Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভোটের ডিউটিতে বাঁকুড়া মেডিকেলের ১২৩ জন কর্মীকে ডাক, প্রশ্নে পরিষেবা

ভোটের ডিউটির জন্য বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১২৩ জন কর্মীকে তুলে নেওয়ার নোটিস পাঠানো হয়েছে। একলপ্তে শতাধিক কর্মী ভোটের কাজে চলে গেলে হাসপাতালের পরিষেবা ভেঙে পড়বে বলে কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে।

ভোটের ডিউটিতে বাঁকুড়া মেডিকেলের ১২৩ জন কর্মীকে ডাক, প্রশ্নে পরিষেবা
  • ৩০ মার্চ, ২০২৬ ১৪:০৩
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: ভোটের ডিউটির জন্য বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১২৩ জন কর্মীকে তুলে নেওয়ার নোটিস পাঠানো হয়েছে। একলপ্তে শতাধিক কর্মী ভোটের কাজে চলে গেলে হাসপাতালের পরিষেবা ভেঙে পড়বে বলে কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে। বিশেষ করে অপারেশন থিয়েটারগুলিতে তালা পড়ে যেতে পারে বলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে জেলাশাসকের দ্বারস্থ হতে চলেছে মেডিকেল কর্তৃপক্ষ। 

Advertisement

উল্লেখ্য, এর আগে বাঁকুড়া পুরসভার জলকল বিভাগের সব কর্মীকে ভোটের ডিউটির নোটিস পাঠানো হয়। তার জেরে গরমে পানীয় জলের অভাবে শহরে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে পুর কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছে। পুরসভার জলকল বিভাগের পর স্বাস্থ্যের মতো জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের ভোটের কাজে নেওয়ার ফলে পরিস্থিতি ঘোরালো হয়ে উঠেছে। শেষ কবে একসঙ্গে এতজন কর্মীকে ভোটের কাজে তোলা হয়েছে তা হাসপাতালের কর্তারা মনে করতে পারছেন না।
জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচন আধিকারিক অনীশ দাশগুপ্ত বলেন, ভোটগ্রহণের জন্য বিপুল সংখ্যক কর্মী প্রয়োজন। মেডিকেলের বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাঁকুড়া মেডিকেলের এমএসভিপি অর্পণকুমার গোস্বামী বলেন, হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের ১২৩ জন কর্মীকে ভোটের ডিউটি দেওয়া হয়েছে। তাঁরা চলে গেলে পরিষেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্ন হবে। অধ্যক্ষকে নিয়ে আমি দ্রুত জেলাশাসকের সঙ্গে দেখা করব। ভোটের ডিউটিতে যত কম সম্ভব স্বাস্থ্য কর্মীকে নিযুক্ত করার জন্য আমরা তাঁকে অনুরোধ করব। 
বাঁকুড়া মেডিকেল সূত্রে জানা গিয়েছে, হাসপাতালের ৫৫ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মী ও ২৩ জন কর্মবন্ধুকে ভোটের কাজে তোলা হচ্ছে। বাকিদের মধ্যে টেকনিশিয়ান, ফার্মাসিস্ট, ফিজিওথেরাপিস্ট সহ অন্যান্য কর্মী রয়েছেন। ওইসব কর্মীরা হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে কাজ করেন। চতুর্থ শ্রেণির কর্মী ও কর্মবন্ধুদের একাংশ অপারেশন থিয়েটারের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। তাঁরা চক্ষু, নাক-কান-গলা, সার্জারি সহ অন্যান্য অপারেশন থিয়েটারে তাঁরা দৈনিক ডিউটি করেন। প্রসূতি বিভাগ চালানোর পিছনে কর্মবন্ধুদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। ফলে ওই দুই ধরনের ৭৮ জন কর্মীকে তুলে নেওয়া হলে সিজার ডেলিভারির উপরেও প্রভাব পড়বে। এমনিতেই জঙ্গলমহলের গুরুত্বপূর্ণ ওই হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরেই কর্মীসংকটে ভুগছে। কর্মবন্ধু ও চতুর্থ শ্রেণির প্রায় ৫০০ জন কর্মী থাকার কথা। বর্তমানে মাত্র একশোর কিছু বেশি কর্মী রয়েছেন। ফলে এমনিতেই পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের নাভিশ্বাস উঠছে। গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো ভোটের ডিউটিতে কর্মীদের তুলে নেওয়া হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে।  হাসপাতালের এক আধিকারিক বলেন, প্রশিক্ষণ ও ভোট মিলিয়ে মোট পাঁচদিন কর্মীরা হাসপাতালে অনুপস্থিত থাকবেন। ভোটের সময় টানা তিনদিন কর্মী পাওয়া না গেলে আমরা পরিষেবা দিতে পারব না। ভোটের জন্য কর্মী প্রয়োজন। কিন্তু, সবাইকে নিলে কীভাবে হাসপাতাল চলবে? প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, নির্বাচন কমিশন ৩২৮৯জন বুথ লেভেল অফিসারকে এবার আলাদা করে ভোটের ডিউটি দেবে। তাঁরা মূলত প্রাথমিক শিক্ষক। আগে তাঁরা ভোটগ্রহণের কাজ করতেন। এবার তাঁদের আমরা নিতে পারছি না। একধাক্কায় তিন হাজারের বেশি ভোটকর্মীরা ঘাটতি আমাদের বিড়ম্বনায় ফেলেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ