Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নকল সোনার কয়েন বিক্রি করে ১০ লক্ষ টাকা প্রতারণা

নকল সোনার কয়েন বিক্রি করে ১০ লক্ষ টাকা প্রতারণা
  • ১৪ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বর্ধমান: সোনার কয়েন দেওয়ার টোপ দিয়ে টাকা হাতানোর একটি চক্রের হদিশ পেয়েছে পুলিস। খদ্দের সেজে চক্রের দুই পাণ্ডাকে গ্রেপ্তার করেছে বর্ধমান থানার পুলিস। ধৃতদের নাম শেখ ইলিয়াস ওরফে ইল্লু ও আজিজ মল্লিক ওরফে মুন্না। বর্ধমান থানার কৃষ্ণপুরে পশ্চিমপাড়ায় প্রথম জনের বাড়ি। অপরজনের বাড়ি খণ্ডঘোষ থানার কমলপুরের খালাপাড়ায়। শনিবার দুপুরে ফাঁদ পেতে বর্ধমান থানার সাদা পোশাকের পুলিস খদ্দের সেজে তাদের শহরের মিরছোবা এলাকার একটি নির্জন জায়গায় ডেকে পাঠায়। খদ্দের পাওয়ার লোভে তারা সেখানে হাজির হয়। এরপর চারপাশ ঘিরে রাখা পুলিস তাদেরকে গ্রেপ্তার করে। প্রতারণায় জড়িত থাকার কথা ধৃতরা স্বীকার করেছে বলে পুলিসের দাবি। ধৃতদের রবিবার বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। শনাক্তকরণের জন্য তাদের টিআই প্যারেড করাতে আদালতে আবেদন জানায় পুলিস। সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন ভারপ্রাপ্ত সিজেএম। ধৃতদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। 

Advertisement

পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতারণার বিষয়ে গত বছরের ২৫ আগস্ট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন কলকাতার বাসিন্দা নিশীথকুমার মাজি। অভিযোগে তিনি জানান, গত বছরের জুলাই মাসে চতুর্থ সপ্তাহে একটি অজানা নম্বর থেকে তাঁর কাছে ফোন আসে। রাজীব দাস পরিচয় দেওয়া ব্যক্তি ফোন করে তাঁকে জানায়, বীরভূমের বোলপুরে তার বাড়ি। সে রাজমিস্ত্রির কাজ করার পাশাপাশি শ্রমিক সরবরাহ করে। সে জানায়, তার সঙ্গে পাঁচ–ছ’মাস নদীয়ার কল্যাণীতে নিশীথের পরিচয় হয়েছিল। তাঁকে বর্ধমানে আসার জন্য সে অনুরোধ করে। তার কাছে কয়েকটি সোনার কয়েন আছে বলে জানায় সে। সেগুলি সে দেখাতে চায়। তার প্রস্তাবে তিনি রাজি হন। গত বছরের ২৩ জুলাই তিনি বর্ধমানে আসেন। তাঁকে সদরঘাটে দামোদর নদের কাছে একটি জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দু’জন ছিল। রাজীব পরিচয় দেওয়া ব্যক্তি তাঁকে জানায়, তার সঙ্গে আসা ব্যক্তি পেশায় রাজমিস্ত্রি। সে একটি নির্মাণকাজের জন্য মাটি খোঁড়ার সময় কিছু সোনার কয়েন পায়। সেগুলি সে বিক্রি করতে চায়। এরপর তাঁকে একটি কয়েন দেওয়া হয়। সেটি পরীক্ষা করে সোনার বলে জানা যায়। সোনার কয়েনগুলির দাম ১০ লক্ষ টাকা স্থির হয়। এরপর ব্যাঙ্ক থেকে লোন নেন নিশীথ। গত বছরের ২ আগস্ট সদরঘাটে ১০ লক্ষ টাকা নিয়ে তাঁকে কয়েকটি কয়েন দেওয়া হয়। সেগুলি কলকাতায় নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করে জাল বলে জানতে পারেন তিনি। তারপর ফোন বন্ধ থাকায় তিনি প্রতারকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।  ২৫ আগস্ট ঘটনার কথা জানিয়ে তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে কেস রুজু করে তদন্তে নামে থানা। মোবাইল নম্বর এবং বিভিন্ন সূত্র ধরে প্রতারকদের খোঁজ পায় পুলিস। এরপরই তাদের ধরতে ফাঁদ পাতা হয়। পুলিসের এক অফিসার জানিয়েছেন, টিআই প্যারেডের পর দু’জনকে হেফাজতে নেওয়ার জন্য আবেদন করা হবে। দু’জনকে হেফাজতে নিয়ে চক্রের বাকিদের ধরার চেষ্টা করা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ