নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হাওড়া পুরসভার বকেয়া সম্পত্তি কর আদায়ে বড়োসড়ো পদক্ষেপ নিল রাজ্য মন্ত্রিসভা। দীর্ঘদিনের বকেয়া মেটাতে হাওড়া শহরে চালু হতে চলেছে ওয়েভার স্কিম। এতে বকেয়া সম্পত্তি করের সুদ ও পেনাল্টির উপর মিলবে ১০০ শতাংশ ছাড়। পাশাপাশি মূল সম্পত্তি করের উপরও ১০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। হাওড়া পুরসভার জন্য এই বিশেষ প্রকল্পে বুধবার চূড়ান্ত সিলমোহর দিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা।
মঙ্গলবার এই ছাড়ের কথা জানিয়েছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই। তিনি বলেছিলেন, পুজোর আগেই প্রকল্পটি চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের বকেয়া মেটাতে হলে নির্ধারিত টাকা এককালীন জমা দিতে হয়। এক্ষেত্রে সুদ ও জরিমানার পুরোটা এবং মূল সম্পত্তি করের ১০ শতাংশ ছাড় পাবেন সংশ্লিষ্ট করদাতারা। পুরসভা সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তিকর আদায় ঠিকমতো না হওয়ায় হাওড়া পুরসভায় এই খাতে বকেয়ার পরিমাণ গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২০০ কোটি টাকারও বেশি। তৃণমূল সরকারের আমলে প্রথম দিকে সংযুক্ত এলাকাগুলিতে মিউটেশনের মাধ্যমে প্রায় ২৭ হাজার বাড়ির কর আদায় হলেও পরে সেই প্রক্রিয়া থমকে যায়। শুধু তাই নয়, মিউটেশন সংক্রান্ত জটিলতার কারণে একাধিক বড়ো আবাসনের একেকটিতে বকেয়া করের অঙ্ক কোটি টাকা ছাড়িয়েছে বলে পুরকর্তাদের একাংশের দাবি। আরও অভিযোগ, অধিকাংশ ওয়ার্ডেই পুরানো সম্পত্তি কর নবীকরণ হয়নি। ফলে পুরানো বাড়ি বা একতলা বাড়ি ভেঙে বহুতল তৈরি হলেও অনেক ক্ষেত্রে আগের হারেই কর থেকে গিয়েছে। ফলে পুরসভার রাজস্বের প্রাপ্য অঙ্ক আরও বাড়লেও দীর্ঘদিন তা আদায়ের বাইরে থেকে গিয়েছে। হাওড়া পুরসভার বোর্ড ভেঙে যাওয়ার পর তৃণমূল জমানার শেষ পর্বে ‘দুয়ারে ক্যাম্প’ কিংবা অনলাইন পরিষেবা চালু করেও কর আদায়ের চেষ্টা হয়েছিল বলে দাবি। কিন্তু তাতেও প্রত্যাশিত সাড়া মেলেনি।
এবার ওয়েভার স্কিম চালু হলে একদিকে দীর্ঘদিনের বকেয়া মেটানোর সুযোগ পাবেন নাগরিকরা, অন্যদিকে আর্থিক সংকটে ধুঁকতে থাকা পুরসভার কোষাগারও বেশ কিছুটা চাঙা হবে বলে মনে করছে আধিকারিকদের একাংশ। পুরভোটের আগে এই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও উমেশ রাই তা খারিজ করে বলেন, নাগরিক পরিষেবা ও বকেয়া রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।