নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: স্কুল থেকে ৮০ মিটার দূরত্বে খোলা মাঠের প্রান্তে ছাদহীন শৌচালয়। ক্লাসরুম থেকে শৌচকর্ম করতে যাতায়াতেই অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় অতিবাহিত হয়ে যায়। সারা বছর যেমন তেমন, বর্ষায় জলকাদা পেরিয়ে ওই শৌচালয়ে যেতে হয়। সেইসঙ্গে ওই শৌচালয়ে সাপের উপদ্রবও হয়। আড়াই বছর ধরে এমনই শৌচালয় সংক্রান্ত ভোগান্তি মেনে ক্লাস করতে হচ্ছে রায়গঞ্জ শহর লাগোয়া মালঞ্চা হাইস্কুলের ১৩০০’র বেশি পড়ুয়ার।
স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, দীর্ঘ বছর স্কুলে বিদ্যুৎ ছিল না। সেসময় সর্বক্ষণের জন্য জলও ছিল অপ্রতুল। তাই দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পেতে অনেক বছর আগে ক্লাসরুম থেকে দূরে ওই শৌচাগার তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এখন পড়ুয়ার সংখ্যা বেড়েছে। স্কুলে বিদ্যুৎ পরিষেবা চালু হয়েছে। পর্যাপ্ত জলও আছে। কিন্তু বহুদিন ধরে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও ক্লাস রুমের কাছে শৌচাগার তৈরি করা যায়নি। তবে ব্লক প্রশাসন সম্প্রতি তৎপরতা শুরু করেছে।
রায়গঞ্জের বিডিও শ্যারং তামাং বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শৌচাগারের সমস্যা নিয়ে কথা হয়েছে। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া মিটিয়ে দ্রুত শৌচাগার তৈরির ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
১৯৪৯ সালে বড়ুয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় স্কুলটি স্থাপিত হয়। সম্প্রতি ৭৫ বছর পূর্তি হয়েছে। স্কুলের সার্বিক পরিকাঠামো বর্তমানে ঝা চকচকে। ৩৩ জন শিক্ষক রয়েছেন। সম্প্রতি স্কুলে স্মার্ট ক্লাসরুমও তৈরি হয়েছে। তারপরেও শৌচাগার নিয়ে সমস্যা রয়ে গিয়েছে।
স্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী শাবনূর ইয়াসমিন, কল্যাণ দাসরা বলে, স্কুলে যখন ক্লাস চলে বা পরীক্ষা হয় তখন শৌচাগার ব্যবহার করতে অনেকটা দূরে যেতে হয়। এতে প্রচুর সময় নষ্ট হয়। খোলা মাঠে ছাদহীন শৌচাগার নিয়েও সমস্যা হয়। স্কুলের ঘেরাটোপের মধ্যেই শৌচাগার তৈরির প্রয়োজন রয়েছে। মালঞ্চা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক অজয় রায় বলেন, দীর্ঘ বছর স্কুলে বিদ্যুৎ পরিষেবা ছিল না। সেসময় সর্বক্ষণের জন্য জলও ছিল অপ্রতুল। তাই দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পেতে অনেক বছর আগে ক্লাসরুম থেকে দূরে ওই শৌচাগার তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এখন পড়ুয়া সংখ্যা বেড়েছে। স্কুলে বিদ্যুতের ব্যবস্থা হয়েছে। পর্যাপ্ত জলও আছে। কিন্তু বহুদিন ধরে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও ক্লাস রুমের কাছে শৌচাগার তৈরি করানো যায়নি। তাই ওই পুরনো শৌচাগার নিয়ে ভোগান্তি অব্যাহত। তবে ব্লক প্রশাসনকে এব্যাপারে বলা হয়েছে। তারা তৎপরতা শুরু করেছে।