নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: শনিবার গভীর রাতে ময়না থানার দরবারের মোড়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এক নাবালিকার মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর জখম হয়েছেন নাবালিকার বাবা। মৃতের নাম শুভশ্রী হাজরা(১১)। বাড়ি নন্দকুমার থানার বড়গোদা গ্রামে। তার বাবা বুদ্ধদেব হাজরাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে গড়ময়না গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রবিবার সেখান থেকে তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। দুপুরে তমলুক থেকে এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। রবিবার তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে মৃত নাবালিকার দেহের ময়নাতদন্ত হয়। জানা গিয়েছে, বুদ্ধদেববাবুর শ্বশুরবাড়ি ময়না থানার উত্তর চংরাচক গ্রামে। নতুনপুকুর চণ্ডীমন্দিরে অষ্টমী তিথিতে ধুমধাম করে পুজো হয়। বুদ্ধদেববাবু সপরিবারে শ্বশুরবাড়ি গিয়েছিলেন। পেশায় ইটভাটার কর্মী বুদ্ধদেববাবুর ভোরে কাজে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। সেই জন্য শনিবার রাত ১টা নাগাদ মেয়েকে নিয়ে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। তাঁর স্ত্রী শ্বশুরবাড়িতেই ছিলেন। দরবারের মোড়ের কাছে বুদ্ধদেববাবু বাইকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। রাস্তার ধারে ইলেক্ট্রিক পোস্টে ধাক্কা মারেন। বাবা-মেয়ে দু’জনে রাস্তা থেকে দূরে ছিটকে পড়েন। ওই রাতে ঝোপের মধ্যে বাইক সহ দু’জনে দীর্ঘক্ষণ পড়েছিলেন। দুর্ঘটনায় বুদ্ধদেববাবু সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। ভোর ৪টে নাগাদ পথচলতি মানুষজন তাঁদের দেখতে পান। থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিসের টহরলরত ভ্যান ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। দু’জনকে গড়ময়না গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসক শুভশ্রীকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়না পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সহ সভাপতি সুব্রত মালাকার বলেন, দরবারের মোড় এলাকায় বাঁক রয়েছে। রাতে বেপরোয়া গতিতে বাইক চালানোয় এর আগেও ওই এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটেছে। রাস্তার ধারে ইলেক্ট্রিক খুঁটি আছে। সেই খুঁটিতে ধাক্কা মেরে প্রায় সারারাত বাবা-মেয়ে ওই অবস্থায় পড়েছিল। মর্নিংওয়াকে বেরনো লোকজনের নজরে আসে। তারপর পুলিসকে খবর দেওয়া হয়।



