নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণগঞ্জ: বাংলাদেশ লাগোয়া মতুয়া অধ্যুষিত বিধানসভা কৃষ্ণগঞ্জে ২০১৬ সালে শেষবার ঘাসফুল ফুটেছিল সত্যজিৎ বিশ্বাসের হাত ধরে। তিনি খুন হওয়ার পর থেকে কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভায় আর তৃণমূল মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি। মতুয়ারা ঝুলি উজাড় করে বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। তবে এবার এসআইআরের কল্যাণে এই কেন্দ্রের ভোটের অঙ্ক অনেকটাই ওলটপালট হয়ে গিয়েছে। কারণ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার বিচারাধীন নাম। যার মধ্যে সিংহভাগই মতুয়া সম্প্রদায়ের। ক্ষোভে ফুঁসছেন মতুয়ারা। নিঃশর্ত নাগরিকত্বের বদলে জুটেছে শর্তসাপেক্ষে নাগরিকত্ব। সিএএর জন্য আবেদন করলেই এসআইআরে ভোটার তালিকায় নাম থাকবে, বিজেপির এই প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়িত হয়নি বলে জানাচ্ছেন দক্ষিণপাড়ার গণেশচন্দ্র অধিকারী, প্রীতি অধিকারী, সরেন পালরা। এবারের ভোটে তাঁদের ভোট দিতে না পারা একপ্রকার নিশ্চিত। এঁদের হয়রানির প্রভাব জনমানসে পড়লে তার খেসারত দিতে হতে পারে বিজেপিকে।
কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভার এই কেন্দ্রে ৪০ শতাংশ মতুয়া ভোট রয়েছে। ২০১৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সত্যজিৎ বিশ্বাস এই কেন্দ্রে প্রায় ৫৪ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন। তখন বিজেপির কাছে ছিল ৮ শতাংশ ভোট এবং সিপিএমের ৩৩ শতাংশ ভোট। হাঁসখালি ব্লকের দক্ষিণপাড়া-২ পঞ্চায়েতের একটি মাঠে সত্যজিৎ খুন হন। সেইসঙ্গে হাওয়া ঘুরে যায় বিজেপির পালে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়ে এই কেন্দ্রে বিজেপি এগিয়েছিল। সিপিএম পেয়েছিল ৪ শতাংশ ভোট। একুশের বিধানসভা এবং চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনেও বিজেপি এই কেন্দ্রে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট নিয়ে এগিয়ে থেকেছে। বিজেপি এবারও সেই ভোট ধরে রাখতে মরিয়া হয়েছে। বিজেপির তরুণ প্রার্থী সুকান্ত বিশ্বাস লাগাতার প্রচার চালাচ্ছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল মতুয়া মুখ সমীরকুমার পোদ্দারকে এই কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, মতুয়া অধ্যুষিত এই কেন্দ্রে এসআইআরের প্রভাবে বহু মানুষের নাম বাদ পড়েছে। এই বিধানসভার ১৯,৮৪৯ জন বিচারাধীন ভোটারের মধ্যে নাম উঠেছে মাত্র ৪,৩৯৭ জনের। বাদ গিয়েছে ১৫,৫৫২ জন ভোটারের নাম। এছাড়াও খসড়া, চূড়ান্ত এবং বিচারাধীন ভোটার তালিকা মিলিয়ে মোট ভোটার কমেছে ৩১,২৭৯ জন। যাঁদের সিংহভাগই মতুয়া। রাজনৈতিক মহলের দাবি, বিজেপির মতুয়া ভোটব্যাঙ্কে চিড় ধরতে পারে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে। তারকনগর এলাকার বাসিন্দা সুকুমার বিশ্বাস বলেছিলেন, আমাদের এখানে অনেকেই নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন। কিন্তু তারপরেও নাম বাদ গিয়েছে। কোন যুক্তিতে বোঝা গেল না।
কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের তৃণমূলের সভাপতি সমীর বিশ্বাস বলেন, বিজেপি ভোটে জিততে পারবে না বলে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। মতুয়াদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বিজেপি। যার জবাব মানুষ এবার ইভিএমে দেবে।
কৃষ্ণগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী সুকান্ত বিশ্বাস বলেন, ‘মানুষের মধ্যে অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি। এবার কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভায় বিজেপির লিড আরও বাড়বে। নাম বাদ যাওয়ার জন্য তৃণমূল কংগ্রেস দায়ী, এটা মানুষ বুঝে গিয়েছে। যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে তাদের পরিবারের লোকজন বিজেপিকেই ভোট দেবেন।