Bartaman Logo
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উদয় গ্রামে জমিদার বাড়িতে সন্ধিপুজোয় জ্বলে ১১টি মশাল, মুখোপাধ্যায় বাড়িতে ভোগে থাকে মাছ, মাংস

সময়ের সঙ্গে বদলেছে পুজোর আয়োজন। বদলেছে উদযাপনের ধরন। কিন্তু দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরের উদয়গ্রামে আজও অমলিন শতাব্দী প্রাচীন দুর্গা পুজোর ঐতিহ্য।

উদয় গ্রামে জমিদার বাড়িতে সন্ধিপুজোয় জ্বলে ১১টি মশাল, মুখোপাধ্যায় বাড়িতে ভোগে থাকে মাছ, মাংস
  • ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সোমেন পাল, গঙ্গরামপুর: সময়ের সঙ্গে বদলেছে পুজোর আয়োজন। বদলেছে উদযাপনের ধরন। কিন্তু দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরের উদয়গ্রামে আজও অমলিন শতাব্দী প্রাচীন দুর্গা পুজোর ঐতিহ্য। একদিকে ৪৫০ বছরে পা দেওয়া জমিদারবাড়ির সন্ধি পুজোর সময় জ্বলে ১১টি মশাল। অন্যদিকে, ২৮৪ বছরের মুখোপাধ্যায় বাড়ির পুজোয় দেবীর ভোগে থাকে মাছ, মাংস। বংশপরম্পরায় চলে আসা এই দুই বনেদি বাড়ির পুজো ঘিরে এখনও উৎসবের আবহ তৈরি হয় গোটা এলাকায়। উদয় গ্রামের জমিদার বাড়ির দুর্গা পুজোর সূচনা অবিভক্ত বাংলার দিনাজপুরের রাজা গণেশের সময় বলে পরিবারের দাবি। জমিদার ঋষিকেশ শর্মারায়ের আমল থেকে প্রজাদের মঙ্গল কামনায় এই পুজোর প্রচলন হয়। একসময় জমিদার বাড়ির ঠাকুর দালানে দেবীর আরাধনা হলেও বর্তমানে পৃথক মন্দিরে পুজো হয়। জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলেও বংশধররা পুরানো রীতিনীতি এখনও ধরে রেখেছেন। বর্তমানে উদয় গ্রামে জমিদার পরিবারের পাঁচ শরিক একসঙ্গে পুজোর আয়োজন করেন। তান্ত্রিক মতে পুজো হলেও দেবী সাবেকি মৃন্ময়ী রূপে পূজিতা হন। মহাসপ্তমী থেকে মহানবমী পর্যন্ত টানা তিন দিন চলে যজ্ঞ। ১০০৮টি বেলপাতা যজ্ঞে আহুতি দেওয়া হয়। যজ্ঞ শেষ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা তিলক ধারণ করেন। সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীতে দেবীকে বাল্যভোগ ও অন্নভোগ নিবেদন করা হয়। সন্ধিপুজোয় ১১টি মশাল জ্বালিয়ে দেবীর আরাধনা করা এই পুজোর অন্যতম বিশেষত্ব। পরিবারের বংশধর সোমনাথ শর্মা রায় বলেন, জমিদারি প্রথা না থাকলেও পূর্বপুরুষদের শুরু করা পুজো আজও একই নিষ্ঠায় পালন করা হচ্ছে। পাঁচ শরিকের সদস্যরা মিলে পুজোর আয়োজন করা হয়। তিন দিন ধরে চলা যজ্ঞে ভক্তরা মঙ্গল কামনায় আহুতি দেন। এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আরও একটি পুরানো ইতিহাস। ১৭৪২ সালে বর্গি হামলার সময় পুরোহিতের সংকট দেখা দিলে জমিদার ঋষিকেশ শর্মা রায় বর্ধমান থেকে ভগবান ভট্টাচার্যকে নিয়ে এসে উদয় গ্রামের পূর্বপাড়ায় থাকার ব্যবস্থা করেন। এরপর বংশানুক্রমে তাঁর পরিবারের সদস্যরা জমিদার বাড়ির দুর্গা পুজোর পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অন্যদিকে, উদয় গ্রামের বনেদি মুখোপাধ্যায় বাড়ির দুর্গাপুজো এবার ২৮৪ বছরে পা দিল। পরিবারের সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৭৪৩ সালে রঘুনাথ মুখোপাধ্যায় এই পুজোর সূচনা করেন। এরপর থেকে বংশ পরম্পরায় একই রীতিনীতি মেনে পুজো হয়ে আসছে। দেবীর বোধন থেকে দশমী পর্যন্ত দুর্গাপুজোর পাশাপাশি মনসাদেবীর পুজোর আয়োজন হয়। জমিদার বাড়ির পুজো সম্পন্ন করেন মুখোপাধ্যায় বাড়ির বংশধরেরা। মুখোপাধ্যায় বাড়ির পুজোতে দেবী তান্ত্রিক মতে সাবেকি এক কাঠামোয় মৃন্ময়ী রূপে পূজিতা হন। পরিবারের সদস্য গোবিন্দ মুখোপাধ্যায় ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত তান্ত্রিক মতে পুজো করেন। এই পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য প্রতিদিন ছাগ বলির প্রথা। দেবীর ভোগে প্রতিদিন মাছ ও মাংসের আয়োজন থাকে। পরিবারের পাঁচ শরিক পালা করে পুজোর দায়িত্ব ভাগ করে নেন। ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত রাতে চণ্ডীমঙ্গল গান ও একাদশী-দ্বাদশী পর্যন্ত মনসামঙ্গল গানের আসর বসে।পরিবারের সদস্য সুদীপ্ত মুখোপাধ্যায় বলেন, এবার আমাদের দুর্গা পুজো ২৮৪ বছরে পা দিল। তান্ত্রিক মতে দেবীর আরাধনা হলেও সাবেকি রীতিতে মৃন্ময়ী প্রতিমার পুজো করা হয়। 

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ