Bartaman Logo
২ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নতুন সরকারের তিন মাসেরও কম সময়ে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মীর উপর ১২ বার হামলা

‘সুশাসন’, ‘ভরসা ইন-ভয় আউট’—এইসব স্লোগানকে হাতিয়ার করে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি সরকার। ডাক্তার-স্বাস্থ্যকর্মীরাও আশায় ছিলেন, এইবার হয়তো ‘ক্রিমিনালরা’ যখন ইচ্ছা হাসপাতালে ঢুকে তাঁদের উপর হামলা করবার সাহস পাবে না।

নতুন সরকারের তিন মাসেরও কম সময়ে  ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মীর উপর ১২ বার হামলা
  • ২ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘সুশাসন’, ‘ভরসা ইন-ভয় আউট’—এইসব স্লোগানকে হাতিয়ার করে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি সরকার। ডাক্তার-স্বাস্থ্যকর্মীরাও আশায় ছিলেন, এইবার হয়তো ‘ক্রিমিনালরা’ যখন ইচ্ছা হাসপাতালে ঢুকে তাঁদের উপর হামলা করবার সাহস পাবে না। হেনস্তা করবার আগে একশোবার ভাববে। ভয় পাবে দুষ্কৃতীরা। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে হচ্ছে ঠিক উলটোটাই। 

Advertisement

চিকিৎসক সংগঠনের পরিসংখ্যানই বলছে, ৯ মে থেকে ৩১ জুলাই—নয়া সরকারের তিনমাসেরও কম সময়ে সরকারি-বেসরকারি স্বাস্থ্যক্ষেত্রে লাগাতার হামলা চলছে। রাজ্যজুড়ে ১২ বার হিংসার শিকার হয়েছেন ডাক্তার-স্বাস্থ্যকর্মীরা। এসব ঘটনা ঘটেছে—পুঞ্চা, করণদিঘি, হাবড়া, বিষ্ণুপুর, আসানসোল, ইসলামপুরে। মুকুন্দপুরে একটি করে প্রাইভেট হাসপাতালে। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে। জঙ্গিপুর, গঙ্গারামপুর, রঘুনাথগঞ্জ এবং সর্বশেষ রানাঘাটের হাসপাতালে। 
মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণের মে মাসে ঘটনাক্রমের সূত্রপাত। প্রথম ঘটনাটি ১৭ মে’র। পুরুলিয়ার পুঞ্চা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এক কিশোরের মৃত্যুর পর এক মহিলা চিকিৎসক এবং বিএমওএইচ চূড়ান্ত নিগ্রহের শিকার হন। ৪ জুলাই জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালের ঘটনাটিও কম যায় না। সর্পাঘাতে এক মহিলার মৃত্যুর পর হামলা চলে হাসপাতালের নার্সিং কর্মীদের উপর। ঘটনার অভিঘাত কাটতে না কাটতেই ২৪ জুলাই রঘুনাথগঞ্জে এক রোগীর মৃত্যুর পর ব্যাপক মারধর করা হয় সেখানকার মেডিকেল অফিসারকে। বাকি জায়গাগুলিতেও কোথাও কম কোথাও বেশি হেনস্তা, নিগ্রহ, গালিগালাজ, মারধরের ঘটনা ঘটতেই থেকেছে। 
রাজ্যের অন্যতম চিকিৎসক সংগঠন ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরামের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ কৌশিক চাকী বলেন, ২০১৭ সাল থেকে এখনো পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে ডাক্তার-স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর ছশোর বেশি হামলা-নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে। যেখানেই তাঁরা আক্রান্ত হয়েছেন, বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী তৎকালীন আমাদের সহযোদ্ধা হিসাবে গিয়ে প্রতিবাদ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী বারবার বলছেন, ভয় সরিয়ে ভরসা ফেরানোর কথা। আমরাও কি তাহলে পেশাগত দায়িত্ব নির্ভয়ে পালনের আশা করতে পারি না? রাষ্ট্রবাদী চিকিৎসক সংগঠন এনএমও’র পশ্চিমবঙ্গের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ডাঃ অমিত বেরা বলেন, ঠিক এ কারণেই কিছুদিন আগে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছি। তিনি কথা দিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ