


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ২০১৬সালে নিয়োগ হওয়া পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষক-শিক্ষিকা ‘অযোগ্য’। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এসএসসির তৈরি করা সংশোধিত ১০৭২জন ‘যোগ্য’ শিক্ষক শিক্ষিকার তালিকা জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(মাধ্যমিক) অফিসে পাঠিয়েছে স্কুলশিক্ষা দপ্তর। যদিও ২০১৬সালে এই জেলায় ১৫৫০জন শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগপত্র পেয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় পাঁচশো জন অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত হলেন। মোট চার দফায় ওই তালিকা জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক অফিসে এসেছে। বুধবার অফিস খোলার পর থেকেই জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক পলাশ রায়ের উপস্থিতিতে ওই চারটি তালিকা একত্রিত করে ফাইনাল লিস্ট তৈরির কাজ হয়। এই জেলায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষক-শিক্ষিকা অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় জেলাজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তালিকায় নাম আছে কি না জানার জন্য এদিন বেশ কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষিকা জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক অফিসে আসেন। ডিআই অফিসের আধিকারিক ও কর্মীরা এনিয়ে ঘন ঘন ফোন পান।
২০১৬সালের প্যানেলে এই জেলায় সাড়ে ১৫৫০শিক্ষক-শিক্ষিকা ছাড়াও প্রায় ৬০০জন গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি কর্মী নিয়োগ হয়েছিল। সর্বোচ্চ আদালত শিক্ষাকর্মীদের চাকরি খারিজ করায় ওই ৬০০কর্মীও চাকরিপ হারিয়েছেন। অর্থাৎ এই পর্বে শুধুমাত্র পূর্ব মেদিনীপুরে এক হাজারের বেশি শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে। তাঁরা স্কুলে যেতে পারবেন না। ‘অযোগ্য’ চিহ্নিত প্রায় পাঁচশো শিক্ষক-শিক্ষিকা পরবর্তী এসএসসি পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাবেন না।
এর আগে হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের রায়ের পর পূর্ব মেদিনীপুরে চার দফায় প্রায় সাড়ে চারশো শিক্ষক-শিক্ষিকার মাইনে বন্ধ করার জন্য তালিকা এসেছিল। অন্যান্য জেলার তুলনায় এই জেলায় ‘অযোগ্য’ সংখ্যা বেশি। রাজনৈতিক সুপারিশে অনেকে যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও চাকরি পেয়েছেন বলে অভিযোগ। এলাকা বিশেষে গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি কর্মী বেশি করে নিয়োগ হয়েছে। যেমন ভগবানপুর এবং ময়নায় মোট অশিক্ষক কর্মী নিয়োগপত্র পেয়েছেন। একদা পার্থ চট্টোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ নান্টু প্রধানের সুপারিশে এই জেলায় অনেকে গ্রুপ-ডি পদে চাকরি পেয়েছিলেন। আবার ময়নার বাকচা গ্রাম পঞ্চায়েতের আড়ংকিয়ারানা এবং বাকচার তিনজন চাকরি দেওয়ার নাম করে জালিয়াতির ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁদের একজন প্রাথমিক শিক্ষক। আরেকজন গোকুলনগর হাইস্কুলের গ্রুপ-ডি কর্মী। তাঁরও চাকরি খারিজ হয়েছে। তাঁদের সুপারিশে শুধুমাত্র ময়নায় ৫০জনের বেশি গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি কর্মীর চাকরি পেয়েছেন বলে অভিযোগ। যদিও এলাকার কয়েকশো যুবক-যুবতীর কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা তোলা হয়েছিল বলে পুলিস অভিযোগ পায়। তিনজনকে পুলিস গ্রেপ্তার করেছিল।
অযোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অনেকেই বিভিন্ন কো-অপারেটিভ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়েছেন। চাকরি করায় সহজেই তাঁদের ঋণ দিয়েছিল ব্যাঙ্ক। তাঁদের কাছ থেকে কীভাবে পাওনা টাকা উদ্ধার হবে, তা নিয়ে কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কগুলি সমস্যায় পড়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) পলাশ রায় বলেন, আমাদের জেলায় ‘যোগ্য’ ১০৭২জন শিক্ষক-শিক্ষিকার তালিকা এসেছে। ২০১৬সালের বিজ্ঞপ্তির পর এসএসসির মাধ্যমে এই জেলায় দেড় হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ হয়েছিল। এছাড়াও প্রায় ৬০০জন গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি কর্মী আছেন।