নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’! ভোটের আগে বিজেপি এই স্লোগানের ঢালাও প্রচার করেছিল। তাদের এই স্লোগান কি সরকারে আসার তিন মাসের মধ্যেই উধাও হয়ে গেল? এমনই প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। নতুন সরকারের ১০০ দিন অতিক্রান্ত। তারপরও রাজ্যে ১০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। তাহলে কি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ রাজ্য পুলিশ? প্রশ্ন বিরোধীদের। গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হয়। এই ১০০ দিনে সরকার রাজ্যবাসীকে ‘আচ্ছে দিন’ এনে দিতে পারেনি বলেই দাবি বিরোধীদের। বিশেষ করে ১০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী এখনও কেন রাজ্যে রেখে দেওয়া হয়েছে, সেই প্রসঙ্গ তুলছে তারা। সাধারণত ভোটের ফল ঘোষণার পর হিংসাত্মক ঘটনা আটকাতে কিছুদিন কেন্দ্রীয় বাহিনী রেখে দেওয়া হয়। কিন্তু তিন মাস পরও কি রাজ্য পুলিশের উপর ভরসা রাখা যাচ্ছে না?
রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল তথা ঋতব্রত তৃণমূলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান বলেন, ‘রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যদি ভালো থাকত, এতদিন কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখার প্রয়োজন হত না। আসলে এই ১০০ দিনে বিজেপি সরকারের শুধু বড়ো বড়ো কথা। কোনো ভালো কাজ এখনও তারা করে দেখাতে পারেনি। শুধু কথার ফুলঝুরি। মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না সরকার। ভরসা আউট হয়ে মানুষের মধ্যে ভয় ঢুকে গিয়েছে।’ তাঁর আরও দাবি, ‘বিজেপির তোলাবাজি বাড়ছে। অন্নপূর্ণার টাকা না পেয়ে মানুষ বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন।’ অন্যদিকে, মমতাপন্থী তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, ‘১০০ দিনের সরকার তার কাজের বড়াই করছে। কিন্তু এদের কাজকর্ম নিয়ে তো আম জনতাই প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে না পারায় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হচ্ছে সাধারণ মানুষ।’ তাঁর প্রশ্ন, সরকার নিশ্চয়ই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলাতে পারছে না। সেই জন্যই এখনও ১০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রেখে দেওয়ার দরকার পড়ছে।
আরেক বিরোধী দল আইএসএফের বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকি বলেন, ‘ভোটের পর এতদিন কেন্দ্রীয় বাহিনী থেকে যাওয়া নজিরবিহীন। তার মানে রাজ্য পুলিশে ঘাটতি রয়েছে এবং পুলিশের কাজের উপর ভরসা রাখতে পারা যাচ্ছে না।’ সিপিএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের তো সন্দেহ হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয় বলে। ভোট মিটে যাওয়ার পরেও কেন সরকার তার নিজের পুলিশের উপর আস্থা রাখতে পারছে না, সেটাই বড়ো প্রশ্ন।’