রঞ্জুগোপাল মুখোপাধ্যায়, বাঁকুড়া: বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলে সবচেয়ে বেশি প্রকল্প রূপায়িত হয়েছে তালডাংরায়। ওই বিধানসভায় মোট ১৩৫টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। বিধায়ক কোটায় পাওয়া ৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার পুরোটাই খরচ হয়ে গিয়েছে। সেক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ অর্থ ব্যয় করে জেলার ১২টি বিধানসভার মধ্যে তালডাংরায় রেকর্ড প্রকল্প রূপায়ণ করা হয়েছে। গত পাঁচ বছরে ওই বিধানসভা দু’জন বিধায়ক পেয়েছে। বর্তমান বিধায়ক ফাল্গুনী সিংহবাবুকে ফের এবার তৃণমূল প্রার্থী করেছে। ফল্গুনীবাবু বলেন, বিধানসভার অন্তর্গত সব অঞ্চলেই আমরা উন্নয়ন করেছি। প্রশাসনের সহযোগিতায় সুষ্ঠুভাবে প্রকল্প রূপায়িত হয়েছে। সিংহভাগ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। এরফলে তালডাংরাবাসী উপকৃত হয়েছে। উন্নয়নের মাধ্যমে বিরোধীদের আমরা টেক্কা দেব।
ওই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সৌভিক পাত্র বলেন, তৃণমূলের আমলে উন্নয়ন সেভাবে হয়নি। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে তালডাংরায় প্রকৃত উন্নয়ন করে আমরা দেখিয়ে দেব।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে তালডাংরায় তৃণমূল প্রার্থী অরূপ চক্রবর্তী জয়ী হয়েছিলেন। ২০২৪ সালে অরূপবাবু বাঁকুড়া লোকসভায় ঘাসফুল শিবিরের প্রার্থী হন। তিনি সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর ওই বছরের নভেম্বর মাসে তালডাংরায় উপনির্বাচন হয়। ওই ভোটে ফাল্গুনীবাবু জয়লাভ করেন। ফলে ওই বিধানসভায় গত পাঁচ বছরে দু’জন বিধায়ক দায়িত্ব পালন করেন। তাঁরা তাঁদের এলাকা উন্নয়ন তহবিলের টাকা ফেলে না রেখে দ্রুততার সঙ্গে খরচ করেন। ফাল্গুনীবাবু বলেন, অরূপবাবুর সময়কাল থেকে তালডাংরায় ব্যাপক উন্নয়ন শুরু হয়। তাঁর কোটার টাকায় বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রাম রাজ্য সড়কের শিবডাঙ্গা মোড়ে সিধু-কানুর মূর্তি বসানো হয়। ওই মূর্তি স্থাপনের মাধ্যমে আমরা আদিবাসী সমাজের দুই নেতার প্রতি সম্মান জানিয়েছি। এছাড়াও এলাকার ফুটবল ময়দানগুলিকে আমরা খেলাধুলোর উপযোগী করে গড়ে তুলেছি। বেলডাঙ্গা ফুটবল মাঠে শেড, মঞ্চ তৈরি হয়েছে। ওইসব এলাকায় সৌরবাতি বসানো হয়েছে। তালডাংরা এলাকায় পানীয় জলের সমস্যা ছিল। সেই কারণে আমরা পাঁচমুড়া ও হাড়মাসড়ায় ওয়াটার এটিএম নির্মাণ করা হয়।
এলাকাবাসীর স্বার্থে সামগ্রিক উন্নয়নের কাজও করা হয়েছে। ছাতাপুরে আমরা কমিউনিটি হল নির্মাণ করেছি। বিবড়দা বাজার সমিতির অফিসঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। জঙ্গলমহলের অন্যতম কেন্দ্র তালডাংরা বিধানসভার কিছু পঞ্চায়েত এলাকা বাঁকুড়া সদর থেকে বেশকিছুটা দূরে অবস্থিত। সেখানে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতাল পৌঁছতে দেরি হয়ে যায়। বিষয়টি লক্ষ্য করে আমি পাঁচমুড়া, তালডাংরা ও বিক্রমপুর অঞ্চলে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স দিয়েছি। শবদেহ বহনের জন্য সিমলাপাল থানাকে একটি স্বর্গরথ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বিধায়ক কোটায় একাধিক পথবাতি, নিকাশি নালা, রাস্তা সহ অন্যান্য কাজ করা হয়েছে।