সংবাদদাতা, কল্যাণী: নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী রাজ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে এসআইআর। তা নিয়েই আপাতত রাজ্য তোলপাড়। ওপার বাংলা থেকে আসা বহু ছিন্নমূল মানুষ এতে আতঙ্কিত। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম বা মা-বাবার নাম নেই, তাঁরা নানা জনের নানা মত শুনতে শুনতে আরও বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছেন। এই অবস্থায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল নদীয়ার চাকদহ ব্লকে। নির্বাচন কমিশন আগেই জানিয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়া যাঁরা হাতেকলমে করবেন, সেই বিএলও (বুথ লেভেল অফিসার)-দের নাম ২০০২-এর ভোটার তালিকায় থাকা আবশ্যিক। কিন্তু এসআইআর ঠিকমতো শুরু হতে না হতেই জানা গিয়েছে, এই ব্লকের ১৩ জন বিএলওর নাম নেই ২০০২ সালের ভোটার তালিকায়! বিষয়টি সামনে আসার পর তুমুল শোরগোল পড়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে। যাঁদের নিজেদেরই তালিকায় নাম নেই, তাঁরা কীভাবে অন্যের নাম থাকা বা না থাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেই প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে। যদিও প্রশাসনের দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ায় সবে ভোটার তালিকার ম্যাপিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। বাড়ি বাড়ি সার্ভে শুরু হলেই গোটা বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে প্রথম এই নদীয়া জেলারই দুই যুবকের কাছে অসম থেকে এনআরসির নোটিশ এসেছিল। তাঁদের নথি নিয়ে দেখা করতে বলা হয়েছিল। পরে উত্তরবঙ্গ সহ রাজ্যের আরও কয়েক জায়গায় একইভাবে এসেছে এনআরসির নোটিশ। এর মধ্যে এনআরসি আতঙ্কে পানিহাটির এক বাসিন্দা আত্মঘাতী হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই আবহে খোদ বিএলওদের নামই ২০০২-এর ভোটার তালিকায় না থাকা নিয়ে শোরগোল হওয়াটাই স্বাভাবিক বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। রানাঘাট লোকসভার বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার বলেন, ‘সিএএর প্রয়োজন এবার সবাই অনুভব করবে। বাংলাদেশ থেকে এসে ভোটার, আধার কার্ড বানিয়ে নিলেই ভারতের নাগরিক হওয়া যায় না। রাজ্যের শাসক দলেরও এটা বোঝা উচিত।’ চাকদহেরই বাসিন্দা তথা রাজ্য যুব তৃণমূলের সহ-সভাপতি শুভঙ্কর সিংহ বলেন, ‘বিষয়টি প্রশাসন দেখছে। এখনো এসআইআরের ভেরিফিকেশন শুরু হয়নি। এ বিষয়ে দলগতভাবে আমাদের কিছু বলার নেই।’
চাকদহ ব্লকের যে ১৩ জন বিএলওর নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নেই, তাঁদের মধ্যে একজন রনি অধিকারী। তিনি তাতলা ১ নম্বর পঞ্চায়েতের মষরা মাঠপাড়া এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় বিষ্ণুপুর হাড়িপুকুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তাঁর পরিবারের সদস্যদের দাবি, রনির বাবা এলাকায় খুব বেশি থাকতেন না বলে ভোটার কার্ড তৈরি করাননি। তবে তাঁর পরিবারের সমস্ত নথি রয়েছে। এমনকি রনি যে প্রাথমিক স্কুলে পড়েছেন, সেটিও ওই এলাকাতেই। গোটা বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
চাকদহ ব্লকের বিডিও সমীরণকৃষ্ণ মন্ডল বলেন, ‘বিএলওদের খুঁটিনাটি তথ্য যাচাই করা হয়েছে। ব্লকের ৩২২ জন বিএলওর মধ্যে ১৩ জনকে ২০০২ সালের তালিকা অনুযায়ী এখনও লোকাল লিংক করে উঠতে পারিনি আমরা। এরপর বাড়ি বাড়ি সার্ভের কাজ যখন শুরু হবে, তখন তাঁরা কী ব্যাখ্যা দেন, তার ভিত্তিতে এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব।’