নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর ও সংবাদদাতা, কান্দি: ওমানে কাজে গিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন মুর্শিবাদের ১১ জন পরিযায়ী শ্রমিক। কর্তৃপক্ষ কেড়ে নিয়েছে শ্রমিকদের পাসপোর্ট, ভিসা। এমনকি খাওয়ার টাকাও শেষ। দুঃশ্চিন্তায় শ্রমিকদের পরিবার। দেশে ফেরার আকুল আর্জি জানিয়ে ভিডিও পোস্ট করেছেন শ্রমিকরা। ইতিমধ্যেই ওই ভিডিও ক্লিপিংসটি ভাইরাল হয়েছে স্যোশাল মিডিয়ায়। তাতে দেখা গিয়েছে, একটি ঘরের মধ্যে বসে রয়েছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। তাঁরা বলছেন, আমরা মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। গত একবছর হল আমরা ওমানে কাজ করতে এসেছি। কিন্তু কোম্পানি যে কাজ দেওয়ার কথা দিয়েছিল, সেই কাজ দেওয়া হয়নি। পরিবর্তে সাপ্লাইয়ের ভারী সামগ্রী তোলার কাজ দেওয়া হয়েছিল। যে কাজ আমরা করতে পারছিলাম না। পারব না বলতেই আমাদের পাসপোর্ট ও ভিসা, টিকিট কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এমনকি, শুধুমাত্র পাসপোর্ট ফেরত চাইলেও তা দেওয়া হয়নি। এমন অবস্থায় গত ২৩ আগস্ট থেকে আমরা কার্যত না খেয়ে পড়ে রয়েছি। কখনও খোলা আকাশের নিচে। আবার কখনও কারও বারান্দায়। সেখান থেকে তাড়িয়ে দিলে অন্য জায়গায় আশ্রয় নিচ্ছি। এমন অবস্থা থেকে আমরা দেশে ফেরার আকুল প্রার্থনা করছি। ওই ১১ জন শ্রমিকের বাড়ি জেলার কান্দি, ভরতপুর, বেলডাঙা ও নবগ্রাম থানা এলাকার। শ্রমিকদের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় একবছর আগে লক্ষাধিক টাকা দিয়ে দালাল মারফত তাঁরা ওমানে কাজে গিয়েছিলেন তাঁরা। কেউ ঋণ করে, কেউ বাড়ির গৃহপালিত পশু বিক্রি করে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে প্রথম সাতমাস বেতন পেলেও পরে তাঁদের আর কোনও বেতন দেওয়া হচ্ছিল না। গত চারমাস ধরে বেতন বাকি। এনিয়ে প্রতিবাদ করলে গত ২৩ আগস্ট শ্রমিকদের ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। কান্দি থানার বাঘআছড়া গ্রামের তিন যুবক রয়েছে ওই ১১ জনের মধ্যে। মোস্তফা শেখ, কেশাবুর শেখ ও তেস্তার শেখ নামে তিন যুবকের বাড়ি ওই গ্রামে। তেস্তারের বাবা মরিজুল শেখ বলেন, দালালের খপ্পরে পড়ে ছেলে ওমানে গিয়েই ফেঁসে গিয়েছে। টাকা পাসপোর্ট সব কেড়ে নিয়েছে। আবার বেতনও বন্ধ করে দিয়েছে। এখন ঘরের ছেলে ঘরে ফিরলে বাঁচি। সোমবার জেলা প্রশাসনের কাছে আমরা যাচ্ছি। কান্দি থানার চাঁদনগরের যুবক সারোয়ার শেখও সেখানে আটকে রয়েছেন। তবে সারোয়ারের বাবা সেন্টু শেখ বলেন, আজ রবিবার ছেলের কপিল (মুনিব) ওকে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছেন। তবে বাকিরা এখনও আশ্রয়হীন হয়ে রয়েছেন। এনিয়ে বহরমপুরের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্ণধার মতিউর রহমান বলেন, ওই পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিবারের লোকজন আমাদের কাছে এসেছিলেন। সমস্যা নিয়ে ওমানে ভারতীয় হাই কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে আমরা আশাবাদী।



