নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: এসআইআর চালু হতেই বাংলাদেশে ফিরতে মরিয়া অনুপ্রবেশকারীরা। পালাতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরাও পড়ছে অনেকেই। শনিবার নদীয়ার হাঁসখালি থানার উমরপুর থেকে এমনই ১০ জন বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ধরা পড়েছে ভারতীয় দুই দালাল। এসআইআর আতঙ্কে একদিকে যেমন আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে, তেমনি সীমান্তে তৈরি হয়েছে চরম অস্থিরতা। যারা ওপার থেকে সীমান্ত ডিঙিয়ে অবৈধভাবে এপারে দিব্যি বসবাস করছিল, তারা এখন পালাতে পারলে বাঁচে।
পুলিশ সূত্রে খবর, সাদ্দিক মোরোল (৫২), সাহিন মোরোল (২৯), আজাহারউদ্দিন মোরোল (২২), মহম্মদ সামিরউদ্দিন মোরোল (১৮), শেখ সাহেব (২৭), হাসমিতা পারভিন হীরা (৪৫), আমিনা মোরোল (৬৫), রিনা বেগম (৩৫), নুরনাহার বেগম (২৫) এবং সুমাইয়া খাতুন (১৮) বেআইনিভাবে এপারে চলে এসেছিল বেশ কয়েকবছর আগে। সীমান্ত লাগোয়া উমরপুর এলাকায় গুছিয়ে সংসারও পেতেছিল। এসআইআর চালু হতেই ফের বাংলাদেশে পালানোর তোড়জোড় শুরু করে। সেই মতো ভারতীয় দুই দালাল সাবির দফাদার এবং সাইফুল দফাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তারাই পারভিনদের ওপারে পাঠিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নেয় টাকার বিনিময়ে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে হাঁসখালি থানার পুলিশ অভিযান চালায়। তাতেই ধরা পড়ে যায় ১০ জন। জালে ওঠে দুই দালালও। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা জিজ্ঞাসাবাদের সময় বৈধ কোনও কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।
পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সাদ্দিক, সাহিনরা বেশ কয়েক বছর ধরে সীমান্ত লাগোয়া বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করে বসবাস করছিল। এবং সম্প্রতি পরিস্থিতি অনুকূল না থাকায় গোপনে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। শুধু উমরপুর এলাকাতেই নয়। সাদ্দিকদের মতো বহু অনুপ্রবেশকারী নানা স্থানে বসবাস করে রয়েছে। তারাও এখন বেশ চাপে। বাংলাদেশে পালানোর পথ খুঁজছে। দালালদের শরণাপন্ন হচ্ছে। পুলিশের দাবি, ধৃত ওই দুই দালালও বাংলাদেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। ধৃতদের রবিবার রানাঘাট আদালতে পেশ করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে এবং তাদের ভারতের অভ্যন্তরে বসবাস, যোগাযোগের সূত্র ও দালাল চক্রের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।