পাপ্পা গুহ, উলুবেড়িয়া: কিশোরী মায়ের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে শ্যামপুর ২ নম্বর ব্লকে। এই ব্লকে ইতিমধ্যেই প্রায় দেড় হাজার কিশোরী মায়ের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। যা নিয়ে চিন্তায় প্রশাসন। স্কুলগুলিতে এ নিয়ে সচেতনতা শিবির করার পাশাপাশি পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে নাবালিকাদের বিয়ে না দেওয়ার আর্জি জানাচ্ছেন ব্লকের কর্মী-আধিকারিকরা। এমনটাই পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি একটি ব্লকে কিশোরী মায়ের সংখ্যা দেড় হাজার হয়ে থাকে, তাহলে এটা নিশ্চিত যে, নাবালিকা বধূর সংখ্যা তার দ্বিগুণ বা তারও বেশি। অর্থাৎ প্রাপ্ত বয়সের আগেই বিয়ে হয়ে যাচ্ছে কিশোরীদের।
শ্যামপুর মূলত কৃষিপ্রধান এলাকা। তবে কৃষিকাজ ছাড়াও ইটভাটার কাজে যুক্ত প্রচুর মানুষ। পাশাপাশি এখানে মৎস্যজীবীরাও বসবাস করেন। সূত্রের খবর, বছর খানেক আগেই শ্যামপুর ২ নম্বর ব্লক প্রশাসনের নজরে আসে বিষয়টি। আধিকারিকরা দেখেন, এলাকায় ক্রমে কিশোরী মায়ের সংখ্যা বাড়ছে। আসলে গর্ভবতী কিশোরীরা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরেই বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। বিষয়টি সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
ব্লক প্রশাসন সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তর ও স্বাস্থ্য দপ্তরকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে নাবালিকাদের বিয়ে রোধে সচেতনতা শিবির করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ১০টিরও বেশি বিদ্যালয়ে এমন শিবির হয়েছে। একাধিক স্কুলে বিডিও সঞ্জু গুহ মজুমদার নিজে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রেখেছেন। তিনি জানান, এরপর ধাপে ধাপে বিভিন্ন পাড়ায় গিয়ে নাবালিকাদের বিয়ে রোধের বিষয়ে সচেতনতা শিবির করা হবে। জানা গিয়েছে, প্রসূতি মায়েদের মধ্যে ১৫-১৬ বছরের নাবালিকার সংখ্যাই বেশি। যা রীতিমতো উদ্বেগের বলে মনে করছেন প্রশাসনের কর্তারা। প্রশাসন সূত্রে খবর, এদের মধ্যে অধিকাংশ পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছে। পরে সামাজিকভাবে তাদের বিয়ে হয়েছে। নাবালিকার বিয়ের খবর পেলেই প্রশাসন দ্রুত গিয়ে ব্যবস্থা নেয়। কিন্তু সব খবর প্রশাসনের আধিকারিকদের কাছে আসে না। পরবর্তীকালে অন্তঃসত্ত্বা হলে হাসপাতাল সূত্রে সেই খবর পাওয়া যাচ্ছে। এক্ষেত্রে কিশোরী মায়েরা নানা সমস্যার মুখে পড়ছে।
বিডিও সঞ্জু গুহ মজুমদার ও শ্যামপুর ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি নদেবাসী জানা বলেন, এটি সামাজিক সমস্যা। কেন এই সংখ্যা বাড়ছে, তা নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নাবালিকাদের বিয়ে রোধে স্কুল ও পাড়ায় পাড়ায় সচেতনতা শিবির করা হবে। আমরা স্কুলের শিক্ষকদেরও এ বিষয়ে খোঁজখবর নিতে বলেছি। প্রসঙ্গত, পুলিসের পক্ষ থেকেও স্বয়ংসিদ্ধা কর্মসূচি করা হচ্ছে। প্রশাসনের কর্তারা আশাবাদী, বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।