নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘গ্রীষ্মকালে কালবৈশাখী হবে। সে হঠাৎ বৃষ্টি হল কোথায়? দেখছি, এ বৃষ্টি তো নিন্মচাপের। মে মাসে এমন বর্ষা মরশুম! এ তো জুন-জুলাইয়ের মতো বর্ষা ফিলিং।’ সোমবার ট্রেনে-বাসে-অফিসে-চায়ের দোকানে শুধু এই আলোচনা।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘গ্রীষ্মকালে কালবৈশাখী হবে। সে হঠাৎ বৃষ্টি হল কোথায়? দেখছি, এ বৃষ্টি তো নিন্মচাপের। মে মাসে এমন বর্ষা মরশুম! এ তো জুন-জুলাইয়ের মতো বর্ষা ফিলিং।’ সোমবার ট্রেনে-বাসে-অফিসে-চায়ের দোকানে শুধু এই আলোচনা।
গত কয়েকদিন ধরেই মেঘলা আকাশ। ভ্যাপসা গরম। গলদঘর্ম অবস্থা। নিম্নচাপের বৃষ্টি আসবে শুনে সে অপেক্ষায় ছিল সবাই। সোমবার সকালে ইতিউতি রোদের দেখা। তবে মোটের উপর আকাশের মুখ ভার। আর বেলা গড়াতেই ঝেঁপে বৃষ্টি। দুপুর ১২টা থেকে একটা। ঘণ্টাখানেক ধরে শহরে প্রবল বর্ষণ। পথে নেমে নাকাল হতে হল মানুষকে। সে বৃষ্টি থামল না। দিনভর চলল টিপটিপ করে। কাদায়-জমা জলে নাজেহাল হওয়ার অবস্থা। তবে স্বস্তিও পেয়েছে শহর। আবহাওয়া দ্রুত ঠান্ডা হল। গত কয়েকদিনের প্যাচপ্যাচে গরমের হাত থেকে খানিক স্বস্তি পেল মানুষ। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে দুই থেকে তিনদিন ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে।
সোমবার শহরের প্রায় সর্বত্র কমবেশি ঝেঁপে বৃষ্টি হয়েছে। কলকাতার দত্তবাগান, তপসিয়া, বীরপাড়া, চিংড়িঘাঁটা পাম্পিং স্টেশন জোনে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ সবথেকে বেশি। সবমিলিয়ে গড়ে ৩০ মিলিমিটারের মতো বৃষ্টি হলেও শহরে সেভাবে জল জমেনি বলে কলকাতা পুরসভার দাবি। তবে মানুষের বক্তব্য, কলেজ স্ট্রিট বাটা মোড়, গণেশ টকিজ, স্ট্র্যান্ড রোডে জল জমেছিল। পুরসভার বক্তব্য, ঘণ্টাখানেকের মধ্যে সেই জল নেমেও যায়। কলকাতা পুর এলাকার বাইরে এদিন সবথেকে খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল ভিআইপি রোডের হলদিরাম অঞ্চলে। অভিযোগ, সেখানে মেইন রোড ছাড়াও সার্ভিস রোডে কোমর সমান জল জমে যায়। চুড়ান্ত দুর্ভোগে পড়তে হয় মানুষকে। অন্যদিকে নিউটাউনের বিভিন্ন জায়গাতেও জল জমে।
বেলা একটা পর বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে। কিন্তু অনবরত ঝিরঝির বৃষ্টি হয়েই গিয়েছে দিনভর। বৃষ্টির কারণে ব্যবসার ক্ষতি হয়। হাতিবাগান থেকে নিউমার্কেট, গড়িয়াহাট বা বড়বাজার, সর্বত্র এক ছবি। বৃষ্টিতে ক্রেতার দেখা পাননি দোকানদাররা। হকাররা আগেভাগে পসরা গুটিয়ে ফেলেছিলেন। তবে সন্ধ্যার দিকে ঝেঁপে বৃষ্টি না হওয়ায় অফিস ফেরত মানুষকে খুব একটা সমস্যায় পড়তে হয়নি।
বৃষ্টি হলে জল জমবে। নগর কলকাতার এ পরিচিত চিত্র। সে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে পুরসভা। তাদের দাবি, বছরভর নিকাশি নালা থেকে পলি তোলার কাজ হয়। কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমও জানান, গত ১০ বছরে প্রায় ২০ লক্ষ মেট্রিক টন পলি তোলা হয়েছে। ফলে জমা জলের পরিস্থিতি নেই। তবে তিনি এও জানান, ভারী বৃষ্টি হলে জল জমবেই। তবে কয়েকঘণ্টার মধ্যে জল নেমেও যায়। এদিন শহরে নিকাশি খাল পরিদর্শন করেন মেয়র পারিষদ তারক সিং। খাল সংস্কারের কাজ করেছে সেচদপ্তর। পলি তোলার কাজ, জলধারণ ক্ষমতা কতটা বেড়েছে তাঁ দেখতেই পারিষদের পরিদর্শন। তারকবাবু বলেন, ‘খাল কাটার কাজ পর্যাপ্ত নয়। কিছু জায়গায় আরও কাজ করতে হবে। সেচদপ্তরকে তা বলা হয়েছে।’ পুরসভা জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে ২৪ ঘণ্টার জন্য পাম্পিং স্টেশনে কর্মী থাকবে। জমা জল সরাতে ম্যানহোল, গালিপিট সাফ করার কাজে বিভিন্ন স্পটেও থাকবেন কর্মীরা।