নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এক নাবালককে আটকে রেখে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠল তারই প্রতিবেশী এক যুবকের বিরুদ্ধে। নাবালককে বাড়িতে আটকে রেখে বিকৃত যৌন নির্যাতন চালানোর অভিযোগে থানার দ্বারস্থ হয়েছেন নির্যাতিত বালকের বাবা। তাঁর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এন্টালি থানা পকসো আইনে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। নাবালককে চিকিৎসকদের পরামর্শে রাখা হয়েছে।
১২ বছরের ওই বালক এন্টালি থানা এলাকার বাসিন্দা। অন্যান্য দিনের মতো গত সোমবার বিকালেও সে পড়তে গিয়েছিল ট্যাংরা এলাকায় প্রাইভেট টিউটরের কাছে। সাধারণত রাত ৯টার মধ্যেই সে টিউশন থেকে বাড়ি ফিরে আসে। কিন্তু এদিন রাত ১০টা বেজে গেলেও বাড়ি আসেনি। তখন তার বাবা ও পরিবারের সদস্যরা খোঁজ শুরু করেন। টিউশনের শিক্ষককে ফোন করেন ছেলেটির বাবা। শিক্ষক তাঁকে জানান, রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ পড়া শেষ হয়েছে। ছুটির পর সে বাড়ির রাস্তা ধরেছে। একথা শুনে ওই রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর নেন বাড়ির লোকজন। সেই সময় স্থানীয় এক যুবক ছেলেটির বাবাকে জানান, টিউশন থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাঁর ছেলেকে তাঁদেরই প্রতিবেশী এক যুবকের সঙ্গে দেখেছেন। তড়িঘড়ি সেই বাড়িতে যান নাবালকের বাবা। বেশ কিছুক্ষণ ধাক্কাধাক্কির পর দরজা খোলে অভিযুক্ত যুবক। দেখা যায়, সেখানেই রয়েছে ওই নাবালক। তার মুখ দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হলেও প্রাথমিকভাবে কিছুই বুঝে উঠতে পারেননি অভিযোগকারী। অভিযুক্ত যুবক জানায়, একসঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার জন্যই সে ছেলেটিকে বাড়িতে নিয়ে এসেছিল। খাওয়ার পর তাকে বাড়িতে ছেড়ে দিয়ে আসত। এসব কথাবার্তার পর ছেলেকে নিয়ে বাড়ি চলে আসেন বাবা।
বাড়ি আসার পর কিছুটা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়েছিল ছেলেটি। মঙ্গলবার সারাদিন খাওয়াদাওয়া করেনি। রাতেও খাবার খেতে না চাওয়ায় বকাবকি করেন বাবা-মা। তখনই সে তার উপর ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের গোটা ঘটনা জানায়। অভিযোগ, ঘরে আটকে রেখে তার উপর প্রায় এক ঘণ্টা ধরে যৌন নির্যাতন চালিয়েছে প্রতিবেশী ওই যুবক। ভয় দেখিয়ে তাকে দিয়ে বিকৃত যৌন ইচ্ছা পূরণ করেছে সে। শুধু তাই নয়, ওই ঘটনার কথা বাড়ির লোককে জানালে তাকে দিয়ে ফের একই কাজ করানো হবে বলে ভয় দেখানো হয়। ঘটনার বিবরণ শুনে স্থানীয়রা ওই যুবকের বাড়িতে যান। কিন্তু ততক্ষণে সেখান থেকে অভিযুক্ত চম্পট দিয়েছে। এরপরেই এন্টালি থানায় গিয়ে তার নামে লিখিত অভিযোগ করেন নির্যাতিতের বাবা। পকসো আইনের ৬ নম্বর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। বালকের মেডিকেল পরীক্ষা করানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের খোঁজ চলছে।



