Bartaman Logo
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বয়স্ক ও পড়ুয়াদের ভাড়া নেন না টোটো চালক সেলিম শেখ

সেলিমের টোটোয় ভাড়া লাগে না বয়স্ক ও পড়ুয়াদের। তাঁর অতীতই সেলিম শেখকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। দিনভর টোটো চালিয়ে কতই বা আয় হয়!

বয়স্ক ও পড়ুয়াদের ভাড়া নেন না টোটো চালক সেলিম শেখ
  • ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বহরমপুর: সেলিমের টোটোয় ভাড়া লাগে না বয়স্ক ও পড়ুয়াদের। তাঁর অতীতই সেলিম শেখকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। দিনভর টোটো চালিয়ে কতই বা আয় হয়! কিন্তু বহরমপুর ব্লকের ভাকুড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ভাকুন্দির বাসিন্দা বছর ত্রিশের সেলিম শেখ তাঁর টোটোয় পড়ুয়া, বৃদ্ধবৃদ্ধাদের ভাড়া নেন না। সেলিম বলেন, পড়ুয়াদের মধ্যে আমি নিজের অসহায় ছাত্রাবস্থা দেখতে পাই। আর বৃদ্ধ, বৃদ্ধাদের দেখলেই চোখের সামনে ঠাকুরমার ঘামঝরা কুঁচকে যাওয়া মুখটা ভেসে ওঠে। আমাকে মানুষ করতে ঠাকুরমার লড়াইয়ের দিনগুলোর স্মৃতি আমার চোখ ঝাপসা করে দেয়। তাই যেদিন নিজের টোটো হয়েছে, সেদিন থেকেই স্থির করেছি পড়ুয়া, বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের ভাড়া নেব না। মাত্র ছ’ মাসে সেলিম শেখের নাম মানুষের মুখে মুখে ঘুরতে শুরু করেছে। বৃদ্ধবৃদ্ধাদের আর্শীবাদ সেলিমকে মানুষের পাশে থাকার শক্তি জোগাচ্ছে। মাত্র এক বছর বয়সে সেলিমের বাবার মৃত্যু হয়। ছোট ছোট দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে মা চোখে অন্ধকার দেখতে শুরু করেন। দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে অসহায় মা বাপের বাড়ি রাজধরপাড়া পঞ্চায়েতের নগরাজোলে ওঠেন। মামাতো দাদা নিয়াকত শেখ বলেন, আমাদের বাড়িতে পাঁচ বছর থাকার পর সেলিমের দাদি (ঠাকুরমা) ওদের ফিরিয়ে নিয়ে যান। তারপর থেকে নিজের বাড়িতেই বড় হয়েছে।  দাদু অক্ষম। ঠাকুরমা গ্রামে গ্রামে বগলে কাপড় ফেরি করে সংসার টানতেন। ভাড়ার অভাবে পাঁচ মাইল হেঁটে স্কুল যাতায়াত করতে হয়েছে সেলিমকে। কিন্তু উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পার হয়ে আর স্কুল যায়নি। সেলিম শেখ বলেন, ঠাকুরমা বয়সের ভারে প্রায় নুইয়ে পড়েছিল। ওঁর কষ্ট দেখতে না পেরে আমি লেখাপড়া ছেড়ে গাড়ি চালানো শিখে সংসারের হাল ধরি। চার বছর পরের গাড়ির ড্রাইভারি করেছেন। এরপর দু› বছর ভাড়ার টোটো চালিয়েছেন। সংসারের খরচ চালিয়ে একটু একটু করে টাকা জমিয়ে গত ছ’ মাস আগে নিজেই টোটো কেনেন। এরমধ্যে সেলিমের বিয়ে হয়েছে। একমাত্র ছেলে ক্লাস ওয়ানে পড়ে। সেলিমের স্ত্রী সাহিলা খাতুন সংসারে অভাব হলেও স্বামীর এই উদার মানসিকতাকে সমর্থন করেন। বলেন, ও অনেক কষ্ট করে বড় হয়েছে। এখনও আমাকে কষ্ট করেই সংসার চালাতে হয়। কিন্তু ওর ইচ্ছাকে আমি মেরে ফেলতে পারি না। আল্লার দোয়ায় এখন কষ্ট হলেও আখেরে ভালো হবে। টোটো চালক সেলিম শেখ এখন এলাকার আইকন হয়ে উঠেছেন।  • নিজস্ব চিত্র

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ