Bartaman Logo
৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পঞ্চায়েতে ১১ হাজার নিয়োগ, সুনিশ্চিত হবে ৫৭ হাজার অস্থায়ী কর্মীর ভবিষ্যৎ, ঘোষণা মন্ত্রীর

পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েতে ১১ হাজার ১৫৪টি পদ পূরণের ঘোষণা করেছেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। ৫৭ হাজার অস্থায়ী কর্মীর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কাজ চলছে। বিস্তারিত পড়ুন।

পঞ্চায়েতে ১১ হাজার নিয়োগ, সুনিশ্চিত হবে ৫৭ হাজার অস্থায়ী কর্মীর ভবিষ্যৎ, ঘোষণা মন্ত্রীর
  • ৫ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ক্ষমতায় আসার একমাসের মধ্যেই ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতে ১১ হাজার ১৫৪টি শূন্যপদ পূরণের উদ্যোগ নিল রাজ্যের নয়া সরকার। নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে শীঘ্রই। বৃহস্পতিবার একথা ঘোষণা করেছেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, ‘রাজ্যজুড়ে পঞ্চায়েতের তিনটি স্তরে ১১ হাজার ১৫৪টি পদ খালি রয়েছে। এর মধ্যে গ্রাম পঞ্চায়েতে ফাঁকা রয়েছে ৯ হাজার ৯৩৬টি পদ। পঞ্চায়েত সমিতিতে সেই সংখ্যাটা ৬৬০ এবং জেলা ও মহকুমা পরিষদে ৫৫৮টি। আগের মন্ত্রিসভার বৈঠকে এর মধ্যে ৬ হাজার ৫৩৬টি পদে সরাসরি নিয়োগে অনুমোদন মিলেছে। তবে অনুমোদিত পদগুলিতে নিয়োগের প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি। আমরা চাইছি একলপ্তে ১১ হাজারের নিয়োগ করতে। বাকি সাড়ে চার হাজার পদের জন্য দ্রুত ছাড়পত্র চাওয়া হবে। তারপরই শুরু হবে নিয়োগ প্রক্রিয়া।’ এছাড়াও পঞ্চায়েতের বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকা ৫৭ হাজার অস্থায়ী কর্মীর ভবিষ্যতের কথা ভেবে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী। 

Advertisement

রাজ্যে বর্তমানে ৩,৩৩৯ গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। উন্নত পরিষেবা প্রদানের লক্ষ্যে সেগুলির এলাকা পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্তও নিয়েছে ডবল ইঞ্জিন সরকার। ফলে অদূর ভবিষ্যতে বাড়তে পারে পঞ্চায়েতের সংখ্যা। তবে সেন্সাসের কাজ চালু হয়ে যাওয়ায়, আগে সমীক্ষা সেরে দেখে নেওয়া হবে কোন কোন গ্রাম পঞ্চায়েতের এলাকা পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন রয়েছে। এ সংক্রান্ত খরচের হিসাবও কষে ফেলা হবে।
২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের পরেই রাজ্যজুড়ে পঞ্চায়েতের তিনটি স্তরের শূন্যপদ কত, তা নির্ধারিত হয়েছিল। তৎকালীন প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, মোট শূন্যপদের সংখ্যা সাড়ে ৭ হাজার। নিয়োগ সংক্রান্ত পোর্টালও তৈরি হয়ে গিয়েছিল। তবে অজানা কারণে সেই নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে যায়। বিগত তিন বছরে নিয়োগ না হওয়ায় বর্তমানে শূন্যপদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজারে। ফাঁকা পড়ে রয়েছে এগজিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট, গ্রাম সহায়ক, নির্মাণ সহায়ক, গ্রাম পঞ্চায়েত সচিব, অ্যাকাউন্টস ক্লার্ক, ক্যাশিয়ার কাম স্টোর কিপার সহ বিভিন্ন পদ। 
এদিন পঞ্চায়েত সচিব পি উলগানাথনকে সঙ্গে সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী দিনে গ্রামোন্নয়নের কাজ মসৃণভাবে চালাতে এই সমস্ত শূন্যপদ দ্রুত পূরণ হওয়া দরকার। সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার আগে বিধাননগরের কৃষিদপ্তরের হেড অফিস মৃত্তিকায় জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন দিলীপবাবু। সেই বৈঠকেই ১০০ দিনের কাজ, ভিবি জি রাম জি, আবাস যোজনা, সড়ক যোজনা, স্বচ্ছ ভারত মিশন, এসআরএলএম সহ একাধিক প্রকল্প চালু হওয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, জুন মাস থেকেই ১০০ দিনের কাজ চালু হচ্ছে। ভিবি জি রাম জি প্রকল্প চালু হবে ১ জুলাই। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বার্ষিক ব্যয় ছড়াবে প্রায় ১২ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা। এছাড়াও চালু হবে সমস্ত কেন্দ্রীয় প্রকল্প। গ্রামীণ জীবন জীবিকা মিশনের অধীনে এক লক্ষ নতুন স্বনির্ভর গোষ্ঠী তৈরি হবে। প্রদান করা হবে ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যাংক ঋণ। তৈরি হবে ২০ লক্ষ ‘লাখপতি দিদি’। এলাকাভিত্তিক কাজ ঠিক করতে আজ থেকে ফিরছে গ্রামসভা বৈঠকও।

সম্পর্কিত সংবাদ