সংবাদদাতা, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগ ১০০ শয্যার নতুন ভবনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মাতৃ মা সংলগ্ন এলাকায় খুব শীঘ্রই নতুন ভবনে শিশু বিভাগ চালু হচ্ছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, ১০০ শয্যার শিশুবিভাগে অক্সিজেন সরবরাহের পাইপ লাইনের কাজ চলছে। ফেব্রুয়ারির শেষ বা মার্চ মাসের মধ্যেই নতুন ভবনে শিশু বিভাগের পরিষেবা চালু হতে চলেছে। মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এমএসভিপি অনাদি রায়চৌধুরী বলেন, নতুন শিশু বিভাগে অত্যাধুনিক মানের চিকিৎসা পরিষেবা মিলবে। শিশু বিভাগ পৃথক বিল্ডিংয়ে নিয়ে যাওয়ায় মূল ভবনে রোগীর শয্যার সংখ্যও বাড়বে। মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই মূহূর্তে ১ হাজার ২০৪টি শয্যা রয়েছে। মেল-ফিমেল মেডিসিন, সার্জিক্যাল, মাতৃ মা, শিশু বিভাগ এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।
এদিকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর চাপ ক্রমশ বাড়ছে। পার্শ্ববর্তী জেলা নদীয়া ও বীরভূমের একাংশ থেকে প্রচুর রোগী মুর্শিদাবাদ মেডিকেলে চিকিৎসার জন্য আসেন। রোগীর অত্যধিক চাপের কারণে শয্যা সংকুলান হয় না। কখনও কখনও দু’টি শয্যা একত্র করে তিনজন করে রোগীকে সেখানে রাখতে হয়। মেঝেতেও রোগী শুয়ে থাকেন। বছর দু’য়েক আগে পরিষেবার মান বাড়াতে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ শিশু বিভাগকে আলাদা করার পরিকল্পনা নিয়ে নতুন বিল্ডিংয়ের কাজ শুরু করে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও বসানো হয়েছে। আইসিইউ, সিসিইউ সহ নতুন ভবনে শিশুদের চিকিৎসায় উন্নত মানের যাবতীয় পরিষেবা থাকবে। অক্সিজেন সরবরাহের পাইপ লাইনের কাজ ছাড়া বাকি সব ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গিয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ফেব্রুয়ারির শেষ বা মার্চ মাসের শুরুতেই ১০০ শয্যার নতুন এই শিশু বিভাগ থেকে পুরোদমে পরিষেবা মিলবে।
শিশু বিভাগ আলাদা করায় হাসপাতালের মূল ভবনে শয্যা সংখ্যা বাড়তে চলেছে। এই খবরে স্বাভাবিকভাবেই রোগীর পরিজনরা খুশি। শক্তিপুর এলাকার বাসিন্দা বিজয় সরকার বলেন, বহু সময় প্রচুর রোগীকে পাশাপাশি গাদাগাদি অবস্থায় থাকতে হয়।
পরিষেবাতেও খামতি রয়েছে। ১০০ শয্যা বাড়ায় এই সমস্যা দূর হবে। দৌলতাবাদ এলাকার বাসিন্দা মিলন শেখ বলেন, আমরা সরাসরি মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসি। দেখেছি গরমকালে এখানে রোগীর চাপ খুব বেশি হয়। তখনই শয্যা নিয়ে সমস্যা হয়। নতুন শিশু বিভাগ হওয়ায় পরিষেবার মানও বাড়বে। নিজস্ব চিত্র