নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে চলেছে উচ্চ মাধ্যমিকের পার্ট ওয়ান (তৃতীয় সেমেস্টার) পরীক্ষা। গত বছরের তুলনায় এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা দেড় লক্ষ বেড়ে হয়েছে ৬ লক্ষ ৬০ হাজার। সেই সঙ্গে প্রশ্ন ফাঁস ও পরবর্তী বিপত্তি রুখতে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নিয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। প্রশ্নপত্রের দু’টি সেট তৈরি রাখা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, একই সেটে প্রশ্নের পর্যায়ক্রম অদলবদল করা থাকবে। অর্থাৎ পাশাপাশি বসা দুই পরীক্ষার্থীর প্রশ্নপত্র সম্পূর্ণ এক হবে না। কারও পরীক্ষা আগে শেষ হয়ে গেলেও হলেই থেকে যেতে হবে। মঙ্গলবার উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য সাংবাদিক বৈঠক করে এই খবর দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এবার ছাত্রদের তুলনায় ৭৯,৫৮২ জন বেশি ছাত্রী পরীক্ষায় বসছেন। সব জেলাতেই এই চিত্র।
এমসিকিউ পদ্ধতিতে ওএমআর শিটে নেওয়া হচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক। পার্ট ওয়ান পরীক্ষার নম্বর ল্যাবভিত্তিক বিষয়ে ৪০ এবং প্রজেক্ট ভিত্তিক বিষয়ে ৩৫। ভোকেশনাল বিষয়, মিউজিক এবং ভিজুয়াল আর্টসের নম্বর কম। সময়ও কম। প্রধান বিষয়গুলির পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে ১১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত চলবে। এমসিকিউ হওয়ায় টোকাটুকির সুযোগও বেশি। তাই সংক্ষিপ্ত সময়ের পরীক্ষা চলাকালীন কাউকে এবার শৌচাগার পর্যন্ত ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। প্রতি কক্ষে দু’জন পরিদর্শক, প্রবেশদ্বার এবং ভেন্যু সুপারভাইজারের ঘরে সিসিটিভি নজরদারি থাকছে। প্রশ্নপত্র এ বছর ভেন্যু সুপারভাইজারের ঘরে খোলা যাবে না। পরীক্ষার্থীদের সামনে, পরীক্ষা শুরুর পাঁচ মিনিট আগে নির্দিষ্ট আধিকারিকদের উপস্থিতিতে সেগুলির বিশেষ সিল খুলতে হবে।
রাজ্যজুড়ে ৮১৮টি প্রধান ভেন্যু এবং ২১০৬টি ভেন্যুতে পরীক্ষা হবে। ১২২টি ভেন্যুকে ‘উত্তেজনাপ্রবণ’ চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলির অধিকাংশই মালদহ জেলায়। মোবাইল তো বটেই, এবার সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটরও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রয়োজনে বড় গাণিতিক হিসেব কষে দেওয়া থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন সভাপতি। মোবাইল, ক্যালকুলেটর বা কোনও বৈদ্যুতিন গ্যাজেট সহ কেন্দ্রে ধরা পড়লে পরীক্ষা বাতিল তো হবেই, রেজিস্ট্রেশনও বাতিল হতে পারে। পরিদর্শকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারেও বাতিল হতে পারে রেজিস্ট্রেশন। মেটাল ডিটেক্টর ও দেহতল্লাশির ব্যবস্থা থাকবে।
প্রায় সাত লক্ষ পাঁচ হাজার ছাত্রছাত্রী একাদশ উত্তীর্ণ হলেও উচ্চ মাধ্যমিকে নাম লিখিয়েছেন ৪৫ হাজার কম পড়ুয়া। তবে সভাপতির ব্যাখ্যা, পার্ট ওয়ানের পরীক্ষায় কেউ না বসলেও পার্ট টু’র পরীক্ষার সময় সাপ্লিমেন্টারি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই অনেকেই সেই সময় দু’টি পরীক্ষা একসঙ্গে দেওয়ার জন্য ফিরে আসতে পারেন। প্রসঙ্গত, পার্ট ওয়ান এবং পার্ট টু—দু’টি পরীক্ষাতেই ন্যূনতম ৩০ শতাংশ নম্বর পেয়ে পাশ করতে হবে। দু’টি পরীক্ষার ফল নিয়ে তৈরি হবে চূড়ান্ত মার্কশিট। কম্পিউটার চালিত মূল্যায়ন হওয়ার কারণে অক্টোবরের মধ্যেই ফল প্রকাশ করে দেওয়া যাবে বলে আশাবাদী সংসদ। পরীক্ষার্থীদের ওএমআর শিট কি আপলোড করা হবে? সভাপতি জানিয়েছেন, কিছু বাধা ও সমস্যা রয়েছে।