নপূর্ণা ও ঈশ্বরী পাটনি কবিতার উপরেই সাজছে সল্টলেক এ কে ব্লকের পুজো। মূল চমক মণ্ডপে, ১৬০০ বর্গফুটের বিশাল অন্নপূর্ণা হাঁড়ি!
থিমের নতুন ভাবনায় প্রতি বছরই দর্শকদের নজর কাড়ে এই পুজো কমিটি। নতুন স্বাদ নিতে ফি বছর জনপ্লাবন নামে। ২০২৪ সালে এই মণ্ডপে ঢুকেই বৃষ্টির আনন্দে ভিজেছিলেন হাজার হাজার দর্শনার্থী। ‘বারিবিন্দু’ থিম মন কেড়েছিল সকলের। বৃষ্টির ছন্দে ঢাকের শব্দ। গত বছরও জন্মশতবর্ষ উপলক্ষ্যে ঋত্বিক ঘটকের থিমে সেজে উঠেছিল মণ্ডপ। এবার ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে’— এই ভাবনাতেই সাজিয়ে তোলা হচ্ছে পুজোমণ্ডপ। থিমের নাম ‘অন্য কথা, অন্নের কথা’। শিল্পী রিন্টু কোনার ও পূর্ণেন্দু দে’র ভাবনায় ফুটে উঠছে সেই ছবি।
দুধে ভাতের থিমেই মণ্ডপে তৈরি হচ্ছে বিশাল হাঁড়ি। হাঁড়িটি চওড়ায় প্রায় ৪৬ ফুট। উচ্চতা প্রায় ৩৬। বর্গফুট হিসাবে ১৬৫৬। বিশাল আকৃতি। মণ্ডপের ভিতর ঢুকলে দর্শনার্থীরা গরম ভাত ফোটার ভিস্যুয়ালও দেখতে পাবেন। দেওয়ালে থাকবে নানা ধরনের চিত্র। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে চালু হয়েছিল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। এখন সেই প্রকল্পের নাম অন্নপূর্ণা যোজনা। ঈশ্বরী পাটনির থিমে সেই যোজনার গন্ধও মিশে গিয়েছে। মণ্ডপের ভিতরে থাকবে সাবেকি প্রতিমা। থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই তৈরি করা হচ্ছে দেবীমূর্তি।
সল্টলেক এ কে ব্লক অ্যাসোসিয়েশনের কর্ণধার রাজা বণিক বলেন, অন্য কথা, অন্নের কথা— দেবী অন্নপূর্ণার কাছে ঈশ্বরী পাটনির বর চাওয়ার প্রার্থনাকেই ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। আমরা চাই, ঈশ্বরী পাটনির সন্তানের মতো পৃথিবীর প্রতিটি সন্তান দুধে ভাতে থাকুক। তাই আমরা মণ্ডপের সামনে তৈরি করছি, বিশাল আকৃতির হাঁড়ি। নামও দিয়েছি, অন্নপূর্ণা হাঁড়ি। অন্নের জন্যই সমস্ত সংগ্রাম। এবার থিমের সঙ্গে মিশবে গরম ভাতের সুগন্ধও। নিজস্ব চিত্র