Bartaman Logo
২২ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রঘুনাথপুরে ১০০ ফুটের বেআইনি পাথর খাদানের খোঁজ, তদন্তের দাবি

রঘুনাথপুরে ১০০ ফুট গভীর বেআইনি পাথর খাদানের খোঁজ মিলেছে। প্রশাসনকে তদন্তের নির্দেশ, স্থানীয়দের অভিযোগ। বিস্তারিত পড়ুন।

রঘুনাথপুরে ১০০ ফুটের বেআইনি পাথর খাদানের খোঁজ, তদন্তের দাবি
  • ২২ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: ছিল রুমাল, হয়ে গেল আস্ত বিড়াল! ছিল জঙ্গলে ঘেরা জমি, গাছ কেটে হয়ে গেল বিশাল আয়তনের অবৈধ পাথর খাদান। বাস্তবে রঘুনাথপুর থানা এলাকায় এমনই এক অবৈধ পাথর খাদানের খোঁজ মিলেছে। যা আস্ত একটি বড়ো পুকুরের আয়তন ও গভীরতাকেও হার মানাবে। এত বড়ো খাদান অথচ প্রশাসন কিছুই জানতে পারেনি। বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক দশক ধরে ওই পাথর খাদান প্রশাসনের আধিকারিকদের আড়ালে রেখেই চলছিল। নির্বাচনের সময় ব্লক প্রশাসনের প্রায় সব দপ্তর আধিকারিকদের বদলি হয়। সরকার পরিবর্তনের পরেই বর্তমান ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকদের কাছে এই অবৈধ খাদানের খবর আসে। আধিকারিকরা গাড়ি নিয়ে এলাকায় যেতেই চক্ষু চড়কগাছ। তবে পুলিশ ও আধিকারিকরা যাওয়ার আগে খবর পেয়ে খাদানে থাকা ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়।

Advertisement

প্রশাসনের একটি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় কয়েকটি গাড়ি আটক হয়েছে। তবে কারা ওই খাদান ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। অন্যদিকে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কীভাবে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এতদিন ধরে এই অবৈধ খাদান চলছিল? বিজেপির তরফে বিষয়টি নিয়ে পূর্ণ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
রঘুনাথপুর-১ ব্লকের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিক সব্যসাচী পাল বিষয়টি খোলসা করতে চাননি। তবে তিনি বলেন, যা আইন রয়েছে সেই মোতাবেক ওই খাদানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রঘুনাথপুর -১ ব্লকের ধটাড়া গ্রাম পেরিয়ে কিছুদূরে ডান পাশের কাঁচা রাস্তা ধরে গেলেই জঙ্গল। তাঁর মাঝে বিশাল পাথর খাদানটি দেখা যায়। যেখান থেকে চোরাকারবারিরা দিনের পর দিন পাথর উত্তোলন করেছে। জায়গাটি বর্তমানে ১০০ ফুটের বেশি গভীর হয়ে গিয়েছে। খাদান থেকে গাড়িতে করে উপরে পাথর তোলার জন্য বাক দিয়ে (পাহাড়ে ওঠার রাস্তার মতো) রাস্তা তৈরি হয়েছিল।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, বেশ কয়েক দশক ধরে অবৈধভাবে এই খাদান চলছিল। রীতিমতো ডিনামাইট ব্যবহার করে পাথর ফাটিয়ে উত্তোলন করা হত। অনেকেই খাদানটি নিয়ে একাধিকবার সোচ্চার হয়েছিলেন। কিন্তু খাদান কারবারিদের সঙ্গে এক শ্রেণির আধিকারিকদের গভীর যোগাযোগ ছিল। ফলে অভিযোগের পর কিছুদিন ব্যবসা বন্ধ থাকতো তারপরই যে কে সেই! ফের আগের মতো চলত কারবার। এই পরিস্থিতিতে খাদান কারবারিদের চক্ষুশূল না হতে চেয়ে এলাকার মানুষ চুপ করে যায়। সরকার পরিবর্তনের পর এলাকার মানুষের মনে সাহস আসে। আইনের শাসনে ভরসা পেয়ে এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে বিষয়টি জানান। রঘুনাথপুর-১ নম্বর ব্লকের বিজেপির ৪ নম্বর মণ্ডল সভাপতি সনজিৎ সিং বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে খাদানটি চলছিল বলে আমাদের কাছে খবর আসে। প্রশাসনকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য জানানো হয়েছিল। ওই খাদান কে বা কারা কতদিন ধরে চালাত তাই নিয়ে পূর্ণ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ