Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জেলার প্রাণকেন্দ্র মধ্য হাওড়ায় ১৫ বছরের উন্নয়নই ‘এক্স ফ্যাক্টর’, বিজেপির অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন বামেদের

রাজ্যের প্রশাসনিক দপ্তর নবান্ন থেকে শুরু করে জেলাশাসকের দপ্তর, জেলা হাসপাতাল, জেলা আদালত, পুলিশ কমিশনারের অফিস— সবই অবস্থিত মধ্য হাওড়া বিধানসভা কেন্দ্রের অধীনে। ফলে যে কোনো প্রশাসনিক কাজে গোটা জেলার মানুষকে ছুটে আসতে হয় মধ্য হাওড়ায়।

জেলার প্রাণকেন্দ্র মধ্য হাওড়ায় ১৫ বছরের উন্নয়নই  ‘এক্স ফ্যাক্টর’, বিজেপির অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন বামেদের
  • ৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রীতেশ বসু, হাওড়া: রাজ্যের প্রশাসনিক দপ্তর নবান্ন থেকে শুরু করে জেলাশাসকের দপ্তর, জেলা হাসপাতাল, জেলা আদালত, পুলিশ কমিশনারের অফিস— সবই অবস্থিত মধ্য হাওড়া বিধানসভা কেন্দ্রের অধীনে। ফলে যে কোনো প্রশাসনিক কাজে গোটা জেলার মানুষকে ছুটে আসতে হয় মধ্য হাওড়ায়। আবার এশিয়ার সবচেয়ে বড়ো জামা-কাপড়ের সাপ্তাহিক হাট বসে এই চত্বরেই। ফলে এই কেন্দ্রের গুরুত্ব অপরিসীম।

Advertisement

১৮৯৮ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মাঘী পূর্ণিমার দিন আলমবাজার মঠ থেকে তিনটি ডিঙি নৌকায় চড়ে ভক্ত-সন্ন্যাসীদের সঙ্গে নিয়ে গঙ্গার পাড়ে রামকৃষ্ণপুর ঘাটে এসে নামেন স্বামী বিবেকানন্দ। সেখান থেকে হেঁটে যান নবগোপাল ঘোষের বাড়িতে। সেখানে প্রতিষ্ঠা করেন ঠাকুর রামকৃষ্ণদেবের পোরসেলিনের পট। যে পথ দিয়ে স্বামীজি হেঁটে গিয়েছিলেন, সেখানে (ফোরশোর রোডের পাশে) স্থানীয় বিধায়ক তথা মন্ত্রী অরূপ রায়ের উদ্যোগে ২০২৫ সালে তৈরি হয়েছে ‘বিবেক দ্বার’। ওই দ্বারের উপর উপর বড়ো বড়ো হরফে লেখা— ‘তাঁরাই প্রকৃত অর্থে জীবিত, যাঁরা অপরের জন্য বাঁচেন।’ এই কেন্দ্রের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০১১ সালে ভোটে জিতে স্বামীজির এই বাণীকে সামনে রেখেই উন্নয়নের কাজে ঝাঁপিয়েছিলেন অরূপবাবু। টানা তিনবারের জয়ী অরূপ রায় এবারও মধ্য হাওড়া কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে ভোটে লড়ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, গত ১৫ বছরের সার্বিক উন্নয়নই এই কেন্দ্রের এক্স ফ্যাক্টর।
হাওড়া পুরসভার ১৭টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই কেন্দ্র। বাংলা ভাষাভাষী মানুষের পাশাপাশি প্রায় ৩০ শতাংশ অবাঙালি এবং ২৫ শতাংশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন এখানে। জিটি রোড সংলগ্ন চিন্তামণি দে রোডের বাসিন্দা অমিত চক্রবর্তীর কথায়, উন্নয়ন হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে বড়ো রাস্তা, অলিগলিও আগের থেকে ভালো। এই বিধানসভা কেন্দ্রের অপর প্রান্তে অক্ষয় চক্রবর্তী লেন, হাজারহাত কালীতলা এলাকার বাসিন্দারা নিকাশি ব্যবস্থা থেকে শুরু করে জঞ্জাল সাফাইয়ের কাজে খুশি। তাঁরা জানিয়েছেন, বিপদে-আপদে বিধায়ককে পাশে পাই। তাঁর পারফরম্যান্স আশাব্যঞ্জক। ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে নতুন স্কুল বিল্ডিং তৈরি হয়েছে। আবার টিকিয়াপাড়ায় একটি হাই স্কুলে কমার্স এবং সায়েন্স বিভাগ চালু করা সহ বিভিন্ন স্কুলের পরিকাঠামোর উন্নতি হয়েছে। গঙ্গার নীচে দিয়ে মেট্রো রেল হাওড়া স্টেশন ছুঁয়ে পৌঁছেছে হাওড়া ময়দানে। এই এলাকাটিও মধ্য হাওড়া বিধানসভা কেন্দ্রের অধীন। ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি এই প্রকল্পের রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইলেও তেমন সুবিধা করতে পারেনি। তাসত্ত্বেও তৃণমূল এখানে লিড পেয়েছিল ২৫ হাজার ৩১৫ ভোটে। হাওড়া ময়দান মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন শরৎসদনের সৌন্দর্যায়ন এবং মুক্তমঞ্চের সংস্কার এবারের ভোটে তৃণমূলকে ডিভিডেন্ড দেবে বলেই মত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক মঞ্চের সদস্যদের। তবে শরিকী সমস্যায় আটকে রয়েছে বাজার সংস্কার। আগামী দিনে জিটি রোডের ধারে হকার সমস্যার সমাধান এবং যুবক-যুবতিদের কাজের সুযোগ বৃদ্ধি হবে বলে আশাবাদী শাসকদল।
এই বিধানসভা কেন্দ্রে এসআইআরে প্রায় ৭০ হাজার নাম বাদ গিয়েছে।  এখন ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৯৬ হাজার। এ প্রসঙ্গে জয় নিয়ে প্রত্যয়ী অরূপবাবুর মন্তব্য, ‘এসআইআরই বিজেপির পতনের কারণ হবে। তাছাড়াও ওদের সঙ্গে কেউ নেই। সমস্ত ভাষাভাষী এবং সম্প্রদায়ের মানুষ তৃণমূলের সঙ্গে রয়েছে।’ যদিও বিজেপি প্রার্থী বিপ্লব মজুমদারের দাবি, মানুষ অনেক সমস্যায় আছেন। ভোট বাক্সই তা বুঝিয়ে দেবে। যদিও, সিপিএম প্রার্থী ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করেন, এবার এখানে তৃণমূল বনাম সিপিএমের লড়াই। বিজেপির কোনো অস্তিত্বই নেই এখানে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ