তেল আভিভ: বুথ ফেরত সমীক্ষার ফলে ইঙ্গিত মিলেছিল, ইজরায়েলের ক্ষমতায় ফেরার পথ সহজ হবে না বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর। পূর্বাভাস সত্যি করেই বুধবার ভোটের ফলাফলে নেতানিয়াহুর লিকুদ নেতৃত্বাধীন জোটকে কড়া টক্কর দিল প্রধান বিরোধী দল ইয়াশারের নেতৃত্বাধীন শিবির।
৮৫.৬ শতাংশ ভোট গণনা শেষে লিকুদ জোট এগিয়ে ৫৩টি আসনে। ম্যাজিক ফিগার ৬১তে পৌঁছাতে তাদের প্রয়োজন আরও ৮ আসন। অন্যদিকে, বিরোধী নেতা তথা প্রাক্তন সেনা প্রধান গাদি আইজেনকোটের দলের নেতৃত্বাধীন জোটের দখলে যেতে চলেছে ৪৮ আসন। আরব দলগুলি এগিয়ে ১৯ আসনে। রাজনৈতিক বিরোধ ভুলে ইয়াশার জোটের সঙ্গে তারা হাত মেলালে গদি ছাড়তে হবে নেতানিয়াহুকে।
ইজরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি জানিয়েছে, পোলিং বুথগুলির ব্যালট গোনা সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় ৪ লক্ষ ৮০ হাজার সেনাকর্মী, পুলিশ, কূটনীতিক ও জেলবন্দিদের ‘ডাবল এনভেলপ ব্যালট’ গোনা বাকি রয়েছে। যা প্রভাব ফেলবে ১২টি আসনে। ইজরায়েলে প্রার্থী নয়,পছন্দের দলকে ভোট দেয় জনতা। আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের হিসাবে আসন বন্টন হয় দলগুলির মধ্যে। যে সব দল ৩.২৫ শতাংশ ভোট পাবে না, তাদের ভোট আনুপাতিক হারে ভাগ করে দেওয়া হবে। ফলে চূড়ান্ত ফল কিছুটা বদল হতে পারে।
ইজরায়েলের সংসদের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে, বিভিন্ন দলের নেতার সঙ্গে আলোচনা করেন ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট। যার সরকার গঠনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, সেই নেতা জোট সরকার গঠনের জন্য সর্বোচ্চ ৪২ দিন সময় পান। তবে সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে নতুন করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার সেই প্রসঙ্গে ইজরায়েলের রাষ্ট্রপতি আইজ্যাক হারজোগ বলেছেন, ‘আরও একদফা নির্বাচন এড়াতে আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করা উচিত। আমি আশা করি দলগুলি খোলা মনে সরকার গঠনের আলোচনায় অংশ নেবে।’
ম্যাজিক ফিগার না পেলেও ইতিমধ্যেই সরকার গঠনের তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছেন নেতানিয়াহু। এদিন লিকুদের প্রধান কার্যালয়ে সমর্থকদের উদ্দেশে ভাষণে তিনি বলেন, তাঁর আমলে হামাস-লেবানন ও ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান মধ্যপ্রাচ্যের ছবি বদলে দিয়েছে। জাতীয়তাবাদী দলগুলির উচিত একসঙ্গে জোট সরকার তৈরি করা। আরব দলগুলির সঙ্গে জোট ইজরায়েলের নিরাপত্তার জন্য বড়োসড়ো হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। পালটা আরবদলগুলির জোট জয়েন্ট লিস্টের চেয়ারম্যান ইউসুফ জাবারিন বলেছেন, ‘নেতানিয়াহুর রক্ষপিপাসু সরকার পরিবর্তনের জন্য আমরা যে কোনো দলের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত।’
এদিকে হামাসের হামলা ও হিজবুল্লার সঙ্গে যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির ভোটাররা নেতানিয়াহু ও তাঁর দলের উপর ভরসা রেখেছেন। ৭ অক্টোবর হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ডেরট ও ওফাকিম শহরের জনতাও ভরসা রেখেছেন নেতানিয়াহুর উপর। কিয়য়ার শিমোনা, শোলমি, আভিভিমস, দোভেভের মতো লেবানন সীমান্তবর্তী এলাকাতেও সাফল্য পেয়েছে নেতানিয়াহুর দল।



