সংবাদদাতা, বজবজ: এখন যেখানে বজবজের পুরনো স্টেশন, ১৪৬ বছর আগে তার পাশেই বসত হাট। দূর-দূরান্ত থেকে নিয়মিত লোকজন আসতেন জিনিস কেনাবেচা করতে। তখন এর নাম ছিল গড়ের বাজার। সেই সময় এই হাটের দোকানদাররা কেনাবেচা যাতে আরও ভালো হয়, তারজন্য দেবী লক্ষ্মীর পুজো শুরু করেছিলেন। ১৪৬ বছর ধরে সেই লক্ষ্মী বন্দনা এখনও ধূমধাম করে চলে আসছে। তবে স্বাধীনতার পরবর্তীকালে ওই জায়গা কলকাতা বন্দর ও রেলের হাতে চলে যায়। তখন গড়ের বাজার উঠে চলে আসে বজবজের বাওয়ালির জমিদার মণ্ডলদের জমিতে। যা এখন নতুন বাজার নামে পরিচিত।
নতুন বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি স্মৃতিরঞ্জন ঘোষের দাবি, এই অঞ্চলে এত প্রাচীন বারোয়ারি লক্ষ্মীপুজো আর কোথাও নেই। শুধু তাই নয়, প্রতিবছর এই পুজোর জৌলুস আরও বাড়ছে। এক সময় বাজারে লক্ষ্মীপুজোর জন্য কোনও স্থায়ী জায়গা ছিল না। এখন স্থায়ী আটচালা ঘর হয়েছে। এই ঘরেই পুজো হয়। স্মৃতিরঞ্জনবাবু বলেন, আমাদের বাজার এখন কলেবরে বেড়েছে। বড়, মাঝারি ও ছোট মিলিয়ে প্রায় দেড়শো ব্যবসায়ী রয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই রোজগারের জায়গায় যাতে মা লক্ষ্মীর কৃপাদৃষ্টি সব সময় থাকে, তাই কোজাগরির আরাধনায় কোনও খামতি রাখা হয় না। এই পুজোর প্রতিমা থেকে যাবতীয় খরচ ব্যবসায়ীরা মিলিতভাবে দেন। এদিন রাতে নিয়ম, নিষ্ঠা সহকারে পুজো সম্পন্ন হয়েছে। আগামী বুধবার দুপুরে খিচুড়ি প্রসাদ হিসেবে বিতরণ করা হবে। কয়েক হাজার মানুষ সেই প্রসাদ নিতে আসবেন। শুক্রবার বজবজে শোভাযাত্রা সহকারে মা লক্ষ্মীকে গঙ্গার ঘাটে নিয়ে গিয়ে নিরঞ্জন করা হবে। -নিজস্ব চিত্র