Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বেআইনি কল সেন্টার চালানোর অভিযোগে আটকে রেখে টাকা আদায়! স্পেশাল ইউনিটের ১২ অফিসার বদলি

জোর করে আটকে রেখে টাকা আদায়ে অভিযুক্ত খোদ পুলিস! বন্দর বিভাগের স্পেশাল ইউনিটের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর এই অভিযোগ সামনে এসেছে।

বেআইনি কল সেন্টার চালানোর অভিযোগে আটকে রেখে টাকা আদায়! স্পেশাল ইউনিটের ১২ অফিসার বদলি
  • ১৭ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জোর করে আটকে রেখে টাকা আদায়ে অভিযুক্ত খোদ পুলিস! বন্দর বিভাগের স্পেশাল ইউনিটের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর এই অভিযোগ সামনে এসেছে। যারা মূলত অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, বেআইনি কল সেন্টার ও বেটিং সংক্রান্ত অপরাধ দমনে বিশেষ দক্ষ বলে পরিচিত। স্পেশাল সেকশন পোর্ট ডিভিশনে (এসএসপিডি) কর্মরত অফিসার ও পুলিস কর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে এই অভিযোগকে ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বন্দর বিভাগের এক পদস্থ আধিকারিকের কাছে অভিযোগ হওয়ার পরই অনুসন্ধান শুরু হয়। অভিযোগের বাস্তবতা মেলায়, তড়িঘড়ি এই ইউনিটের ১২জনকে বদলি করা হয়েছে বলে খবর। এই বিষয়টি জানতে চেয়ে ডিসি পোর্ট হরিকৃষ্ণ পাইকে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও, তিনি কোনও উত্তর দেননি। লালবাজারের এক কর্তা  রুটিন বদলি বলে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছেন।
বন্দর এলাকায় অপরাধ দমনে তৈরি হয় এসএসপিডি। প্রথম দিকে বেআইনি অস্ত্র ও মাদক কারবার আটকানো ছিল এই ইউনিটের কাজ।  বেআইনি কল সেন্টার ও ক্রিকেট বেটিং সিন্ডিকেটের রমরমা শুরু হলে, তা প্রতিরোধে তাদের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই কারণে এই ইউনিটে কর্তব্যরত অফিসাররা বেআইনি কল সেন্টারের মাধ্যমে সাইবার প্রতারণার ঘটনা ঘটছে কি না, এই নিয়ে খোঁজখবর চালান। মাস দুই আগে এই ইউনিটের কাছে খবর আসে, ভুয়ো নথি দিয়ে তোলা সিম ব্যবহার করে সাইবার জালিয়াতি চলছে বন্দর এলাকার নাদিয়াল, রাজাবাগান, গার্ডেনরিচ, একবালপুরসহ অন্য থানা এলাকায়। পাশাপাশি ক্রিকেটে বেটিংয় চক্র এই সিম ব্যবহার করছে। লালবাজার সূত্রে খবর, মাস খানেক আগে ক্রিকেট বেটিং ও বেআইনি কল সেন্টার চালানোর অভিযোগে কয়েকজনকে আটক করে এসএসপিডিতে নিয়ে আসা হয়। নিয়মানুযায়ী সেখানে নিয়ে আসার পর কোনও তথ্যই নথিভুক্ত করা হয়নি। বলা হয়, তাঁদের কল সেন্টারগুলি থেকে প্রতারণা চলছে।  অ্যাপের মাধ্যমে ক্রিকেট বেটিং চলছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা হয় বলে জানা যাচ্ছে। টাকা দিলে কোনও কেস রুজু  না করেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে, এমন অভিযোগও সামনে আসে।  চাপে পড়ে মামলার হাত থেকে বাঁচতে সকলেই  টাকা দিয়ে ছাড়া পান। জানা যাচ্ছে, কারও কাছে ২৫ লক্ষ আবার কারও কাছে ১১ লক্ষ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। পুলিস কর্মীদের একাংশের দাবি, এসএসপিএডির অফিসারদের একাংশ মাস খানেক ধরেই বিভিন্ন ব্যক্তিকে তুলে এনে টাকা আদায় করে ছেড়ে দিচ্ছিলেন। ছাড়া পাওয়া সেরকমই এক অভিযুক্ত বন্দর বিভাগের পুলিসের এক শীর্ষ কর্তার কাছে অভিযোগ করেন। কোন কোন অফিসার জোর করে আটকে রেখে টাকা আদায় করেছেন, তাঁদের নামও দেওয়া হয়। তার ভিত্তিতে বিভাগীয় অনুসন্ধান শুরু হয়। যাঁদের নাম উঠে আসে সকলের সঙ্গেই কথা বলেন পদস্থ আধিকারিকরা। তাঁদের ব্যাখ্যা সন্তোষজনক মনে হয়নি কর্তাদের। এরপরই এসএসপিডির ১৮ জন পুলিস কর্মীর মধ্যে ১২ জনকেই বদলি করে বিভিন্ন থানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এই বদলি নিয়ে ডিসি পোর্টকে হোয়াটস অ্যাপ মেসেজ পাঠানো হলেও, এই খবর লেখা পর্যন্ত কোনও উত্তর আসেনি। যদিও ব্লুক টিক জানান দিচ্ছে তিনি মেসেজটি দেখেছেন।  লালবাজারের এক কর্তা যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। 

Advertisement

 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ