প্রীতেশ বসু, কলকাতা: প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় জোর দিতে এবার পঞ্চায়েত এলাকায় বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের ক্ষেত্রেও বিশেষ ছাড়ের নিয়ম আনছে রাজ্য। গ্রামীণ এলাকার কোনও বাড়িতে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ বা সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা করলে মিলবে বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন ফি’র উপর ১০ শতাংশ ছাড়।
ঘনবসতিপূর্ণ শহরাঞ্চল ছাড়িয়ে বর্তমানে একের পর এক আকাশচুম্বী বহুতল মাথা তুলছে রাজ্যের বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকায়। রাজ্যবাসীর সার্বিক আর্থিক উন্নয়নের কারণে ব্যক্তিগতভাবেও অনেকে একতলা-দোতলা পাকাবাড়ি তৈরি করছেন। এসব ক্ষেত্রেও রয়েছে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ। বছরখানেক আগে তা নিয়ে অভিযোগ পৌঁছয় নবান্নে। সেই প্রেক্ষিতে গ্রামীণ এলাকায় বাড়ি নির্মাণ সংক্রান্ত বিধি পাকাপোক্ত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বিধি এখন চূড়ান্ত হওয়ার পথে। অর্থাৎ, পঞ্চায়েত এলাকার জন্য নয়া বিল্ডিং রুলস আসতে চলেছে শীঘ্রই। জানা গিয়েছে, বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন ফি বাবদ যে টাকা নেওয়া হয়, তাতে মোটা অঙ্কের ছাড় দেওয়ার সংস্থান রাখা হচ্ছে সেই বিধিতে। বাড়িতে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ বা সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা রাখলেই মিলবে ছাড়। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে গ্রামীণ এলাকার জন্য নয়া বিল্ডিং রুলসের খসড়া জমা পড়েছে অর্থদপ্তরে। তাদের ছাড়পত্র মিললেই লাগু হবে নয়া বিধি। রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, ‘মানুষের স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই এই রুলস নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
সূত্রের খবর, ভূগর্ভস্থ জলের স্তর ঠিক রাখতে ১৫.৫ মিটারের কম উচ্চতার (সাধারণত ব্যক্তিগত বাড়ি) বাড়িতে বৃষ্টির জল সংরক্ষণের ব্যবস্থা করলে বিল্ডিং প্ল্যানে ১০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে শহর এলাকার মতো ১৫.৫ মিটারের (তিন থেকে চার তলা) বেশি উচ্চতার বাড়িতে এই ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন ফি-তে ছাড় দেওয়ার নিয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানা গিয়েছে। একইভাবে ১৫.৫ মিটারের কম উচ্চতার বাড়িতে সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা করলেও বিল্ডিং প্ল্যান স্যাংশন ফি’র উপর মিলবে ১০ শতাংশ ছাড়। দু’টি ক্ষেত্রেই বাড়ি নির্মাণের পর সিসি বা কমপ্লিশন সার্টিফিকেট দেওয়ার সময় বিশেষজ্ঞদের দিয়ে যাচাই করে নেওয়া হবে, আদৌ অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যানে অনুযায়ী বাড়িতে বৃষ্টির জল সংরক্ষণের ব্যবস্থা বা সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা হয়েছে কি না।
বর্তমানে বিল্ডিং প্ল্যানের আবেদন করতে হয় অনলাইনে। তবে তার ফি নির্ধারিত হয় নির্দিষ্ট জেলার ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতের ‘বাই-ল’ অনুযায়ী। ছাড় দেওয়ার বিষয়টিও নির্ভর করে গ্রাম পঞ্চায়েত বা পঞ্চায়েত সমিতির নিজস্ব ‘বাই-ল’র উপর। রাজ্যের কোথাও বর্তমানে এমন ছাড় দেওয়া হয় না বলেই জানাচ্ছেন আমলারা। কিন্তু নবান্ন সার্বিকভাবে এই নীতি আনলে তা মানতে হবে প্রতিটি পঞ্চায়েত সমিতি, গ্রাম পঞ্চায়েতকে।