Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

সিডনির সৈকতে জঙ্গি হানায় হত ১৫ জন, খতম এক বন্দুকবাজও

সেই দু’হাজার দুশো বছর আগে গ্রীকদের হাত থেকে জেরুজালেমকে উদ্ধার করেছিলেন ইহুদিরা।

সিডনির সৈকতে জঙ্গি হানায় হত ১৫ জন, খতম এক বন্দুকবাজও
  • ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সিডনি: সেই দু’হাজার দুশো বছর আগে গ্রিকদের হাত থেকে জেরুজালেমকে উদ্ধার করেছিলেন ইহুদিরা। জয়কে স্মরণীয় করে রাখতে প্রতি বছর হানুকা উৎসবে মেতে ওঠেন ইহুদি ধর্মাবলম্বী মানুষজন। আর রবিবার অস্ট্রেলিয়ার সৈকত শহর সিডনিতে সেই জয়ের আনন্দ উৎসব বদলে গেল বিভীষিকায়। দুই বন্দুকবাজের আক্রমণে প্রাণ হারালেন দুই পুলিশ আধিকারিক ও এক শিশু সহ ১৫ জন। পালটা গুলিতে মৃত্যু হয়েছে এক বন্দুকবাজের। অপর হামলাকারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। গুলিতে জখম হয়েছেন বেশ কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী সহ ৪০ জন। বন্দুকবাজদের এই আক্রমণকে ‘জঙ্গি হামলা’ বলে মন্তব্য করেছেন নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের কমিশনার মাল লেনন। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত হামলাকারী পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত নাভিদ আক্রম। ২৪ বছরের নাভিদের বাড়িতে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার নিন্দা করেছে তেল আভিভ। ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরগগ বলেছেন, ‘এই জঘন্য হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইহুদি ভাইবোনেদের পাশে রয়েছি।’ হামলার নিন্দা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘এই দুঃখের মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়ার পাশে রয়েছে ভারত।’ হামলার তীব্র নিন্দা করে অস্ট্রেলিয়ার পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে প্যালেস্তানইও। 

Advertisement

আটদিন ব্যাপী হানুকা উৎসবের রবিবারই ছিল প্রথম দিন। সিডনির বন্ডি সৈকতে সেই উপলক্ষ্যে জমা হয়েছিলেন কয়েকশো মানুষ। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ হঠাৎই সেখানে হাজির হয় দুই বন্দুকবাজ। এরপর ঘণ্টাখানেক ধরে চলে তাদের তাণ্ডব। সন্ধ্যা সাতটা ৪৭ নাগাদ এক্স হ্যান্ডলে সকলকে সতর্ক করে বার্তা পাঠায় নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ। তাতে বলা হয়, ‘ঘটনাস্থলে যাঁরা রয়েছেন, তাঁরা দ্রুত নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিন।’ পরে দ্বিতীয় এক্স বার্তায় জানানো হয়,  ‘কমপক্ষে দশজন নিরীহ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও মৃত্যু হয়েছে এক বন্দুকবাজেরও। অপর বন্দুকবাজের অবস্থা সংকটজনক।’ 
ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে দেখা যাচ্ছে কালো পোশাক পরে দুই বন্দুকবাজ ভিড় লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছে। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, বন্দুকবাজদের লক্ষ্য ছিল মূলত শিশু ও বয়স্করা। গুলি চালানো শুরু হওয়ার পরেই আতঙ্কে মানুষজন ছোটাছুটি করছেন। অনেককে সেই সময় সিপিআর দিতে দেখা গিয়েছে। এই অবস্থায় আহমেদ আল আহমেদ নামে এক সাধারণ মানুষের সাহসিকতা নজর কেড়েছে সকলের। 
দেশের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ‘জঙ্গি হামলা’য় সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছে বিরোধীরা। অস্ট্রেলিয়ার বিরোধী দলনেত্রী সুসান লি বলেন, ‘এই হামলায় অস্ট্রেলিয়ার মানুষ মর্মাহত। প্রধানমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে আমিও সকলকে পুলিশ এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার আর্জি জানাচ্ছি। দেশের ইহুদি মানুষজনের পাশে রয়েছি। এই শোক এবং বিপর্যয়ের সময় অস্ট্রেলিয়াবাসীকে ঘৃণার বিরুদ্ধে দৃঢ়তার সঙ্গে মাথা তুলে দাঁড়াতে হবে।’ এই অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী আন্টোনি আলবানিজের মন্তব্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়ার ইহুদি অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের কথায়, ‘দুঃখপ্রকাশের সময় ইহুদি সম্প্রদায়ের নাম উল্লেখ পর্যন্ত করেননি। কী অসম্মান! ইহুদিদেরই টার্গেট করা হয়েছে। ইহুদিরাই মারা গিয়েছেন।’
জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ফ্রান্সের বাসিন্দা ড্যান এলকায়াম। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করে পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ।  হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন নিউ ইয়র্কের মেয়র  জোহরান মামদানিও।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ