নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: রবিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ চণ্ডীপুর থানার বৃন্দাবনপুরে দীঘাগামী ১১৬বি জাতীয় সড়কে পথ দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। আরও ১৮জন জখম হয়েছেন। এদিন বেলঘরিয়া ডিপো থেকে এসবিএসটিসির একটি বাস যাত্রী নিয়ে দীঘা যাচ্ছিল। মগরাজপুর রেলওয়ে ওভারব্রিজ পেরিয়ে চণ্ডীপুর বাসস্টপে পৌঁছনোর আগে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি লরির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। বেপরোয়া গতিতে থাকা বাসটি ছিটকে জাতীয় সড়কের পাশে নয়ানজুলিতে গিয়ে পড়ে। চণ্ডীপুর থানা থেকে মাত্র ২০০মিটার দূরে ওই ঘটনার পর দ্রুত পুলিস ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। বাসে আটকে থাকা যাত্রীদের বের করা হয়। তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে লরিচালক অজয় মাহাতর(৪০) মৃত্যু হয়। বাড়ি বিহারে। সরকারি বাসে থাকা ১৮জন যাত্রী জখম হয়েছেন।
দুর্ঘটনার সময় বিকট আওয়াজ হয়। বেপরোয়া গতিতে থাকা বাসটি জাতীয় সড়ক থেকে ডানদিকে নয়ানজুলিতে নেমে যেতে দেখেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। লরিটি জাতীয় সড়কে ভাঙাচোরা অবস্থায় দাঁড়িয়েছিল। বাসের ভিতর থেকে যাত্রীরা বাঁচার জন্য আর্তনাদ করতে থাকেন। দু’টি গাড়ির সামনের অংশ ভেঙে কঙ্কাল বেরিয়ে পড়েছে। দ্রুত স্থানীয় বাসিন্দা ও চণ্ডীপুর থানার পুলিস পৌঁছে যায়। বাসে আটকে পড়া যাত্রীদের বের করে প্রথমে তাঁদের স্থানীয় এড়াশাল গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। লরিচালক অজয় মাহাতকেও সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়। এড়াশাল থেকে তমলুক আনার পথে ওই চালকের মৃত্যু হয়। বাসযাত্রীদের মধ্যে কয়েকজনকে তমলুকে রেফার করা হয়। জখম কয়েকজন নিজেদের উদ্যোগে চণ্ডীপুর থেকেই এসএসকেএম এবং সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন।
দীঘায় উদ্বোধন হওয়া জগন্নাথ মন্দির দেখতে অভিশপ্ত সরকারি বাসে রওনা দিয়েছিলেন নিমতার বাসিন্দা মলয় পাল, তাঁর স্ত্রী বীণা পাল সহ গোটা পরিবার। বাসের অধিকাংশ যাত্রীই দীঘা যাচ্ছিলেন। কিন্তু, দুর্ঘটনায় কারও পা কারও হাত ভেঙেছে। এদিন তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মলয়বাবু বলেন, আমি চালকের পিছনের সিটে বসেছিলাম। চালক বেশ জোরে বাস চালাচ্ছিলেন। মগরাজপুর রেলওয়ে ওভারব্রিজ পেরনোর পর বাসটি একটি গাড়িকে ওভারটেক করে এগনোর সময়ই বিপরীত দিক থেকে আসা লরির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। বিকট আওয়াজে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস রাস্তা থেকে নেমে যায়। যাত্রীদের মধ্যে তখন প্রবল চিৎকার, বাঁচার জন্য সকলে আর্তনাদ করছেন। অনেকের শরীর থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছিল। বাসের মধ্যে চালক আটকে পড়েছিলেন। আমরাই তাঁকে টেনে কোনওরকমে বের করি। বাসের চালকের ভুলেই এই দুর্ঘটনা বলে পুলিসের বক্তব্য। এদিন দুর্ঘটনার পর বেশ কিছুক্ষণ চণ্ডীপুরের কাছে জাতীয় সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। ক্রেন দিয়ে বাস ও লরি টেনে সরানোর সময় দফায় দফায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। চণ্ডীপুর থানার ওসি দীপককুমার অধিকারী বলেন, সরকারি বাস ও লরির সঙ্গে সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তি দুর্ঘটনাগ্রস্ত লরির চালক। ১৮জন বাসযাত্রী জখম হয়েছেন। বাসের চালকও গুরুতর জখম হয়েছেন।



