নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: মুদির দোকানের গোডাউনের ভিতরে একপাশে রাখা ছিল আতশবাজি ভর্তি বস্তা। সেখানেই চলছিল আলমারি ঝালাইয়ের কাজ। আচমকা আগুনের ফুলকি ছিটকে বাজির বস্তায় পড়তেই ঘটে গেল অগ্নিকাণ্ড। ঝলসে জখম হলেন এক শ্রমিক। তাঁকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার দুপুর তিনটে নাগাদ ঘটনাটি ঘটে বাঁকড়ার দোতলা মোড় এলাকার একটি দোকানে। জখম শ্রমিকের নাম মহম্মদ সমীর। বয়স ৩০। ঘটনায় গোডাউনের ভিতরে আগুন লেগে যায়। যদিও দমকল এসে পৌঁছনোর আগেই স্থানীয় বাসিন্দরাই আগুন নিভিয়ে ফেলেছিলেন বলে দাবি।
বাঁকড়া ১ পঞ্চায়েতের দোতলা মোড়ে রয়েছে মুদির দোকানটি। পাশেই দোকানের গোডাউন। গত বছর কালীপুজোর পর দোকানে বেঁচে যাওয়া আতশবাজির কিছুটা অংশ বস্তায় ভরে গোডাউনের ভিতরে রাখা ছিল। এদিন দুপুরে গোডাউনে আলমারি ঝালাইয়ের কাজে চলছিল। মহম্মদ সমীর সহ কয়েকজন কাজ করছিলেন ভিতরে। লোহা ঝালাইয়ের সময় আচমকা সেখান থেকে ফুলকি ছিটে বাজির বস্তায় গিয়ে পড়ে। বস্তায় আগুন ধরতেই এলোপাথাড়ি ফাটতে শুরু করে বাজিগুলি। বাজির বস্তার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন সমীর। মুহূর্তে তাঁর হাত-পা ও পিঠের বেশ কিছু অংশ পুড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে বের করে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে বাঁকড়া ফাঁড়ির পুলিশ ও দমকলের একটি ইঞ্জিন। তবে দমকল পৌঁছনোর আগেই গোডাউনের আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়।
খুরশিদ জামাল নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, গোডাউনের পাশ দিয়েই আমি যাচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখলাম ভিতরে বাজি ফাটার শব্দ হচ্ছে। গলগল করে ধোঁয়া বেরচ্ছে ভিতর থেকে। ওখানেই আলমারি ওয়েল্ডিংয়ের কাজ চলছিল। প্রাথমিক তদন্তে দমকল জানিয়েছে, মজুত করে রাখা আতশবাজিতে বিস্ফোরণের কারণেই আগুন লাগে। তবে আতশবাজির পরিমাণ খুব বেশি ছিল না। হাওড়া সিটি পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আতশবাজির পাশাপাশি নিষিদ্ধ শব্দবাজি ছিল কি না, সেটাও দেখা হচ্ছে। মুদির দোকানের মালিককেও জিজ্ঞাসাবাদ করা
হচ্ছে। নিজস্ব চিত্র