নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: রবিবার সাড়ম্বরে তাম্রলিপ্ত রাজ ময়দানে তাম্রলিপ্ত জনস্বাস্থ্য কৃষি ও কুটিরশিল্প মেলা কমিটির উদ্যোগে রামনবমী উৎসব পালিত হল। এবার এখানকার উৎসব ১৫ বছরে পড়ল। শ্রীরামচন্দ্রে মূর্তি গড়ে ধুমধাম করে পুজো হয়। প্রায় ১০ কুইন্টাল কাঠ এবং তিন কুইন্টাল ঘি পুড়িয়ে হোমযজ্ঞ হয়। রাজবাড়ির বর্তমান সদস্য তথা তমলুক পুরসভার চেয়ারম্যান দীপেন্দ্রনারায়ণ রায়ের উদ্যোগে গত ১৫ বছর ধরে এখানে রামনবমীতে পুজো এবং যজ্ঞ হচ্ছে। এদিন অতিথিদের মধ্যে বিধায়ক সৌমেন মহাপাত্র, জেলা পরিষদের মেন্টর অসিত বন্দ্যোপাধ্যায়, পুরসভার ভাইস চেয়ারপার্সন লীনা মাভৈ সহ অন্যান্য কাউন্সিলাররা উপস্থিত ছিলেন।
শ্রীরামচন্দ্রের প্রতি নিষ্ঠা ও ভক্তি এখানকার পুজোর মূল বৈশিষ্ট্য। সেই নিষ্ঠা ও ভক্তির টানে এখানকার পুজোয় শহরের নানাপ্রান্ত থেকে মানুষ অংশগ্রহণ করে। দুপুরে আয়োজকদের পক্ষ থেকে রাজবাড়ি চত্বরে ভাত, ডাল, শুক্তো, আলুপোস্ত, আলুপটল, চাটনি সহ আহারের ব্যবস্থা ছিল। পুজো দেখতে আসা অনেকেই ওখানে আহার সারেন। সন্ধ্যার পর সরবত ও লাড্ডু বিতরণ করা হয়।
রাজ ময়দানে রামপুজোর মূল আকর্ষণ হোমযজ্ঞ। প্রতিবছর দীর্ঘক্ষণ ধরে হোমযজ্ঞ হয়।
এ বছরও প্রায় ১০ কুইন্টাল কাঠ এবং তিন কুইন্টাল ঘি পোড়ানো হয়েছে। চারজন পুরোহিত হোমযজ্ঞে অংশ নেন। রামচন্দ্রের পুজোয় এই হোমযজ্ঞে প্রচুর ভক্ত সাক্ষী থাকতে চান। তাই রামনবমীর দিন তাঁরা নিয়ম করে এখানে হাজির হন। বিধায়ক থেকে পুরসভার জনপ্রতিনিধিরা রাজ ময়দানে রামনবমীতে এসে প্রধান উদ্যোক্তা তথা পুরসভার চেয়ারম্যানকে কৃতজ্ঞতা জানান।
দীপেন্দ্রনারায়ণবাবু বলেন, আমরা ১৫ বছর ধরে তমলুক রাজ ময়দানে রামনবমী উপলক্ষ্যে পুজো এবং হোমযজ্ঞ করছি। শহরের সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে অংশগ্রহণ করেন। অনেকেই হোমযজ্ঞের সাক্ষী থাকতে চান। বিধায়ক থেকে জেলা পরিষদের মেন্টর এবং পুরসভার অন্যান্য কাউন্সিলাররা এসেছিলেন। ভগবান শ্রীরামচন্দ্র সকলের। কিন্তু, বিজেপি শ্রীরামচন্দ্রকে নিয়ে সংকীর্ণ রাজনীতি করে। আমরা এধরনের সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে। তাই এখানকার পুজোয় সাধারণ মানুষের এত বেশি অংশগ্রহণ ঘটে।