নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: রাজ্যজুড়ে এসআইআর আবহে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার জন্য ভিড় বাড়ছে সীমান্তে। এদের অনেকেই অবৈধভাবে সীমান্ত টপকে ভারতে ঢুকেছিলেন। এসআইআর হয়ে যাওয়ার পর তাঁদের ভবিষ্যৎ কী হবে, এই দোলাচলে অনেকেই এখন ‘ঘর ওয়াপসি’ করছেন। এই পরিস্থিতির প্রভাব এবার দেখা গেল মধ্যমগ্রামের বিশ্বাসপাড়ায়। সেখানকার অন্তত ১০টি পরিবার রাতারাতি উধাও হয়ে গিয়েছে। কয়েকদিন আগেই এই ১০টি পরিবার আচমকা এলাকা ছেড়েছে বলে খবর। স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলারও বলছেন, এঁদের অনেকেই বাংলাদেশের বাসিন্দা। এসআইআরের আতঙ্কে এলাকা ছেড়েছেন।
মধ্যমগ্রাম পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত বিশ্বাসপাড়া। অপেক্ষাকৃত নীচু জমি। প্রতি বর্ষায় জল জমে থাকে। ১০-১৫ বছর ধরে এই ১০টি পরিবার এখানে বাস করছিল। স্থানীয় সূত্রে খবর, এই এলাকায় এতদিন ধরে যারা বসবাস করছে, তাদের সবাই যে অনুপ্রবেশকারী, তা নয়। অনেকেই আছেন এ রাজ্যের সুন্দরবন এলাকার। সকলেই দিনমজুরের কাজ করেন। সুন্দরবনের বিভিন্ন জায়গায় তাঁদের পৈতৃক ভিটে রয়েছে। তাঁদের রয়েছে এদেশের ভোটার কার্ড, আধার। তবে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় এখানে তাঁদের নাম নেই। কিন্তু যাঁরা বাংলাদেশ থেকে এসে এখানে থাকছিলেন, তাঁদের কাছে কোনও নথি ছিল না ভারতে বসবাসের জন্য। তাই এসআইআর চালু হওয়ার পর থেকে তাঁরা আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন। এখন পরিবারগুলি রাতারাতি উধাও হওয়ায় বিশ্বাসপাড়া অনেকটাই ফাঁকা। বেশিরভাগ বাড়িতে তালা ঝুলছে। অনেকে আবার ঘর খোলা অবস্থায় রেখেই চলে গিয়েছেন। পড়ে রয়েছে সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা সামগ্রী।
স্থানীয় ইকমুল আলি বলেন, ‘এরা প্রায় ৫-৬ বছর ধরে এখানে ছিল। এদেশে বসবাসের জন্য ওদের কাছে কোনও নথি ছিল না। তাই ভয়ে ওরা পালিয়েছে। এরা মূলত পরিচারিকা বা কাগজ কুড়ানোর কাজ করত।’ আরেক স্থানীয় বাসিন্দা নিসারুন বিবি বলেন, ‘ওরা বেশিরভাগই বাংলাদেশি। দীর্ঘদিন এই বস্তিতে থাকত।’ মধ্যমগ্রাম পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার জুম্মান আলি বলেন, ‘সুন্দরবন থেকে এসে যাঁরা এখানে বসবাস করছেন, তাঁদের কয়েকজনের প্রমাণপত্র ও ভারতীয় পরিচয়পত্র আছে। কিন্তু বাংলাদেশের বাসিন্দাদের কোনও নথি বা পরিচয়পত্র নেই। তাঁরা ভোট দিতে পারতেন না। সরকারি কোনও সুবিধাও পেতেন না। এসআইআর আতঙ্কে এলাকা ছেড়েছেন।’ সিপিএম নেতা আহমেদ আলি খান বলেন, ‘বিশ্বাসপাড়ার বস্তির বাসিন্দাদের কেউ কেউ এদেশের পরিচয়পত্র বানিয়েছিলেন। সীমান্ত পেরিয়ে এদেশে ঢোকার সময় বিএসএফ কী করছিল? এর জন্য কেন্দ্র ও রাজ্যের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকেও দায় নিতে হবে।’ ফাঁকা বিশ্বাসপাড়া। -নিজস্ব চিত্র