Bartaman Logo
১৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শহরের ৫৮ ওয়ার্ড ভেঙে হচ্ছে ১২৩টি, অক্ষত থাকছে ৮৬টি!

কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের প্রাথমিক খসড়া (প্রিপারেটরি ড্রাফট) ইতিমধ্যেই প্রকাশ করেছে রাজ্য

শহরের ৫৮ ওয়ার্ড ভেঙে হচ্ছে ১২৩টি, অক্ষত থাকছে ৮৬টি!
  • ১৪ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অর্ক দে, কলকাতা: কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের প্রাথমিক খসড়া (প্রিপারেটরি ড্রাফট) ইতিমধ্যেই প্রকাশ করেছে রাজ্য। যার উপর মতামত দেওয়ার সুযোগ ছিল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। কিন্তু, কোন ওয়ার্ডের সংখ্যা বদলে কত নম্বর হল, কোন ওয়ার্ডে কত ভোটার থাকল, কোন ওয়ার্ডে ক’টি পার্ট বা বুথ, সেই ওয়ার্ড কোন বিধানসভা এলাকার মধ্যে পড়ছে— এসব প্রশ্নের উত্তর ওই তালিকা ছিল না। কলকাতা পুরসভার ডিলিমিটেশন সংক্রান্ত সংশোধনী বিল ইতিমধ্যেই পাশ হয়েছে বিধানসভায়। রাজ্যপালের স্বাক্ষর হলেই আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে। এরপর গেজেট বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ২০৯টি ওয়ার্ডের চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশ করবে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। সেই খসড়ার উপর নাগরিক, রাজনৈতিক দলের মতামত চাওয়া হবে। কলকাতা পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ড বেড়ে ২০৯টি হতে চলেছে। দপ্তর সূত্রে খবর, শহরে ৫৮টি এমন ওয়ার্ড রয়েছে, সেগুলিকে ভেঙে ১২৩টি করা হচ্ছে। বাকি ৮৬টি ওয়ার্ড ভাঙা হচ্ছে না। তবে, ডিলিমিটেশনের জেরে সেইসব ওয়ার্ডের সংখ্যায় বদল আসছে।

Advertisement

ইতিমধ্যেই প্রাথমিক খসড়ার ভিত্তিতে কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের তরফে পুরসভায় গিয়ে লিখিত বক্তব্য জানিয়ে আসা হয়েছে। বৃহস্পতিবার, পুর কমিশনার স্মিতা পান্ডের সঙ্গে দেখা করে প্রদেশ কংগ্রেসের প্রতিনিধিদল। ইতিমধ্যে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে কংগ্রেসের তরফেও প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, রাজ্যপালের স্বাক্ষর হওয়ার পর এই সংক্রান্ত গেজেট নোটিফিকেশন জারি করবে রাজ্য। আশা করা যায়, আগামী ৭-১০ দিনের মধ্যেই সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তারপর ফের ২০৯টি ওয়ার্ডের সীমানা উল্লেখ করে নয়া খসড়া প্রকাশিত হবে। কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, মূলত ভোটার সংখ্যার নিরিখেই ডিলিমিটেশন করা হচ্ছে। ওয়ার্ডগুলিকে ভাগ করার সময় ইংরেজি অক্ষর (এ, বি, সি ইত্যাদি) অনুযায়ী নম্বর দেওয়া হয়েছে। পরে ওয়ার্ডভিত্তিক নতুন নম্বর দেওয়া হয়েছে। এই পুনর্বিন্যাসের জেরে নাগরিক পরিষেবা তৃণমূল স্তরে পৌঁছে দিতে আরও সুবিধা হবে বলেই মনে করছে আধিকারিকদের একাংশ। কারণ, ডিলিমিটেশনের ফলে সবটাই বিকেন্দ্রীকরণ হবে। আগে, কিছু ওয়ার্ডে বিপুল সংখ্যক ভোটার ছিল, ভবিষ্যতে সেগুলির আয়তন যেমন কমবে, তেমনই হ্রাস পাবে ভোটার সংখ্যা। এর ফলে বিভিন্ন ওয়ার্ডের মধ্যে সামঞ্জস্য আসবে। আগে অফিসারদের ঘাড়ে এক একটি বড়ো ওয়ার্ডে পরিষেবা দেওয়ার যে চাপ থাকত, সেই চাপ কিছুটা হলেও কমবে। যেকারণে নাগরিক পরিষেবা আরও সহজতর হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। কোন ওয়ার্ড ভেঙে কতগুলি হল, নতুন ওয়ার্ডের নম্বর কত, আগের ওয়ার্ড ক্রমিক সংখ্যায় কতটা এগল বা পিছল, কোন ওয়ার্ডে ক’টি পার্ট বা বুথ রইল, এইসব প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই রয়েছে নাগরিকদের মনে। রাজনৈতিক দলগুলির তরফেও বারবার এই উত্তর চাওয়া হয়েছে। সরকার অবশ্য জানিয়েছে, সর্বদলীয় বৈঠক হবে। প্রশাসন সূত্রে খবর, আইন অনুসারে খসড়ায় অত খুঁটিনাটি লেখার সুযোগ নেই। ফলে পুনর্বিন্যাসের চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়গুলি নিয়ে ধোঁয়াশা থেকে যাবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ