সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রক্ষণাবেক্ষণ শিকেয়। ফলে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তারাপীঠের দ্বারকা নদের পাড়ের বিশ্ববাংলা ঘাটের করুণ অবস্থা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের নজরদারির অভাবেই বিশ্ববাংলার ঘাট সৌন্দর্য হারিয়েছে।
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রক্ষণাবেক্ষণ শিকেয়। ফলে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তারাপীঠের দ্বারকা নদের পাড়ের বিশ্ববাংলা ঘাটের করুণ অবস্থা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের নজরদারির অভাবেই বিশ্ববাংলার ঘাট সৌন্দর্য হারিয়েছে।
সাধনপীঠ তারাপীঠে দ্বারকা নদকে গঙ্গার সঙ্গে তুলনা করা হয়। তারা মায়ের নিত্যপুজোতেও লাগে দ্বারকার জল। অনেকে এখানে স্নান করে মায়ের কাছে পুজো দেন। তাই দ্বারকা ব্রিজ লাগোয়া এলাকায় ৫০০ স্কোয়ার ফুট জায়গায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বিশ্ববাংলা ঘাট তৈরি হয়েছিল। এই ঘাটে যাতে ১২ মাস জল থাকে তার জন্য নদে চেকড্যাম নির্মাণের প্রস্তাবও রয়েছে। ঘাটের একপাশে জামা, কাপড় বদলানোর জন্য মহিলাদের পৃথক ঘরও তৈরি হয়। এই ঘাটের সৌন্দর্য্য বাড়াতে ঘূর্ণায়মান বিশ্ব বাংলার লোগো ও লাইট অ্যান্ড সাউন্ড সিস্টেম বসানো হয়েছে। সেখানে ভক্তিমূলক গানের ছন্দে জলের ফোয়ারা ও লাইট জ্বলে ওঠার ব্যবস্থা করা হয়। যদিও চেকড্যামটি নির্মাণের আগেই ২০১৯ সালের ২৮ আগস্ট কৌশিকী অমাবস্যার আগের দিন বিশ্ব বাংলা ঘাটের উদ্বোধন করে টিআরডিএ।
সেই থেকে দ্বারকায় আবর্জনা ফেলাও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। সেই সময় বিশ্ববাংলা ঘাট পুণ্যার্থীদের নজর কেড়েছিল।
কিন্তু বর্তমানে এই ঘাটের অবস্থা বেহাল। আবর্জনা পড়ে থাকে ঘাটে নামার সিঁড়িগুলিতে। পাশেই দ্বারকার ধারের হোটেল ও লজের আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। স্থানীয় মানুষ বলছেন, উদ্বোধনের পর থেকে খুব কম দিনই লাইট অ্যান্ড সাউন্ড চলেছে এখানে। আগে জলের পাইপ দিয়ে বিশ্ববাংলার লোগো সহ এলাকা সাফাই হতো। কিন্তু এখন সেসব পুরোপুরি বন্ধ। ঘাটে নামার গেটে তালা ঝুলছে। ইলেকট্রিক বোর্ড ভেঙে ঝুলছে। রাতে ঘাটের সিঁড়িতেই অনেকে টয়লেট করছেন। স্থানীয়রা অনেকে বলেন, চেক ড্যাম নির্মাণ করে এই ঘাটে ১২ মাস জল ধরে রাখার ব্যবস্থা হবে বলে শুনেছিলাম। সেখানে বোটিং চালুর কথা ছিল। কিন্তু সেসব হওয়ার আগেই বিশ্ব বাংলা ঘাট তার সৌন্দর্য হারিয়েছে।
কলকাতা থেকে আসা এক পর্যটক অগ্নি রায় বলেন, অতিমারীর আগে তারাপীঠ এসেছিলাম। তখন বিশ্ব বাংলা ঘাটে বসে অনেকটা সময় কাটিয়েছিলাম। কিন্তু এখন এই ঘাট আবর্জনায় ভরে গিয়েছে। অন্ধকারে ডুবে থাকে ঘাট। আসলে সৌন্দর্য বাঁচিয়ে রাখতে গেলে পরিচর্যার দরকার। ঘাটের সেই রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে না। ফলে কোটি কোটি টাকা জলে যাচ্ছে। কিন্তু কী বলছে টিআরডিএ? যদিও টিআরডিএ-র ভাইস চেয়ারম্যান সুকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, গত বর্ষায় দ্বারকার জল ছাপিয়ে ইলেকট্রিক বোর্ড নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। আর ঘাটের সামনের দিকে কিছু মানুষ অস্থায়ীভাবে বসে ব্যবসা করছেন। তাঁরা ছাতা লাগানোর সময় ইলেকট্রিক তার ছিঁড়ে দিচ্ছেন। তবে এবছর কৌশিকী অমাবশ্যার আগেই বিশ্ববাংলা ঘাটের সংস্কার হবে। ঘাট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একজন লোক রাখা হবে। এদিকে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, অনেক আগেই ৭.২১ কোটি টাকা ব্যয়ে দ্বারকায় চেকড্যাম নির্মাণের জন্য ডিপিআর করে রাজ্যে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখনও অনুমোদন মেলেনি।