সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: বিষ্ণুপুরের রাধানগরে শালবাঁধ ইকো পার্কের উন্নয়নের জন্য ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করল রাজ্য সরকার। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে পার্কটির বেহাল দশা হয়ে গিয়েছে। ঝোপঝাড়ে ভর্তি পার্ক সংস্কারের জন্য স্থানীয়দের তরফে বহুবার দাবি উঠেছিল। অবশেষে তাতে সাড়া দিয়ে অর্থ মঞ্জুর করা হয়েছে। পঞ্চায়েত সমিতি সূত্রে জানা গিয়েছে, উক্ত টাকায় পার্কের খোলনলচে বদলে ফেলা হবে। আবার পিকনিক পার্টি এবং পর্যটকের দল পার্কে ভিড় জমাবে। এমনই আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছেন স্থানীয়রা। সোমবার পার্কের বর্তমান অবস্থা খতিয়ে দেখতে বিষ্ণুপুরের মহকুমা শাসক প্রসেনজিৎ ঘোষ, বিধায়ক তন্ময় ঘোষ এবং বিডিও সোমশঙ্কর মণ্ডল রাধানগরে যান। পার্ক পরিদর্শন করেন। সেই সঙ্গে পার্কের ঠিক কী কী উন্নয়ন করতে হবে, তার প্রাথমিক রূপরেখাও তৈরি করেন। বিধায়ক বলেন, আমাদের মুখ্যমন্ত্রী পর্যটনের উপরে বরাবরই গুরুত্ব দিয়ে এসেছেন। রাধানগরে শালবাঁধ ইকো পার্কটি জরাজীর্ণ হয়ে গিয়েছে। স্থানীয়দের পক্ষ থেকে তা সংস্কারের জন্য বারবার আমার কাছে দাবি আসছিল। সেই মতো জেলায় প্রস্তাব পাঠানো হয়। সম্প্রতি তা মঞ্জুর হয়েছে। পঞ্চায়েত সমিতির মাধ্যমে সংস্কারের কাজ করা হবে। আরও অর্থের প্রয়োজন হলে তারও ব্যবস্থা করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাম আমলে সেচের জন্য রাধানগরে জঙ্গলের ধারে একটি খালে বাঁধ দিয়ে জলাশয় তৈরি করা হয়। পরবর্তীকালে তাকে ঘিরেই একটি পার্ক তৈরি করা হয়। চারদিকে শালগাছে ঘেরা অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা থাকায় জায়গাটির নাম হয় শালবাঁধ ইকো পার্ক। রাধানগর ছাড়াও বিষ্ণুপুর ও আশেপাশের পিকনিক পার্টির অন্যতম ডেস্টিনেশন হয়ে যায় শালবাঁধ। পার্কের প্রবেশপথে একটি তোরণ তৈরি করা হয়। ভিতরে ফুলের বাগান, শিশুদের খেলনার স্লিপার, দোলনা সহ নানা উপকরণে সাজানো হয়। এমনকী পার্কের ভিতরে একটি গেস্ট হাউস তৈরি করা হয়। খালের জলে বোটিং চালু না হলেও জলাশয়ে হরেকরকম পরিযায়ী পাখি ভিড় জমাত। বহু পর্যটক পার্কে আসতেন। এছাড়াও শীতের মরশুমে পিকনিক পার্টির ঢল নামত। কিন্তু, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যার অভাবে পরবর্তীকালে বাগান নষ্ট হয়ে যায়। গেস্ট হাউসটি ভূতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। জলাশয়টিও মজে গিয়েছে। তাই দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়রা বাসিন্দারা পার্কটিকে নতুন করে সাজানোর দাবি জানাচ্ছিলেন। জলাশয় সংস্কার এবং বাগান সহ অন্যান্য উপকরণে সাজিয়ে পর্যটকদের কাছে পুনরায় আকর্ষণীয় করে তোলার দাবিতে একাধিকবার সরবও হয়েছেন। পরবর্তীকালে বিষ্ণুপুর পঞ্চায়েত সমিতির মাধ্যমে পার্কের সংস্কারের জন্য জেলায় প্রস্তাব পাঠানো হয়। বিষ্ণুপুরের বিধায়কও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখেন। সম্প্রতি তা মঞ্জুর হয়েছে। ১০লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। পঞ্চায়েত সমিতি সূত্রে জানা গিয়েছে, উক্ত টাকায় শৌচাগার, বসার শেড, রেস্ট রুম, রাস্তা, পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হবে।