নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আশ্বাস মিলেছিল সোমবারই। দিল্লিতে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠকে। তারপর ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই বাংলার জন্য দরাজহস্ত হল মোদি সরকার। দীর্ঘদিনের খরা কাটিয়ে মঙ্গলবার অবশেষে গ্রামোন্নয়নের বিভিন্ন প্রকল্প খাতে এক লপ্তে ১৭০০ কোটি টাকা ছেড়েছে মোদি সরকার। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার অধীনে ১০ লক্ষ বাড়ি তৈরির অনুমোদনও পশ্চিমবঙ্গকে দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে সংখ্যাটা আরও বাড়ানো হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্র। সূত্রের খবর, মিলতে পারে ৩০ লক্ষ বাড়ি তৈরির অনুমোদন। রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেছেন, ‘আবাস যোজনার জন্য টাকা আসছে। নতুন করে সমীক্ষা শুরু হয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা করা হচ্ছে। যাদের বাড়ি পাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু পাননি, তাঁরা ২০ জুলাইয়ের মধ্যে টাকা পাবেন।
প্রকল্পের নাম বদল এবং দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে ১১ লক্ষ বাড়ির প্রশাসনিক অনুমোদন দিলেও তার টাকা ছাড়েনি কেন্দ্র। সেই সময়ই প্রায় ২৭ লক্ষের নাম ছিল আবাস প্রাপকের চূড়ান্ত তালিকা। কেন্দ্র টাকা না দেওয়ায় শেষপর্যন্ত এগিয়ে আসে রাজ্যই। চূড়ান্ত তালিকার সঙ্গে ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’ হেল্পলাইনের মাধ্যমে আসা বেশ কিছু আবেদনকারীদের নাম জুড়ে দু’দফায় প্রায় ৩০ লক্ষ ৬৫ হাজার প্রান্তিক মানুষকে বাড়ি তৈরির অনুদান দেয় পূর্বতন সরকার। প্রথম দফায় দুই কিস্তিতে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয় ‘বাংলার বাড়ি’র ১২ লক্ষ উপভোক্তাকে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আরও ১৮ লক্ষ ৬৫ হাজার উপভোক্তা পান প্রথম কিস্তির টাকা। কিন্তু দ্বিতীয় কিস্তি দেওয়ার আগেই পালাবদল হয়ে যায় রাজ্যে। দুশ্চিন্তায় থাকা এই ১৮ লক্ষ ৬৫ হাজার উপভোক্তাকে মঙ্গলবার আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বয়ং। কোলাঘাটের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে তিনি দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই সমস্ত উপভোক্তাদের দ্বিতীয় কিস্তির ৬০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কাজ শুরু করতে উদ্যোগী পঞ্চায়েত দপ্তর। বাংলার বাড়ির উপভোক্তাদের মধ্যে অযোগ্য কি না, তা যাচাই করতে ইতিমধ্যেই বিশেষ সমীক্ষার নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যসচিব। সূত্রের খবর, সেই কাজ প্রায় শেষের দিকে। মাত্র আধ-এক শতাংশ উপভোক্তা অযোগ্য বলে চিহ্নিত হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনাতেও প্রায় ৮০০ কোটি টাকার প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে। ২৭ মে গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের এমপাওয়ার্ড কমিটির বৈঠকে ২৭৯০ কিলোমিটার রাস্তা এবং ৪৫টি সেতু নির্মাণের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিল নয়াদিল্লি। ফলে কেন্দ্র-রাজ্য যৌথভাবে শুধু মাত্র গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন খাতে প্রায় ২৫০০ কোটি টাকা খরচ করবে। আবার পঞ্চায়েত দপ্তরের পেনশন স্কিমের ক্ষেত্রেও অনুমোদিত হয়েছে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। ফলে বার্ধক্য ভাতা দেওয়ার ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকারের অনেকটাই সুবিধা হবে।