সংবাদদাতা, খড়্গপুর: পশ্চিম মেদিনীপুরের হাইস্কুলগুলিতে ‘সারপ্লাস’ বা উদ্বৃত্ত শিক্ষকের সংখ্যা ১৪৯। শুক্রবার সন্ধ্যায় সেই তালিকা প্রকাশ করেছে জেলা শিক্ষা দপ্তর (মাধ্যমিক)। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার থেকেই শুরু হচ্ছে বদলি প্রক্রিয়া তথা স্কুল বাছাই প্রক্রিয়া। শনিবার জেলা শিক্ষা দপ্তর সুত্রে জানা গিয়েছে, যে সব স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের তুলনায় শিক্ষকের সংখ্যা কম, সেই স্কুলগুলিতেই বদলি করা হবে বিভিন্ন বিষয়ের এই ১৪৯ জন শিক্ষককে। জেলায় ‘শূন্যপদ’ থাকা এমন স্কুলের সংখ্যা এক হাজারের বেশি বলে জানা গিয়েছে। সিনিয়ারিটির ভিত্তিতে এই উদ্বৃত্ত শিক্ষদের স্কুল বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকছে। অর্থাৎ, যে শিক্ষক যত আগে চাকরিতে যোগদান করেছেন, স্কুল বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি তত বেশি অগ্রাধিকার পাবেন। এদিকে, স্বচ্ছতার স্বার্থে শূন্যপদের তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন। জেলার বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) অমিত রায় বলেন, শিক্ষা দপ্তর ৩৫৪ জন উদ্বৃত্ত শিক্ষকের তালিকা পাঠালেও, আমরা সবদিক বিবেচনা করে ১৪৯ জনের তালিকা প্রকাশ করেছি। রাজ্যের নির্দেশিকা মেনে বিষয়টি স্বচ্ছতার সঙ্গেই সম্পন্ন করা হবে।
তৃণমূল জমানায় টাকার বিনিময়ে শিক্ষকদের শহর বা শহরাঞ্চলের স্কুলগুলিতে বদলি হয়ে আসার ভুরিভুরি অভিযোগ উঠেছিল। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরই ‘সারপ্লাস’ বা উদ্বৃত্ত শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন হাইস্কুলে উদ্বৃত্ত শিক্ষকের সংখ্যা ১৪৯। তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগ জনই মেদিনীপুর ও খড়্গপুর শহরের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা। মেদিনীপুর শহরের মোহানানন্দ বিদ্যামন্দির, নারায়ণ বিদ্যাভবন (বালক ও বালিকা), টাউন স্কুল (বালক ও বালিকা), কলেজিয়েট স্কুলে (বালক ও বালিকা) বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক উদ্বৃত্ত শিক্ষক রয়েছেন। খড়্গপুর শহরের সুভাষপল্লী জনকল্যাণ বিদ্যায়তন (বালক ও বালিকা), অতুলমণি হাইস্কুল (বালক ও বালিকা), ইন্দা কৃষ্ণলাল শিক্ষা নিকেতন, ভারতী বিদ্যাপীঠের অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকাই সারপ্লাসের তালিকায়। খড়্গপুর গ্রামীণের ভেটিয়াচন্ডী হাইস্কুল, শালবনী হাইস্কুলেও উদ্বৃত্ত শিক্ষকের সংখ্যা একাধিক। বিষয়ভিত্তিক উদ্বৃত্ব শিক্ষক ও তাঁদের কাউন্সেলিং-এর দিনক্ষণ প্রকাশ করেছে জেলা শিক্ষা দপ্তর। ১৫, ১৬, ১৮ ও ২৩ সেপ্টেম্বর মেদিনীপুর শহরের ডিআই অফিসে (জেলা শিক্ষা ভবনে) কাউন্সেলিং হবে বলেও জানা গিয়েছে। তবে, কোন স্কুলগুলিতে শূন্যপদ রয়েছে, সেই তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।
শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী শনিবার বলেন, স্বচ্ছতার স্বার্থে শূন্যপদের তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা উচিত ছিল। আমরা আগেই লিখিত আকারে দাবি জানিয়েছিলাম।
শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কাউন্সেলিং-এর দিনই বিষয়ভিত্তিক শূন্যপদের তালিকা দেখতে পাবেন উদ্বৃত্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা। সিনিয়ারিটির ভিত্তিতে সেই শূন্যপদ থেকে স্কুল বাছার সুযোগও পাবেন তাঁরা।