সংবাদদাতা, খড়্গপুর: অপরিকল্পিত এবং অবৈজ্ঞানিক নগর সম্প্রসারণের ফলে ক্রমশ তাপমাত্রা বাড়ছে তিলোত্তমার! দূষিত হচ্ছে রাজধানী কলকাতা। ভুক্তভোগী কলকাতা শহর ও আশপাশের এলাকার প্রায় দেড় কোটি মানুষ। বাড়ছে শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও তাপমাত্রা জনিত অসুখ। সেইসঙ্গে বন্যা, ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। সম্প্রতি খড়্গপুর আইআইটির বিজ্ঞানীদের গবেষণায় এমনই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। এই পরিস্থিতি থেকে নিষ্কৃতি পেতে বিজ্ঞানসম্মত ভাবে নগর সম্প্রসারণের পথও বাতলে দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। আইআইটির এই গবেষণা ইতিমধ্যে স্থান পেয়েছে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জার্নালে।
উপগ্রহ ভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে খড়্গপুর আইআইটির সমুদ্র, নদী, বায়ুমণ্ডল ও ভূমি বিজ্ঞান সংক্রান্ত বিভাগের (কোরাল) গবেষকরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, ২০০০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ২০ বছরে কলকাতা মহানগরে ৬০ বর্গ কিলোমিটারের বেশি সবুজ এলাকা, ১৮–২০ বর্গ কিলোমিটার কৃষিজমি, ২০–২৫ বর্গ কিলোমিটার অনাবাদি জমি এবং প্রায় ১০ বর্গ কিলোমিটার জলাভূমি ও জলাশয় মানুষের বাসস্থানে পরিণত হয়েছে। এই নগরায়ন সম্পূর্ণ অপরিকল্পিত ও অবৈজ্ঞানিকভাবে হয়েছে বলে জানিয়েছেন ‘কোরাল’-এর বরিষ্ঠ অধ্যাপক জয়নারায়ণ কুট্টিপ্পুরাথ ও তাঁর নেতৃত্বাধীন গবেষকদল। এর ফলে শহরের তাপমাত্রা ও দূষণ অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। তিনি বলেন, ‘দ্রুত ও অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে প্রতি বছর ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রায় ০.০৫–০.১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে বাড়ছে। এর ফলে নিউটাউন, রাজারহাট, হাওড়া, দমদম, বেহালা, এসপ্ল্যানেড, মধ্য ও দক্ষিণ কলকাতার পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। বাড়ছে শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগসহ তাপজনিত অসুস্থতা। সেই সঙ্গে বাড়ছে বন্যা, ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কাও।
গবেষকদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে নগর সম্প্রসারণ না করলে ভবিষ্যতে আরও বড়ো বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। সেইসঙ্গে তাঁরা পূর্ব কলকাতা জলাভূমি, অবশিষ্ট কৃষিজমি এবং শহরের সবুজ অঞ্চল সংরক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁদের মতে, আগামী দিনে ডানকুনি, নিউটাউন ও মহেশতলার ফাঁকা জায়গাগুলিকে উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। বারাসত, মধ্যমগ্রাম, রাজারহাটের কিছু এলাকা, বেহালা ও দমদমকে ‘সবুজ বাফার জোন’ হিসাবে গড়ে তুলতে হবে। মধ্য কলকাতা, এসপ্ল্যানেড, বউবাজার, নিউটাউনের কেন্দ্রস্থল ও হাওড়াতে প্রচুর গাছ লাগানোর কথা বলেছেন গবেষকরা। কল্যাণী, হালিশহর ও কাঁচরাপাড়াকে পরিবেশবান্ধব এলাকা হিসাবে গড়ে তুলতে হবে। পরিবেশকর্মীরা বলছেন, খড়্গপুর আইআইটির গবেষকদের পরামর্শ মেনেই নগরায়ন করা উচিত ।