রূপাঞ্জনা দত্ত, লন্ডন: প্রদীপ আর মোমবাতির আলোয় উজ্জ্বল চারিদিক। লাল গালিচার উপর রঙিন রঙ্গোলি। মঙ্গলবার দীপাবলি উপলক্ষ্যে এভাবেই সেজে উঠেছিল ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন। প্রতি বছরের মতো এবারও ধুমধাম করে আলোর উৎসব উদযাপন করল ১০ ডাউনিং স্ট্রিট। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার দীপাবলি পালন করলেন অ্যান্ডি বার্নহাম। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী মারি-ফ্রান্স ভান হিল। উপস্থিত ছিলেন সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের ভারতীয় অভিবাসীরা। অনুষ্ঠানে দেশের উন্নয়নে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন বার্নহাম। একইসঙ্গে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বার্তা দেন তিনি।
সোমবার প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ১০০ দিন পূর্ণ করেন বার্নহাম। দীপাবলির অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য সহ একাধিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অবদানের কথা তুলে ধরেন তিনি। বার্নহামের কথায়, ‘সকলকে দীপাবলির শুভেচ্ছা জানাই। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে এটা আমার প্রথম দীপাবলি। এই উজ্জ্বল আলো আগামী বছরেও বজায় রাখতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজকের গ্রেটার ম্যাঞ্চেস্টার নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন হিন্দুরা। শিখ, মুসলিম, জৈন ধর্মাবলম্বীদের কাজও ভোলার নয়। সরকার সকলের সঙ্গে থাকবে।’ সম্প্রতি পর্যটন, শিক্ষার প্রসারের জন্য ভারত সফরে গিয়েছেন উত্তর ব্রিটেনের প্রতিনিধি দল। বার্নহামের কথায়, ‘যাঁরা দেশ নির্মাণ করতে এগিয়ে এসেছেন তাঁদের যোগ্য মর্যাদা দিতে চাই।’ অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের স্বাগত জানান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তামন্ত্রী কণিষ্ক নারায়ণ। ওয়েলস সহ বিভিন্ন অঞ্চলে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের অবদানের কথা তুলে ধরেন তিনি। নারায়ণ বলেন, ‘দীপাবলি আমাদের একটি প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে- এই আলো দিয়ে কী করবে?’ আলোর উৎসবে এক মোহময় আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি করেন ভক্তিবেদান্ত ম্যানরের টেম্পল প্রেসিডেন্ট বিশাখা দাসী। ভাগবত গীতার ষষ্ঠ অধ্যায়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাঁরাই জ্ঞানী যাঁরা সুখে-দুঃখে প্রত্যেক জীবের ঐক্যের কথা বলেন।’



