নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পাঁশকুড়া থানার কনকপুরে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তিনজন গ্রুপ লোন অফিসার কিস্তির ১৫লক্ষ টাকা লোপাট করেছে বলে অভিযোগ। গত ২৮মে ওই প্রতিষ্ঠানের পাঁশকুড়া শাখার ম্যানেজার বাপন দাস পাঁশকুড়া থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন। তারভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। কিস্তির টাকা সময়মতো শোধ করেও বিপাকে পড়েছেন বহু গ্রাহক। কারণ, ওই তিন গ্রুপ লোন ম্যানেজার সময়মতো কিস্তির টাকা সংগ্রহ করলেও তা শাখায় জমা করেনি। ফলে গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে ওই টাকা যোগ হয়নি। সংস্থার অভ্যন্তরীণ অডিটে এই ঘটনা সামনে আসতেই হইচই পড়ে গিয়েছে।
সংস্থার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার তথা অভিযোগকারী বাপনবাবু বলেন, তিনজন কর্মরত থাকাকালীন প্রতারণা করেছেন। তাঁদের মধ্যে একজনকে কাজ থেকে ছাঁটাই করে দেওয়া হয়েছিল। অপর একজনকে অন্যত্র বদলি করা হয়। তৃতীয় ব্যক্তি কাজ ছেড়ে দেন। বদলি হওয়া ওই কর্মী অন্যত্র যোগ দেননি। সবমিলিয়ে প্রায় ১৫লক্ষ টাকা তছরুপের ঘটনা সামনে এসেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এফআইআর দায়ের হয়েছে।
মুম্বইয়ে ওই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়। গোটা দেশজুড়ে তাদের কয়েক হাজার শাখা রয়েছে। পাঁশকুড়া পুরসভার কনকপুরে বনমালী কলেজ রোডের ধারে ওই সংস্থার অফিস আছে। সেখান থেকে স্বনির্ভর গোষ্ঠী, উদ্যোগপতি এবং স্বল্প আয়ের মানুষজনকে ঋণ দেওয়া হয়। ঝাড়গ্রাম জেলার বিনপুরের বাসিন্দা শেখ আমানুদ্দিন ওই সংস্থার গ্রুপ লোন অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২৩ সালের ১আগস্ট থেকে তিনি কিস্তি বাবদ ছ’লক্ষ ৮৩হাজার ৩১০টাকা সংগ্রহ করেও শোধ করেননি বলে অভিযোগ। এই মর্মে ওই আর্থিক সংস্থার শাখার ম্যানেজার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। সেইমতো প্রতারণার অভিযোগে মামলা শুরু হয়েছে। অভিযোগ দায়ের হতেই আমানুদ্দিনের ফোন বন্ধ। ফলে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।একইভাবে ওই আর্থিক সংস্থায় গ্রুপ লোন অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন তমলুক পুরসভার এক বাসিন্দা। ২০২৩ সালের ১আগস্ট থেকে কিস্তি বাবদ টাকা তুলে তিনি ওই সংস্থার ছ’লক্ষ ৬৯হাজার ১৩৮টাকা জমা করেননি বলে অভিযোগ। ওই আর্থিক সংস্থার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার এই মর্মে পাঁশকুড়া থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন। ২৮মে অভিযোগ জমা হওয়ার পর ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিস।
বিনপুরের আরবাজ খান ওই সংস্থার গ্রুপ লোন অফিসার হিসেবে কিস্তি বাবদ টাকা তুলে এক লক্ষ ৫৭হাজার ৮৯২টাকা জমা করেননি বলে অভিযোগ। তাঁর বিরুদ্ধেও সংস্থার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার পাঁশকুড়া থানায় এফআইআর করেছেন। আরবাজ খান বলেন, আমরা ১০-১২জন কিস্তির টাকা জোগাড় করতাম। আমি এক বছর আগে ওই কাজ ছেড়ে দিয়েছি। আমার ইস্তফাপত্র গৃহীত হয়েছে। আমি কর্মরত থাকাকালীন অন্য একজন ব্রাঞ্চ ম্যানেজার ছিলেন। তারপর অডিটে কী উঠে এসেছে, আমার জানা নেই। পুলিস জানিয়েছে, অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগকারীকে যাবতীয় নথিপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে।