নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: নতুন প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস কমছে। বদলে মোবাইলে আসক্তি বাড়ছে। সে দিকে তাকিয়ে স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে বইয়ের প্রতি আগ্ৰহ বাড়াতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে শিক্ষাদপ্তর। ঝাড়গ্রাম জেলার ৫৮টি উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলে বই কেনার জন্য ১ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছে।
জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) শক্তিভূষণ গঙ্গোপাধ্যায় বলছেন, স্কুল কর্তৃপক্ষকে বরাদ্দ অর্থে পড়ুয়াদের উপযোগী জীবনী, জ্ঞান-বিজ্ঞানের বই, কল্পবিজ্ঞান, ক্লাসিক সাহিত্য ও মেধা অন্বেষণের বই কিনতে বলা হয়েছে। বরাদ্দের পুরো অর্থে বই কেনা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। গত বছর বই কেনার জন্য ঝাড়গ্ৰামে স্কুল পিছু ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। এই বছর তা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হল। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের (মাধ্যমিক) দপ্তর বই কেনার বিষয়টি নিয়ে নজরদারি চালাবে। পড়ুয়াদের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ যাতে বাড়ে তারজন্য ‘উজ্জীবন’-এর মতো কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। গ্ৰীষ্মকালীন ছুটিতে পড়ুয়াদের বই পড়ার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বেলপাহাড়ী এসসি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সোমনাদ দ্বিবেদী বলেন, গত বছর বই কেনার জন্য ৫০ হাজার ও আসবাব কিনতে ২৫ হাজার টাকা পেয়েছিলাম। ছাত্রছাত্রীদের আকর্ষণ করবে এমন বইপত্র কেনা হয়েছিল। শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের তরফে পাঠ্যবইয়ের বাইরের বই পড়ার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। গল্পের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলে। ভাষার উপর দখল বাড়ায়। কল্পনা শক্তিকে বাড়ায়। বিনপুরের হাড়দা রামকৃষ্ণ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সুদীপ্তকুমার গিরি বলেন, প্রত্যন্ত গ্ৰামীণ এলাকার পড়ুয়ারা এই স্কুলে পড়ে। পাঁচ বছর আগে স্কুলের পাঠাগারের জন্য গ্ৰান্ট পেয়েছিলাম। তারপর থেকে নতুন করে বই কেনা সম্ভব হয়নি। গ্ৰীষ্মকালীন ছুটিতে পড়ুয়াদের নানা কার্যক্রম দেওয়া হয়েছে। সেখানে পাঠ্যবইয়ের বাইরে জ্ঞান বিজ্ঞানের বই পড়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ঝাড়গ্রাম কুমদকুমার ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ সেনগুপ্ত বলেন, রোটেশন পদ্ধতিতে অর্থ বরাদ্দ হচ্ছে। বিভিন্ন স্কুলের গ্ৰান্ট পেতে কয়েক বছর লেগে যাচ্ছে। পড়ুয়াদের বই পড়ার উৎসাহ বাড়াতে যে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে তা ব্যাহত হচ্ছে। জেলার মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির এক সদস্য বলেন, সরকার পড়ুয়াদের বই পড়ার আগ্ৰহ বাড়াতে অর্থ বরাদ্দ করছে। সেখানে বেশ কিছু স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বই কেনার জন্য বরাদ্দের পুরো টাকা ব্যয় না করার মৌখিক অভিযোগ উঠেছে। জেলার স্কুল শিক্ষাদপ্তরের (মাধ্যমিক) তরফে অবশ্য এবার বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।