ব্রাসিলিয়া: ঘাড়ে দুর্নীতির কলঙ্ক। দেশ ছাড়ায় নিষেধাজ্ঞা ছিল আদালতেরও। সে সব উপেক্ষা করে গোপনে আমেরিকায় পালালেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত দক্ষিণপন্থী প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো। ব্রাজিলের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও রবিবার বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে ৪৪ লক্ষ ভোটে পরাজিত হন। সোমবার অবশ্য তিনি নিজের পরাজয়ের কথা অস্বীকার করেন। জানান, দুর্নীতি ও আর্থিক তছরুপের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেই নির্দেশ তিনি মানেননি। মঙ্গলবার রাতেই দেশ ছেড়ে আমেরিকায় চম্পট দিয়েছেন। তাঁকে আশ্রয় দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ‘বন্ধু’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে পরাজয়ের পর ফ্লাভিওর বাবা জাইর বলসোনারো একই কাজ করেছিলেন। প্রথমে হার স্বীকার করেননি। পরে লুলার শপথগ্রহণের আগের দিন ব্রাজিল ছেড়ে চলে যান। তিন মাস পরে দেশে ফিরলে অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তাঁকে গৃহবন্দি করা হয়েছিল। বাবার পথেই হেঁটেছেন ফ্লাভিও। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি, ব্রাজিল থেকে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে তিনি প্রথমে আর্জেন্টিনায় পালান। সেখান থেকে একটি বেসরকারি বিমানে ইকুয়েডর হয়ে আমেরিকায় পৌঁছান। ব্রাজিলের সংবাদপত্র ‘ও গ্লোবো’-র দাবি, এই মুহূর্তে ফ্লোরিডার মায়ামিতে রয়েছেন তিনি। ফ্লাভিও আমেরিকায় রাজনৈতিক আশ্রয় পাবেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। বুধবার টেক্সাসে নির্বাচনি প্রচার থেকে ফিরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, এব্যাপারে তাঁর কোনো আপত্তি নেই। মার্কিন বিদেশ মন্ত্রকও ফ্লাভিওকে ভিসা নিয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছে। বলসোনারো-পুত্র সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, ওঁরা ভাল মানুষ। (ব্রাজিলে) নির্বাচন নিয়ে ভালো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সেদেশের বাজারের দিকে তাকালেই বোঝা যায় কী ঘটেছে।’
নির্বাচনে পরাজয়ের পর ফ্লাভিওর দেশ ছেড়ে পালানোকে ‘লজ্জাজনক’ বলে কটাক্ষ করেছেন ব্রাজিলের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলা। ব্রাসিলিয়ায় নিজের ৮১তম জন্মদিন উদ্যাপনের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের দেশ থেকে গোপনে পালিয়ে যায়, তার নিশ্চয়ই কিছু লুকানোর আছে।’ ব্রাজিলের এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, ফ্লাভিওর পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে। ফ্লাভিও ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা একটি ভিডিয়োয় দাবি করেছেন, ‘দেশ ছেড়ে যাওয়ার ইচ্ছা আমার কখনও ছিল না। কিন্তু আমাকে ভয় দেখানো হচ্ছে।’



